গার্মেন্টস ব্যবসা বাংলাদেশে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি ব্যবসা। সঠিক পরিকল্পনা, বাজার জ্ঞান ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই ব্যবসা থেকে দীর্ঘমেয়াদে ভালো লাভ করা সম্ভব।
গার্মেন্টস ব্যবসা বলতে মূলত পোশাক উৎপাদন, সাব-কন্ট্রাক্টিং, রপ্তানি অথবা দেশীয় বাজারে পোশাক সরবরাহ সম্পর্কিত কার্যক্রম বোঝায়।
বাংলাদেশে কেন গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করবেন?
বাংলাদেশ বিশ্বের ২য় বৃহত্তম গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক দেশ। ইউএসএ, ইউরোপ, কানাডা, জাপানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রেডিম্যাড গার্মেন্টস এর খুব ভাল সুনাম রয়েছে। এই সুনামের জন্য বিদেশি বায়াররা বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত পণ্য ক্রয় করে থাকে।
দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪%+ আসে গার্মেন্টস থেকে। সস্তা শ্রম, ব্যাংক ঋণের সহজলভ্যতা, সরকারি ক্যাশ প্রণোদনা, রপ্তানিকে শুল্ক ছাড়, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা ইত্যাদি বিষয়াদি বাংলাদেশে গার্মেন্টস খাত প্রসারে অনেক ভূমিকা রাখছে।
এদেশে সস্তা শ্রমের পাশাপাশি গার্মেন্টস সেক্টরে কাজ করা দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলও সহজে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে রয়েছে বিশাল এক জনগোষ্ঠী। তাই এই দেশের অভ্যন্তরীণ মার্কেটেও গার্মেন্টস পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে।
বিদেশে বাংলাদেশি গার্মেন্টস পণ্যের বিপুল চাহিদা, স্থানীয় বিশাল বাজার ও গার্মেন্টস সেক্টরে সরকারের প্রণোদনা বিবেচনা করে আপনি বাংলাদেশে একটি গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
আরও পড়ুন: সি এন্ড এফ ব্যবসা কি? কিভাবে এই ব্যবসা শুরু করবেন?
গার্মেন্টস ব্যবসার মডেল
গার্মেন্টস ব্যবসায় বিভিন্ন ধরণের মডেল আছে। আপনি চাইলে যেকোনো একটি মডেল নিয়ে কাজ করতে পারেন আবার চাইলে সবগুলো মডেলও ব্যবহার করতে পারেন। তবে প্রথমদিকে একটি বা দুটি মডেলে ব্যবসা করাই ভাল।
ক) ম্যানুফ্যাকচারিং গার্মেন্টস
নিজস্ব কারখানায় কাপড় কেটে, সেলাই করে রেডি মেড গার্মেন্টস পণ্য উৎপাদন করা। কারখানা স্থাপন, মেশিন সেটআপ ও জনবল নিয়োগ দেওয়ার পরই আপনি উৎপাদন শুরু করতে পারেন।
খ) সাব-কন্ট্রাক্ট গার্মেন্টস
সাব-কন্ট্রাক্ট গার্মেন্টস এর কাজ হচ্ছে বড় গার্মেন্টস বা বায়ারের কাজ চুক্তিভিত্তিক করা (CMT – Cut, Make & Trim)। নিয়মিত কাজ পাওয়ার জন্য বড় বড় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও বায়িং হাউজের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে৷
গ) বায়িং হাউস / মার্চেন্ডাইজিং
বায়িং হাউজ / মার্চেন্ডাইজিং হচ্ছে বিদেশি ক্রেতা ও দেশীয় গার্মেন্টস কারখানা মালিকদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে।
ঘ) দেশীয় বাজারভিত্তিক গার্মেন্টস
সাধারণত মিনি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো দেশীয় বাজারের উপর ফোকাস করে ব্যবসা করে থাকে। তারা লোকাল ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত। এসব গার্মেন্টস পাইকারি বাজার, শোরুম বা অনলাইন সরাসরি বিক্রি করে থাকে।
কিভাবে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করবেন?
