HomeBusiness Guidelinesবিক্রয় বৃদ্ধির ১৫ টি কৌশল যা আপনার বিক্রয় ৩ গুণ বৃদ্ধি করবে

বিক্রয় বৃদ্ধির ১৫ টি কৌশল যা আপনার বিক্রয় ৩ গুণ বৃদ্ধি করবে

এমন কোন ব্যবসায়ী খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল বের করার জন্য সময় ব্যয় করেন না। শুধু ব্যবসায়ী না বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কর্মীরাও বিক্রয় নিয়ে সবসময় চিন্তিত থাকে। কারণ বিক্রয় না হলে তার টার্গেট পূরণ হবে না। আর ব্যবসায়ীদের কাছে এর কি মূল্য তা নতুন করে বলার কিছু নেই।

বিক্রয় কি?

বিক্রয় হচ্ছে একটি প্রক্রিয়া যেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে অর্থের বিনিময়ে পণ্য বা সেবা বিনিময় হয়। অর্থাৎ যখন এক পক্ষ অর্থ প্রদান করে এবং অন্য পক্ষ তাকে অর্থের বিনিময়ে পণ্য বা সেবা প্রদান করে তখন তাকে বিক্রয় বলে।

বিক্রয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছ অর্থের বিনিময়ে লাভের উদ্দেশ্যে অর্থের বিনিময়ে পণ্য বা সেবা বিনিময়। বিক্রেতার কাজ হচ্ছে ক্রেতার প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য তৈরি করা এবং গ্রাহক যাতে সেই পণ্য ক্রয় করে সে জন্য ক্রেতাকে উৎসাহিত করা। ক্রেতার কাজ হচ্ছে ভালভাবে দেখেশুনে দরকষাকষি করে ন্যায্য দামে পণ্য ক্রয় করা।

মানুষ কেন ক্রয় করে?

মানুষ বিভিন্ন কারণে পণ্য ক্রয় করে থাকে যেমন প্রয়োজন মেটানো, জীবনযাত্রার মান উন্নত করা, সুবিধা লাভ করা, মানসিক শান্তি পাওয়া বা নির্দিষ্ট সামাজিক পরিচয় তৈরি করা। এছাড়া কোন পণ্যের গুণগত মান, নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের প্রতি আকর্ষণ এবং সময় বাঁচানোর মতো বিষয়গুলোও ক্রয়ের কারণ হয়ে থাকে।

ক্রয়ের সাধারণ কারণসমূহ

প্রয়োজন পূরণ: মানুষের ক্রয়ের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মৌলিক প্রয়োজন পূরণে ক্রয় করা। এজন্য মানুষ খাদ্য, বস্ত্র বা বাসস্থানের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনে।

জীবন যাত্রার মান উন্নত করা: মানুষ তার জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং সহজ করার জন্য ক্রয় করে থাকে। যেমন উন্নত বাড়ি কেনা, গাড়ি কেনা, অপেক্ষাকৃত ভাল মানের আসবাব কেনা, ঘরের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করা ইত্যাদি।

সুবিধা বা সময় বাচানো: বিশেষ সুবিধা পাওয়া বা সময় বাচানোর জন্য মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করে।

গুণমান: হাই কোয়ালিটির পণ্য কেনার জন্য অনেকেই বেশি অর্থ ব্যয় করতে আগ্রহী থাকে। তাদের কাছে দামের চেয়ে পণ্যের মান অনেক বেশি বিবেচ্য।

মানসিক সন্তুষ্টি: মানসিক সন্তুষ্টির জন্যও মানুষ কেনাকাটা করে। অনেক সময় দেখা যায় একঘেয়েমি বা বিষন্নতা কমাতে মানুষ শপিং করতে যায়। ভাল ভাল ড্রেস কিনে মনের প্রফুল্লতা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে বা অন্য কাউকে গিফট দিয়ে খুশি করতে চেষ্টা করে।।

সামাজিক পরিচয়: কিছু পণ্য বা ব্র্যান্ড ব্যক্তির সামাজিক পরিচয় ও অবস্থানকে তুলে ধরতে সাহায্য করে। এজন্য দেখবেন অনেকেই দামি ব্র‍্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করে।

আবেগ: অনেক সময় মানুষ আবেগের বশে কেনাকাটা করে এবং পরে তার যৌক্তিকতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।

নিরাপত্তা: নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও মানুষ কেনাকাটা করে থাকে।

পছন্দ ও শখ পূরণ: মানুষ তার পছন্দ ও শখ পূরণ করার জন্য ক্রয় করে।

বিনিয়োগ: কোন ব্যবসায় বা লাভের উদ্দেশ্য ক্রেতারা ক্রয় করে থাকে।

প্যানিক বায়িং: জরুরি অবস্থার সময় বা কোনো পণ্যের ঘাটতির আশঙ্কা থাকলে মানুষ অতিরিক্ত পণ্য কিনে ফেলে।

বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল

বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশলগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ

১. রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট

বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল
সোর্সঃ SpendMeNot, Grokipedia, RD World

বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে প্রথমেই রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্টকে রাখতে হবে। রিসার্চ ছাড়া আপনি বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটে টিকে থাকতে পারবেন না। আপনাকে টিকে থাকতে হলে রিসার্চ করতে হবে এবং সেভাবে প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট করতে হবে।

