জিম সেন্টার ব্যবসা বাংলাদেশে প্রসারের একটা বড় কারণ হচ্ছে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি। এই সচেতনতা তরুণ থেকে বৃদ্ধ সবার মধ্যেই বাড়ছে।
তরুণ থেকে বৃদ্ধ সবাই এখন স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য জিম সেন্টারে যাচ্ছে। যার কারণে বাংলাদেশে জিম সেন্টারের চাহিদা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
মানুষের এই বিপুল চাহিদা মেটাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তারা জিম সেন্টার ব্যবসা শুরু করছেন। আবার অনেকেই এই ব্যবসা শুরু করবেন বলে মনস্থির করেছেন তাদের উদ্দেশ্যেই আজকের এই লেখা।
জিম সেন্টার ব্যবসা শুরু করার আগে যেসব প্রস্তুতি আপনার প্রয়োজন হবে
যে কেউ চাইলে জিম সেন্টার ব্যবসা খুলতে পারবেন। এজন্য কোন বাধাধরা নিয়ম নেই। কিন্তু জিম খুলার আগে আপনার কিছু বিষয়ে অভিজ্ঞতা/জ্ঞান থাকা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে:
বেসিক জিম ও ফিটনেস জ্ঞান
এই ব্যবসা শুরু করার আগে বেসিক জিম ও ফিটনেস জ্ঞান আপনার থাকতে হবে। এসবের মধ্যে রয়েছে:
- কোন মেশিন কোন ধরণের ব্যায়ামের জন্য,
- ভুল এক্সারসাইজে ইনজুরি কীভাবে হয়,
- বেসিক ওয়ার্কআউট স্প্লিট,
- ওয়ার্ম-আপ ও কুলডাউন ইত্যাদি।
এসব বিষয় জানা না জানলে ট্রেইনার আপনাকে ভুল বুঝাতে পারে।
ট্রেইনার হায়ার ও ম্যানেজ করার দক্ষতা
অনেক জিম ফেইল করে এখানেই। একটি জিম সফলভাবে চালানোর জন্য দক্ষ ট্রেইনার লাগবে। ভাল ট্রেইনার কাকে বলে, তাদের দক্ষতা ও কাজের সীমা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হবে। তাদেরকে সুন্দরভাবে ম্যানেজ করার টেকনিক বুঝতে হবে।
কাস্টমার সার্ভিস ও কমিউনিকেশন
জিম হলো সার্ভিস বেসড বিজনেস। নতুন মেম্বার সংগ্রহ করা, তাদের যথাযথ বিভিন্ন সার্ভিস প্রদান করা, তাদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা, তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করা ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান রাখতে হবে।
সেফটি ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট
যারা জিম করতে আসবেন তাদের সেফটি নিশ্চিত করতে হবে। কারও ইনজুরি হলে করণীয় কি হবে, মেশিন সেফটি রুলস কি, সিসিটিভি ও সিকিউরিটি ইত্যাদি বিষয়ে জানাশোনা থাকতে হবে।
যারা নিয়মিত জিম সেন্টারে যায় তারা বিভিন্ন নিয়ম কানুন সেখানেই শেখার সুযোগ পায়। আপনি যদি জিম সেন্টার ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে জিমে যাওয়ার পর জিম পরিচালনার সাথে যুক্তদের কাছ বিভিন্ন বিষয় জানার চেষ্টা করুন।
আরও পড়ুন: কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করার স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন
জিম সেন্টার ব্যবসা শুরু করার গাইডলাইন
জিম সেন্টার ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে। ধাপগুলো হচ্ছেঃ
১. বাজার গবেষণা ও পরিকল্পনা করা
জিম সেন্টার ব্যবসা শুরু করার আগে প্রথম কাজ হলো আপনার এলাকার বাজার বুঝা।
যে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করবেন:
- আপনার এলাকায় কয়টি জিম আছে,