ছোট গার্মেন্টস বা বড় আকারের গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে কিছু প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হবে। ধাপগুলো নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।
১. বাজার গবেষণা
এই ধরণের ব্যবসায় নামার আগে আপনাকে বাজার নিয়ে ভাল করে গবেষণা করে নামতে হবে।
আপনি যদি ১০০% এক্সপোর্ট গার্মেন্টস দিতে চান তাহলে আপনাকে দেখতে হবে আপনার প্রতিযোগি কারা, তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করে আপনি কিভাবে বায়ার হান্টিং করবেন তার জন্য পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
বিদেশি বায়াররা কোন ধরণের গার্মেন্টস পণ্য বেশি পছন্দ করে সেগুলো ভাল করে জেনে নিন। বর্তমান বাজারের ট্রেন্ড সম্পর্কেও জেনে নিন।
স্থানীয় বাজারে ফোকাস থাকলেও একই ধরণের রিসার্চ আপনাকে করে তারপর ব্যবসা শুরু করতে হবে।
২. বাজেট পরিকল্পনা
সঠিক বাজেট পরিকল্পনা একটি ব্যবসায় সফলতার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে।
এই ধরণের ব্যবসা শুরুর পূর্বে বাজেট পরিকল্পনা থাকবে যায়গা কেনা বা ভাড়ার খরচ, মেশিন কেনা, কাঁচামাল কেনা, জনবল নিয়োগ ও পরিচালনা খরচ ইত্যাদি।
একটি গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে? এই প্রশ্নটা অনেকের মনেই থাকে। আসলে একটি গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগবে তা নির্ভর করবে আপনার ব্যবসার পরিধির উপর।
ছোট গার্মেন্টস শুরু করতে আপনার আনুমানিক ১০-১৫ লাখ টাকা লাগতে পারে। নিচে একটি আনুমানিক হিসাব দিলাম:
মেশিন: ৫–৮ লাখ টাকা
ভাড়া/শেড: ১–২ লাখ
কাঁচামাল: ৩–৫ লাখ
কর্মী ও পরিচালনা খরচ: ১–২ লাখ
মোট: প্রায় ১০–১৫ লাখ টাকা
তবে বড় ফ্যাক্টরিতে বাজেট ৫০ লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
৩. গার্মেন্টস ব্যবসার জন্য জায়গা নির্বাচন ও ভবন তৈরি/ ভাড়া
গার্মেন্টস স্থাপন করার জন্য আপনার একটি যায়গা লাগবে ও কারখানা ভবন লাগবে৷
আপনার প্রাথমিক বিনিয়োগ কম হলে ভাড়া নিতে পারেন আর বড় বিনিয়োগ হলে নিজস্ব যায়গায় কারখানা ভবন তৈরি করে শুরু করতে পারেন।
স্থান নির্ধারণে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া নির্বাচন করুন ও ভবনে ফায়ার সেফটিসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা রাখুন।
একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আপনি যদি ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান তাহলে নিজস্ব ভবন না থাকলে বেশিরভাগ ব্যাংক লোন দিতে চাইবে না।
৪. মেশিনারিজ সংগ্রহ করা
গার্মেন্টস পণ্য উৎপাদন শুরু করার জন্য মেশিন ক্রয় করতে হবে। পোশাক অনুযায়ী (যেমন Knit / Woven) মেশিন কিছুটা ভিন্ন হয় আবার কিছু মেশিন সব যায়গায় লাগে।
নিচে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করতে যেসব মেশিনারিজ লাগবে তার একটা লিস্ট দিলাম:
কাটিং সেকশন (Cutting Section)
- Fabric Spreading Machine
- Straight Knife Cutting Machine
- Band Knife Cutting Machine (যদি দরকার হয়)
- Cutting Table
- Marker Making Table
- Fabric Inspection Machine (ঐচ্ছিক)
সেলাই সেকশন (Sewing Section)
এই সেকশনের নাম দেখেই বুঝতে পারছেন এই সেকশনে সব সেলাই মেশিন থাকবে। যেমন:
- Single Needle Lockstitch Machine
- Overlock / Serger Machine
- Flat Lock Machine
- Coverstitch Machine (Knit র জন্য)
সহায়ক সেলাই মেশিন
- Button Hole Machine
- Button Attaching Machine
- Bar Tack Machine
- Elastic Attaching Machine
- Pocket Attaching Machine
ফিনিশিং (Finishing)
- Steam Iron & Ironing Board
- Vacuum Ironing Table
- Steam Generator / Boiler
- Pressing Machines (যেমন: Collar/ Cuff Press)
- Inspection Table
- Packing Table
প্যাকিং & লজিস্টিক
- Packing Table
- Weighing Scale
- Barcode / Label Printer
- Polybag / Packaging Materials
- Carton Box & Strapping Machine
কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্র
- Generator / Inverter (বিদ্যুৎ ব্যাকআপের জন্য)
- Air Compressor (যদি pneumatic parts থাকে)
- Cutting Tools (Scissors, Perforators, Markers)
- Measuring Tape, Chalk, Markers, Rulers
অফিস ও ব্যবস্থাপনা
- Computer + Printer
- ERP / Production Tracking Software
- CCTV / Security
মেশিনের প্রকারভেদ (Knit vs Woven)
Knit Garments
- Single Needle
- Overlock
- Coverstitch
- Flatlock
Woven Garments
- Single Needle
- Button Hole
- Button Attaching
- Bar Tack
আরও পড়ুন: এলসি কি? এলসি খোলার নিয়ম ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট
৫. কাঁচামাল ক্রয়
উৎপাদন শুরু করার জন্য মেশিন ক্রয় করার পর আপনাকে কাঁচামাল ক্রয় করতে হবে। পণ্যভেদে কাঁচামাল ভিন্ন হয়।
নিট গার্মেন্টস পণ্য যেমন টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ল্যাগিংস, আন্ডারওয়্যার, হুডি ইত্যাদির জন্য মূল কাঁচামাল হচ্ছে:
- Cotton Knit Fabric (Single Jersey, Rib, Interlock)
- Polyester Knit Fabric
- CVC / TC Fabric
- Spandex / Lycra Fabric
ট্রিমস ও এক্সেসরিজ কাঁচামাল হচ্ছে:
- Sewing Thread (Poly / Cotton)
- Rib (Neck, Sleeve)
- Elastic
- Button (Polo)
- Zipper (Hoodie)
- Neck Tape
- Label (Main, Size, Care)
- Polybag
- Carton
ওভেন গার্মেন্টস পণ্য যেমন শার্ট, প্যান্ট, ডেনিম জিনস, জ্যাকেট এর মূল কাঁচামাল হচ্ছে:
- Cotton Woven Fabric
- Denim Fabric
- Twill Fabric
- Poplin / Oxford
- Polyester Woven Fabric
ট্রিমস ও এক্সেসরিজ কাঁচামাল হচ্ছে:
- Sewing Thread (Poly)
- Button (Plastic/Metal)
- Zipper (Nylon/Metal)
- Interlining / Fusing
- Pocketing Fabric
- Rivet (Jeans)
- Label, Tag
- Hanger
- Polybag, Carton
সোয়েটার/ নিটওয়্যার পণ্য যেমন সোয়েটার, কারডিগান, পুলওভার ইত্যাদির মূল কাঁচামাল হচ্ছে:
- Acrylic Yarn
- Cotton Yarn
- Wool Yarn
- Blended Yarn
এক্সেসরিজ কাঁচামাল হচ্ছে:
- Button
- Zipper
- Label
- Polybag
ডেনিম পণ্য ডেনিম জিনস, ডেনিম জ্যাকেট ইত্যাদির মূল কাঁচামাল হচ্ছে:
- Denim Fabric
- Pocket Fabric
- Interlining
ট্রিমস এর জন্য কাঁচামাল হচ্ছে:
- Metal Button
- Metal Zipper
- Rivet
- Leather Patch
- Sewing Thread (Core Spun)
- Wash Chemical (Enzyme, Stone)
Lingerie / Undergarments পণ্য যেমন ব্রা প্যান্টি, আন্ডারওয়্যার ইত্যাদির মূল কাঁচামাল হচ্ছে:
- Cotton / Spandex Fabric
- Mesh Fabric
- Lace
- Foam
এক্সেসরিজ এর কাঁচামাল হচ্ছে:
- Elastic
- Hook & Eye
- Ring & Slider
- Label
Common Accessories (সব গার্মেন্টসেই লাগে)
- Sewing Thread
- Labels (Main, Size, Care)
- Hang Tag
- Polybag
- Carton Box
৫. শ্রমিক ও স্টাফ নিয়োগ
গার্মেন্টসের উৎপাদন ও পরিচালনা কার্যক্রম চালানোর জন্য বিভিন্ন ধরণের পদে লোকবল নিয়োগ দিতে হবে। এসব পদের মধ্যে রয়েছে:
- সুপারভাইজার
- অপারেটর
- হেলপার
- কোয়ালিটি কন্ট্রোল (QC)
- কাটিং মাস্টার
- মার্কেটিং ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার
- একাউন্ট্যান্ট
যেহেতু বাংলাদেশে প্রচুর গার্মেন্টস আছে তাই খাতে দক্ষ লোকের অভাব নেই। তাই আপনি সহজেই দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকবল পেয়ে যাবেন।
গুরুত্বপূর্ণ পজিশনগুলোতে বেশি বেতন দিয়ে হলেও এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড ভাল এমন দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ দিন।
৬. লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন
একটি গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এটাকে ডকুমেন্টেশান বলা হয়। এই ডকুমেন্টেশান এর মধ্যে রয়েছে:
- ট্রেড লাইসেন্স,
- TIN সার্টিফিকেট,
- VAT রেজিস্ট্রেশন,
- ফায়ার লাইসেন্স (Fire Service),
- পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র,
- কোম্পানি হলে RJSC রেজিস্ট্রেশন,
- রপ্তানি করলে: Export Registration Certificate (ERC)
- BGMEA / BKMEA মেম্বারশিপ (রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ)।
৭. গার্মেন্টস বায়ার খোঁজা
গার্মেন্টস ব্যবসায় সফল হতে হলে আপনাকে নিয়মিত ক্রেতার কাছ থেকে অর্ডার পেতে হবে। নিয়মিত অর্ডার না থাকলে আপনার পরিচালনা ব্যয় বেড়ে যাবে।
বায়ার খোঁজার বিভিন্ন টেকনিক আছে, নিচে এসব টেকনিক নিয়ে আলোচনা করা হলো:
ক) ব্র্যান্ডিং ইমেজ তৈরি
ক্রেতাদের আস্থা তৈরি করার জন্য আপনাকে ব্র্যান্ডিং ইমেজ তৈরি করাতে হবে। ব্র্যান্ডিং ইমেজ তৈরি করার জন্য কোম্পানির নাম, লোগো, ওয়েবসাইট সব যায়গায় প্রফেশনাল হতে হবে।
নিজেদের ব্র্যান্ডিং ইমেজ প্রদর্শনের একটা বড় যায়গা হচ্ছে ওয়েবসাইট।
ক্রেতারা অর্ডার করার আগে প্রথমেই সাপ্লায়ারের ওয়েবসাইট চেক করে দেখে। তাই ওয়েবসাইট তৈরি করার সময় বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় রাখুন। যেসব বিষয় ওয়েবসাইটে থাকবে:
- কোম্পানি প্রোফাইল,
- যেসব আইটেম উৎপাদন করেন তার ছবি ও বর্ণনা,
- মাসিক প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি,
- কোয়ালিটি কন্ট্রোল সিস্টেম,
- দামের রেঞ্জ (FOB / CMT),
- কাস্টমার রিভিউ,
- সনদ, মেম্বারশিপ এর ফটো ইত্যাদি।
আরও পড়ুন: কিভাবে একটি নতুন কোম্পানি খুলবেন? স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন।
খ) বায়িং হাউজের মাধ্যমে ক্রেতা সংগ্রহ
বায়িং হাউজের মাধ্যমে আপনি ক্রেতা খুঁজে পাবেন। নতুনরা সাধারণত এদের মাধ্যমে ক্রেতা খুঁজে থাকে।
গাজীপুর, উত্তরা, বনানী, মহাখালী, ইসমাইলিংক রোড, তেজগাঁও ইত্যাদি স্থানে আপনি অনেক বায়িং হাউজ পাবেন।