- তাদের মাসিক ফি কত,
- পুরুষ / মহিলা / ফ্যামিলি জিম আছে কি না,
- সকাল ও সন্ধ্যায় সদস্য সংখ্যা কেমন,
- মানুষ কতটা স্বাস্থ্য সচেতন,
এসব বিষয় সম্পর্কে ডেটা সংগ্রহ করুন। তারপর ভালভাবে বিশ্লেষণ করুন। যদি জিমের সংখ্যা বেশি হয় তাহলে আপনার এই ব্যবসায় নামা উচিৎ কিনা ভাল করে ভাবুন।
তারপরও শুরু করতে চাইলে আপনি কিভাবে তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করে নতুন গ্রাহক আকর্ষণ করবেন সে বিষয়ে পরিকল্পনা করুন।
আপনি চাইলে পুরুষ, মহিলা বা ফ্যামিলি জিমের মত বিশেষায়িত জিম সেন্টার দিতে পারেন। তাদেরকে টার্গেট করে আপনার পরিকল্পনা ঠিক করুন।
২. জিম সেন্টারের ধরন নির্বাচন করুন
বিভিন্ন ধরণের জিম আছে। আপনি কোন ধরণের জিম খুলবেন তা আগেই নির্ধারণ করা জরুরি। কারণ ধরণ অনুযায়ী আপনাকে যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।
জনপ্রিয় জিম এর ধরণগুলো হচ্ছে:
- সাধারণ জিম (Men Only)
- মহিলা জিম (Women Only)
- ফ্যামিলি জিম
- প্রিমিয়াম / ফিটনেস স্টুডিও
- ক্রসফিট / বডিবিল্ডিং জিম
৩. লোকেশন ও জায়গা নির্বাচন
একটি জিম সেন্টারের জন্য লোকেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনসমাগম আছে এমন যায়গায় জিমের জন্য ভাল। আবাসিক এলাকা, স্কুল/ কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকা, খেলার মাঠ আছে এমন স্থান জিম সেন্টারের জন্য আদর্শ লোকেশন।
জিম সেন্টার স্থাপনের জন্য আদর্শ জায়গা হচ্ছে ১,২০০ – ৩,০০০ স্কয়ার ফিট স্পেসসহ গ্রাউন্ড বা ১ম/২য় তলা। লিফট বা প্রশস্ত সিঁড়ি, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ও আলো থাকা উচিৎ।
৪. জিম সেন্টার লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন
জিম সেন্টার ব্যবসা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এর মধ্যে রয়েছে:
- ট্রেড লাইসেন্স,
- টিন সার্টিফিকেট,
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট,
- ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট,
- ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন (বড় জিম হলে),
- মিউজিক লাইসেন্স (গান বাজালে),
৫. জিমের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ
জিম ব্যবসার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হলো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করার খরচ। আপনার জিমে যত বেশি ব্যায়াম করার যন্ত্রপাতি থাকবে তত বেশি গ্রাহক আকর্ষণ করতে পারবেন। যন্ত্রপাতি কম থাকলে গ্রাহক ধরে রাখা কঠিন হবে৷
জিম সেন্টারে সাধারণভাবে যেসব প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির (Gym Equipment) লাগে তার একটা পূর্ণ তালিকা দেওয়া হলো:
কার্ডিও (Cardio) মেশিন
এই মেশিনগুলো মেটাবলিজম বাড়ায় ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। এসব মেশিনের মধ্যে রয়েছে:
- ট্রেডমিল (Treadmill)
- এক্সারসাইজ বাইক (Stationary Bike)
- এলিপটিক্যাল (Elliptical Trainer)
- রোয়িং মেশিন (Rowing Machine)
- স্টেপার / স্টেয়ারমিল
স্ট্রেংথ ট্রেনিং (Strength Training)