গ) সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কাজ পাওয়া
নতুনদের জন্য এটা বেস্ট স্ট্র্যাটেজি। আপনি যদি চাহিদা অনুযায়ী গার্মেন্টস পণ্য উৎপাদন করতে পারেন এবং সঠিক সময়ে ডেলিভারি দিতে পারেন তাহলে নিয়মিত কাজ পাবেন।
সাব-কন্ট্রাক্ট এ কাজ পাওয়ার জন্য বড় গার্মেন্টস এর সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে৷ তাদেরকে আপনার ক্যাপাসিটি ও পণ্যের কোয়ালিটি সম্পর্কে ভালভাবে বুঝাতে হবে।
ঘ) B2B অনলাইন প্ল্যাটফর্ম
বিদেশি বায়ার পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম আছে। যেমন Alibaba, GlobalSources, TradeKey, Fibre2Fashion ইত্যাদি।
এসব প্লাটফর্ম থেকে বায়ার পাওয়ার জন্য এসব প্লাটফর্মে একাউন্ট খুলতে হবে। প্রফেশনাল প্রোফাইল, ফ্যাক্টরির আসল ছবি, পণ্যের ক্যাটালগ আপলোড, বায়ারদের প্রশ্নের দ্রুত রিপ্লাই বায়ার পেতে সাহায্য করে।
ঙ) লিংকড-ইন থেকে বায়ার খোঁজা
লিংকড-ইন হচ্ছে প্রফেশনালদের জন্য বড় একটা প্লাটফর্ম। বিদেশি বায়ার খোঁজার জন্য লিংকড-ইন হতে পারে বড় একটা মাধ্যম।
এজন্য আপনাকে এপারেল ম্যানেজার, সোর্সিং ম্যানেজার, মার্চেন্ডাইজার, বায়িং হাউজের মালিকদের সাথে কানেক্ট করতে হবে। তাদেরকে এভাবে মেসেজ করতে পারেন:
Hello Sir,
We are a garment manufacturer from Bangladesh producing Knit items.
Monthly capacity: 50,000 pcs.
We are looking for sub-contract or trial orders.
May I send our company profile?
প্রতিদিন ১০–১৫ জনকে কানেক্ট করুন।
চ) গার্মেন্টস ট্রেড ফেয়ার ও এক্সপো
গার্মেন্টস ট্রেড ফেয়ার ও এক্সপো গার্মেন্টস বায়ার পাওয়ার অন্যতম ক্ষেত্র। এরকম কিছু ট্রেড ফেয়ার ও এক্সপো হচ্ছে বিজিএমইএ এপারেল এক্সপো, বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো, টেক্সটেক ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস মেশিনারি এক্সহিবিশন (DTG)।
ছ) রেফারেন্স ও নেটওয়ার্কিং
ক্রেতা খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে রেফারেন্স ও নেটওয়ার্কিং খুব কাজে লাগে। এজন্য মার্চেন্ডাইজার বন্ধু, ট্রিমস সাপ্লায়ার, ফেব্রিক মিল, ব্যাংকারদের সাথে নেটওয়ার্কিং করতে হবে। তাদের রেফারেন্স ক্লায়েন্ট খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
জ) ডিজিটাল মার্কেটিং
ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই কম খরচে টার্গেট কাস্টমারের কাছে পৌঁছাতে পারবেন।
গার্মেন্টস ব্যবসায় কেমন লাভ হয়?
গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে লাভ নির্ধারণের ৫টি ফ্যাক্টর কাজ করে।
১. ব্যবসার মডেল
২. পণ্যের বৈচিত্র্যতা
৩. অর্ডারের পরিমাণ
৪. কাচামালের উৎস ও মান
৫. কমপ্লায়েন্স ও দক্ষতা
গার্মেন্টস সেক্টরে পণ্যভেদে ৮% থেকে ৩০% পর্যন্ত লাভ হয়ে থাকে৷ CMT (Cut, Make & Trims) পদ্ধতিতে লাভের পরিমাণ কম কারণ এক্ষেত্রে ক্রেতা সকল কাচামাল সাপ্লাই করে।
FOB (Free On Board) পদ্ধতিতে লাভের পরিমাণ বেশি কারণ এক্ষেত্রে উৎপাদক সবকিছুর ব্যবস্থা করে।
লাভ কমে যাওয়ার কিছু কারণের মধ্যে রয়েছে:
- ভুল খরচের হিসাব,
- ফেব্রিক নষ্ট হওয়া,
- দেরিতে সাপ্লাইয়ের কারণে জরিমানা,
- বৈদেশিক মুদ্রার উত্থান পতন,
- অর্ডার বাতিল
গার্মেন্টস ব্যবসায় কেন পতন হয়?