শক্তি ও মাসল গেইনের জন্য এসব মেশিন ব্যবহার করা হয়। এসব মেশিনের মধ্যে রয়েছে:
মাল্টি-ফাংশন জিম সিস্টেম
- মেশিন বেসড স্টেশন
- ল্যাট পুলডাউন
- চেস্ট প্রেস
- লেগ প্রেস
- রো মেশিন
- শোল্ডার প্রেস মেশিন
- কাবল ক্রসওভার
ফ্রি ওয়েটস
এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর মেশিন। এগুলো হচ্ছে:
- ডাম্বেল সেট (5 kg – 50 kg)
- বারবেল (Olympic Barbell)
- ওজন প্লেট (Weight Plates)
- বেঞ্চ-ফ্ল্যাট, ইনক্লাইন, ডিক্লাইন
- স্কোয়াট র্যাক / পাওয়ার র্যাক
- কেটেলবেল (Kettlebell)
- বার ক্লিপ/কোল্লার
বডিওয়েট / ফাংশনাল ট্রেনিং
- ব্যান্ড (Resistance Bands)
- মেডিসিন বল (Medicine Ball)
- বক্স / স্টেপ (Plyo Box)
- TRX সাসপেনশন ট্রেনার
- বড় বল (Swiss Ball / Stability Ball)
ব্যাঞ্চ ও সাপোর্ট
- অ্যাবডোমিনাল ব্যাঞ্চ
- লেগ কার্ল / এক্সটেনশন ব্যাঞ্চ
- হ্যামস্ট্রিং কার্ল
বেনিফিটাল ও সাপোর্টিং আইটেম
- ফোম রোলার (Foam Roller)
- ব্যালেন্স বোল
- স্কিপিং রোপ
- জাম্প রোপ
- কন ফ্যান
- স্পঞ্জ/টাওয়েল হুক
জিম ফ্যাসিলিটি
- আয়না
- মেট (Floor Mat)
- রাবার ফ্লোরিং / জিম টাইল
- লকার
- ওয়াটার কুলার / ডিসপেন্সার
- সেফটি স্টেশন (আগুন নিবন্ধন, ফায়ার এক্সস্টিংগুইশার)
- মিউজিক সাউন্ড সিস্টেম
ক্লিনিং ও স্যানিটেশন
- ক্লিনিং স্প্রে
- স্যানিটাইজার
- ডাস্টবিন
- ওয়াইপ টিস্যু
উপযোগিতা অনুযায়ী শ্রেণীবদ্ধ তালিকা
| বিভাগ | মূল যন্ত্রপাতি |
| কার্ডিও | ট্রেডমিল, বাইক, এলিপটিক্যাল |
| মাসল গেইন | মাল্টি-জিম, স্মিথ মেশিন |
| ফ্রি ওয়েট | ডাম্বেল, বারবেল, বেঞ্চ |
| ফাংশনাল | ব্যান্ড, TRX, মেডিসিন বল |
| সাপোর্ট | আয়না, মেট, লকার, ফ্যান |
৬. স্টাফ নিয়োগ
জিম সেন্টার ভালভাবে পরিচালনার জন্য আপনাকে প্রয়োজনীয় স্টাফ নিয়োগ দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় স্টাফ এর মধ্যে রয়েছে:
- সার্টিফায়েড জিম ট্রেইনার
- রিসেপশনিস্ট
- ক্লিনার
- পার্ট টাইম ফিটনেস কোচ
জিম ট্রেইনার নিয়োগ দেওয়ার সময় ভালভাবে যাচাই করে নিন। একজন ট্রেইনারের যেসব বিষয়ে স্কিল থাকা প্রয়োজন সেগুলো আছে কিনা জিজ্ঞেস করুন। প্র্যাকটিক্যালি কেমন পারে তা দেখে নিন। ট্রেইনারের আচরণ ও কমিউনিকেশন স্কিল খুব গুরুত্বপূর্ণ।
জিম ট্রেইনার ভাল হলে গ্রাহরা সন্তুষ্ট থাকে এর ফলে কাস্টমার রিটেনশন রেট ভাল হয়। সন্তুষ্ট কাস্টমাররা নতুন কাস্টমার নিয়ে আসে।
আরও পড়ুন: কম খরচে শুরু করতে পারবেন এমন শহরে ব্যবসার আইডিয়া
একটি জিম সেন্টার দিতে কেমন খরচ হয়?
জিম সেন্টার ব্যবসা শুরু করার আগে আপনার মাথায় প্রথমেই খরচের বিষয়টা আসবে। আসলে জিম সেন্টার দিতে কেমন খরচ হবে তা নির্ভর কতে জায়গার ভাড়া ও ইকুইপমেন্ট এর পরিমাণ এর উপর।
নিচে মাঝারি মানের একটি জিম সেন্টারের আনুমানিক খরচ দেওয়া হলো:
| খরচের খাত | আনুমানিক টাকা |
| ভাড়া (৩ মাস অগ্রিম) | ১,৫০,০০০ |
| ইকুইপমেন্ট | ৬–১২ লাখ |
| ইন্টেরিয়র ও আয়না | ১–২ লাখ |
| লাইসেন্স ও কাগজপত্র | ৩০,০০০ |
| মার্কেটিং | ২০,০০০ |
| মোট | ৯–১৫ লাখ টাকা |
জিম সেন্টার কিভাবে আয় করে? প্রাইসিং কিভাবে করবেন?
একটি জিম সেন্টার বিভিন্নভাবে আয় করতে পারে। আয়ের উপায়গুলো হচ্ছে:
১. মেম্বারশিপ ফি
এটাই জিম সেন্টারের সবচেয়ে বড় ও নিয়মিত আয়ের উৎস। মেম্বাররা মেম্বারশিপ ফি এর বিনিময়ে ব্যায়াম করার সুযোগ পেয়ে থাকেন।
বিভিন্নভাবে মেম্বারশিপ প্রাইস সেট করতে পারেন। যেমন:
মাসিক: ১,৫০০ –৩,০০০ টাকা
৩ মাস: ৪,০০০ – ৭,৫০০ টাকা
৬ মাস/১ বছর: ডিসকাউন্টসহ
২. পার্সোনাল ট্রেনিং
কাউকে বা ছোট গ্রুপকে পার্সোনাল ট্রেনিং দিয়ে বেশি পরিমাণে ফি ধার্য করতে পারেন।
চার্জ হতে পারে:
প্রতি মাস: ৫,০০০ – ১৫,০০০ টাকা
গ্রুপ পার্সোনাল ট্রেনিং: ২,০০০ – ৪,০০০ টাকা (প্রতি জন)
৩. গ্রুপ ফিটনেস ক্লাস
নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক ক্লাস চালু করে আয় বাড়াতে পারেন। সপ্তাহে নির্দিষ্ট এক বা দুদিন অথবা মাসে ৫-৬ দিন গ্রুপ ফিটনেস ক্লাস করাতে পারেন। প্রতি ক্লাস আলাদা ফি / মাসিক প্যাকেজ।
৪. সাপ্লিমেন্ট ও প্রোডাক্ট বিক্রি
জিমে আসা ব্যক্তিদের টার্গেট করে ফিটনেস প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারেন। জিম সেন্টারের ভেতর ছোট একটা শপ দিতে পারেন বা গ্লাসের বক্সের ভেতর ডিসপ্লে করতে পারেন।
যেসব প্রোডাক্ট রাখতে পারেন:
- প্রোটিন পাউডার
- মাস গেইনার
- ফ্যাট বার্নার
- গ্লাভস, বেল্ট, শেকার
৫. অনলাইন কোচিং
সরাসরি সার্ভিস ছাড়াও ডিজিটাল সার্ভিস থেকেও আয় করা সম্ভব। অনলাইনে ওয়ার্কআউট প্রোগ্রামের আয়োজন করতে পারেন, কিভাবে ব্যায়াম করলে শরীর সুস্থ থাকবে তা নিয়ে লাইভ কোচিং করাতে পারেন।
৬. রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ফি
বিভিন্ন ধরণের ফি নিতে পারেন। যেমন জয়েনিং ফি, লকার চার্জ, ডে-পাস / গেস্ট পাস, ফ্রিজ চার্জ (ঠান্ডা পানি) ইত্যাদি।
৭. স্পন্সরশিপ ও পার্টনারশিপ
ফিটনেস কোম্পানির স্পন্সর বা পার্টনারশিপ এর মাধ্যমে আয় করতে পারেন। জিমের ভেতর বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজন করতে পারেন যেখানে ব্র্যান্ডগুলোর ব্যানারসহ অন্যান্য প্রচারণার বিষয়াদি থাকবে।
৮. ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম
মোটা মানুষ টার্গেট করে ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম চালু করতে পারেন। ৩০–৯০ দিনের ফ্যাট লস / বডি ট্রান্সফরমেশন চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে উচ্চ ফি ধার্য করতে পারেন।
আরও পড়ুন: রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু করার উপায়, খরচ-লাভ, টিপসসহ বিস্তারিত
জিম সেন্টার ব্যবসায় কিভাবে সফল হবেন?