বাংলাদেশ কয়েক হাজার গার্মেন্টস আছে। প্রতিবছর যেমন নতুন নতুন গার্মেন্টস হচ্ছে ঠিক তেমনি বিভিন্ন কারণে অনেক গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
কেন বন্ধ হচ্ছে বা পতন ঘটছে সে সম্পর্কে আপনার জানা উচিত। তাহলে ভবিষ্যতে আপনি সতর্ক থাকতে পারবেন। নিচে কতগুলো কারণ নিয়ে আলোচনা করা হলো:
১. ভুল বিজনেস প্ল্যান ও অর্ডার ছাড়া বিনিয়োগ গার্মেন্টস ব্যবসায় পতনের জন্য দায়ী।
যেমন: অর্ডার নিশ্চিত না করেই ফ্যাক্টরি সেটআপ দেওয়া, বাস্তব ক্যাপাসিটির বাইরে গিয়ে ঋণ করে বড় ইনভেস্ট এবং CMT/FOB মডেল না বুঝে শুরু করা। এসবের ফলে ফিক্সড খরচ বাড়বে এবং অর্ডার না পেলে অনেক ক্ষতি হয়।
২. ফেব্রিক ওয়েস্টেজ হিসাব না করে, ফ্যাক্টরি ওভারহেড খরচ বাদ দিয়ে FOB কোটেশন দেওয়া এবং বায়ার ধরে রাখার জন্য ব্র্যাক-ইভেন এর নিচে দাম নির্ধারণ গার্মেন্টস ব্যবসাকে ধীরে ধীরে পতনের দিকে নিয়ে যায়।
৩. ক্যাশ ফ্লো ম্যানেজমেন্ট ব্যর্থতা গার্মেন্টস পতনে অন্যতম ফ্যাক্টর।
এলসি ম্যাচুরিটি গ্যাপ, কাচামাল ক্রয়ের জন্য অর্থের সংস্থান, কর্মীদের বেতন, ব্যাংকের কিস্তির চাপ সঠিকভাবে সামলাতে না পারলে ক্যাশ ফ্লো ম্যানেজমেন্টে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এর কারণে লাভজনক ব্যবসারও পতন ঘটে।
৪. কোয়ালিটি কন্ট্রোলে শিথিলতা অর্ডার ক্যানসেলের পরিমাণ বাড়ায় যার ফলে কারখানাগুলো বড় ক্ষতির মুখে পড়ে একসময় বন্ধ হয়ে যায়। অর্ডার ক্যানসেলের আরেকটা কারণ হচ্ছে সঠিক সময়ে পণ্য ডেলিভারি দিতে না পারা।
৫. এক বা দুটো বায়ারের উপর অতি নির্ভরশীলতা ব্যবসার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷
অনেক সময় দেখা ক্রেতা অন্য যায়গায় ভাল অফার ও সার্ভিস পেলে চলে যায়। তাই একজন বা দুজন বায়ারের উপর বেশি নির্ভর করবেন না।
৬. গার্মেন্টস ব্যবসার পতনের আরও কিছু কারণ হচ্ছে দক্ষ জনবলের অভাব, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা, মালিকের অদূরদর্শীতা ও উত্তরাধিকারদের ব্যবসায় যুক্ত না করা।
উপসংহার
গার্মেন্টস ব্যবসা বাংলাদেশে একটি পরীক্ষিত ও লাভজনক খাত। সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ লোকবল এবং ধৈর্যের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে আপনি এই ব্যবসায় সফল হতে পারেন।
প্রথমদিকে ছোট গার্মেন্টস দিয়ে শুরু করতে পারেন পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় করতে পারেন। এই ব্যবসার পতনের কারণগুলো ভালভাবে মনে রাখুন যাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা যায়।