জিম সেন্টার ব্যবসায় সফল হতে হলে শুধু মেশিন কিনে দোকান খুললেই হবে না। এখানে দরকার সঠিক পরিকল্পনা, মানসম্মত সার্ভিস, মেম্বার রিটেনশন এবং স্মার্ট মার্কেটিং। বাংলাদেশের বাস্তবতায় জিম ব্যবসায় সফল হতে নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলুন।
লোকেশন ও টার্গেট কাস্টমার ঠিক করুন
জিম সেন্টার ব্যবসাতে সফল হতে হলে সঠিক লোকেশন নির্বাচন করতে হবে। আবাসিক এলাক, অফিস/কলেজের আশপাশ, নতুন ফ্ল্যাটবাড়ি এলাকা ইত্যাদি লোকেশন নির্বাচন করুন।
টার্গেট কাস্টমার ঠিক করতে হবে। সবাইকে একসাথে টার্গেট করলে সফল হওয়া কঠিন। তাই নির্দিষ্ট শ্রেণিকে টার্গেট করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
ভালো ট্রেইনার নিয়োগ দিতে হবে
ট্রেইনারই আপনার জিমকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ট্রেইনা ভাল না হলে গ্রাহক হারাতে পারেন। তাই ট্রেইনার নিয়োগ দেওয়ার আগে যে নিচের গুণগুলো আছে কিনা দেখে নিন:
- বেসিক এনাটমি ও এক্সারসাইজ নলেজ
- বিহেভিয়ার ও কমিউনিকেশন স্কিল
- নতুন মেম্বার কেয়ার
- ইনজুরি প্রিভেনশন নলেজ
নতুন মেম্বার অনবোর্ডিং সিস্টেম চালু করুন
গ্রাহক ধরে রাখার জন্য প্রথম ৭ দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ। নতুন গ্রাহক ধরে রাখার জন্য অনবোর্ডিং সিস্টেম চালু করতে হবে। এজন্য নিচের কাজগুলো করতে পারেন:
- ফিটনেস অ্যাসেসমেন্ট
- BMI / Fat % চেক
- গোল সেট করা
- ডেমো ওয়ার্কআউট
এসব কাজ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন। এর ফলে নতুন মেম্বাররা দীর্ঘদিন জিমে আটকে থাকে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও হাইজিন মেইনটেইন করুন
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা যেকোনো গ্রাহককে আকর্ষণ করে। ফ্লোর ও ওয়াশরুম যাতে একেবারে পরিষ্কার থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
প্রাইসিং ও প্যাকেজিং সঠিকভাবে করুন
ইতিমধ্যে উপরে এই বিষয়ে আলোচনা করেছি। সঠিকভাবে প্রাইসিং ও প্যাকেজিং করতে পারলে দীর্ঘদিন গ্রাহক ধরে রাখতে পারবেন ও ব্যবসায় সাফল্য আসবে।
মেম্বার রিটেনশন
নতুন গ্রাহক যেকোনো ব্যবসার জন্য ভাল কিন্তু আপনি যদি গ্রাহক ধরে রাখতে না পারেন তাহলে কখনো ব্যবসায় সফল হতে পারবেন না। তাই মেম্বার ধরে রাখার জন্য নিয়মিত ফলোআপ, প্রগ্রেস ট্র্যাক, ট্রান্সফরমেশন পোস্ট, জন্মদিন / স্পেশাল অফার ইত্যাদি কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে।
মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং এ জোর দিন
মার্কেটিং নতুন গ্রাহক নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিজিটাল মার্কেটিং করে আপনি খুব সহজেই টার্গেট গ্রাহকদের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে পারবেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে আপনার সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। জিম ও ফিটনেস সম্পর্কে কন্টেন্ট নিয়মিত প্রচার আপনার নতুন গ্রাহক সৃষ্টি করবে।
ব্র্যান্ডিং এর জন্য নিজস্ব লোগো ব্যবহার করুন। ভিজিটিং কার্ড ও জিম সেন্টারের ভেতর বিভিন্ন যায়গায় সেই লোগো ব্যবহার করুন।
জিম সেন্টারের নামে একটা ওয়েবসাইট খুলতে পারেন। সেখানে আপনার জিম সেন্টার নিয়ে কন্টেন্ট প্রকাশ করুন। বিভিন্ন প্যাকেজ, মেশিন, সুযোগ সুবিধা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন।
খরচ নিয়ন্ত্রণ করুন ও সঠিকভাবে হিসাব রাখুন
অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে৷ সক্ষমতার বাইরে গিয়ে খরচ করতে যাবেন না। বিদ্যুৎ, পানির অপব্যয় রোধ করতে হবে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্টাফ নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই ভাল করে প্রয়োজন বিশ্লেষণ করে নিবেন যাতে সেই বিনিয়োগ ক্ষতির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।
প্রতিমাসে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হবে। প্রতিটি খরচ ও আয় হিসাবের খাতায় লিখে রাখতে হবে৷ সঠিক হিসাব-নিকাশ ব্যবসার সফলতায় বড় ভূমিকা পালন করে।
উপসংহার
সঠিক পরিকল্পনা, ভালো লোকেশন, মানসম্মত ইকুইপমেন্ট এবং দক্ষ ট্রেইনার থাকলে জিম সেন্টার ব্যবসা একটি দীর্ঘমেয়াদী লাভজনক ব্যবসায়ীক উদ্যোগ হতে পারে।
আশা করি আজকের লেখা থেকে কিভাবে জিম সেন্টার ব্যবসা শুরু করবেন এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেয়েছেন। আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করলে আশা করা যায় সফল হবেন।