আপনি কি জানেন এই খাতে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি কোন কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করছে? Statista রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৪ সালে এই খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে Amazon, Alphabet, Meta, Apple এবং Mircosoft। এই কোম্পানিগুলোই পৃথিবীতে ব্যবসার জগতে রাজত্ব করছে।

কি নিয়ে রিসার্চ করবেন? আপনার মূল প্রতিযোগি কারা, তাদের পণ্যের বৈশিষ্ট্য, কি কারণে মানুষ তাদের পণ্য ক্রয় করছে, তারা কি পরিমাণ বিনিয়োগ করছে এবং এদের সাথে প্রতিযোগিতা করে আপনার পণ্য কিভাবে মার্কেটে বিক্রি হবে সেই কৌশল বের করতে হবে এবং অন্য প্রতিযোগিদের চেয়ে পণ্যের ফিচার এবং কোয়ালিটি বাড়াতে হবে।

২. বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য মার্কেটিং এ জোর দিন

আপনার কাছে পণ্য আছে, সেই পণ্য বাজারের অন্য প্রতিযোগিদের চেয়ে অনেক বেশি মানসম্মত। কিন্তু আপনার মার্কেটিং এ দুর্বলতার কারণে অন্য প্রতিযোগিদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছেন।

আপনার মার্কেটিং হবে হাইব্রিড। প্রচলিত মার্কেটিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এই দুইটার সংমিশ্রণ। প্রচলিত মার্কেটিং এর মধ্যে রয়েছে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন, পোস্টারিং, কোন ইভেন্টে স্পন্সর করা, প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, বিক্রয় প্রতিনিধি বা এজেন্সির মাধ্যমে মার্কেটিং করা ইত্যাদি।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে রয়েছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, কন্টেন্ট মার্কেটিং, ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং ইত্যাদি।

এসব বিষয় আমাদের Marketing Guidelines অংশে উদাহরণ ও ছবিসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

৩. দক্ষ সেলস ম্যান নিয়োগ দিন

দক্ষ সেলস ম্যান নিয়োগ বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশলগুলোর মধ্যে অন্যতম। একজন দক্ষ সেলস ম্যান একাই মাঝারি দক্ষ ব্যক্তির তুলনায় কমপক্ষে ৩ গুণ বেশি রিটার্ন দিবে।

অনেক সময় দেখা যায় প্রতিষ্ঠানগুলো কম বেতনে অদক্ষ বা স্বল্প দক্ষ লোক নিয়োগ দেয়। এর ফলে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রত্যাশিত রিটার্ন পায় না। কিন্তু এক্ষেত্রে যদি বেতন বেশি দিয়ে হলেও দক্ষ সেলস ম্যান নিয়োগ দেওয়া যায় তাহলে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

৪. এআই ব্যবহার

বর্তমান তীব্র প্রতিযোগিতার ব্যবসায়ীক জগতে টিকে থাকতে হলে এআই ব্যবহার করতে হবে। এআই ব্যবহার করে আপনি সহজেই বিক্রয় বাড়াতে পারবেন।

এআই ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই এবং দ্রুত আপনার টার্গেট কাস্টমার খুঁজে বের করতে পারবেন। গ্রাহকদের ক্রয় সচেতনতা অর্থাৎ তারা কোন ধরণের পণ্য পছন্দ করে, দামের রেঞ্জ, কালারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য এআই ব্যবহার করে দ্রুত এনালাইসিস করা যায়। এসব এনালাইসিস প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট এ অনেক কাছে লাগে।

এছাড়া কাস্টমারদের বিভিন্ন ধরণের প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দেওয়ার জন্য চ্যাটবট খুবই কার্যকর একটি এআই টুল। এর ফলে গ্রাহকদের চাহিদা খুব দ্রুত সমাধান করা যায়। গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়ে যা বিক্রয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন: ট্রেড লাইসেন্স অনলাইন আবেদন ও সরাসরি সংগ্রহ করার নিয়ম। 

৫. সেলস হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক খেলা

বিক্রয় শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম নয় এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক খেলাও বটে। এখানে বিক্রেতা সফল হয় যখন নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারেন এবং মানুষের মন বোঝার দক্ষতা অর্জন করেন।

এক্ষেত্রে বলা যায় একজন বিক্রেতার সাফল্য মূলত নির্ভর করে তার মানসিক অবস্থা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের প্রতি বিশ্বাসের উপর।

বিখ্যাত লেখক Brian Tracy বলেন:

“Sales is 80% psychology and 20% technique.”

অর্থাৎ, ৮০% বিক্রয় হয় মনস্তাত্ত্বিক কারণে আর ২০% বিক্রয় হয় অন্যান্য বিক্রয় বাড়ানোর কৌশলের উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ আপনার মনোভাব ও চিন্তাই আপনার বিক্রয়ে বড় প্রভাব রাখবে।

৬. নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করুন

আত্মবিশ্বাস সেলসের প্রথম ধাপ। আত্মবিশ্বাস বিক্রয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

আপনি কি জানেন একজন বিক্রেতার বিক্রয় শুরু হয় তার নিজের ভেতর থেকে। অর্থাৎ তিনি নিজের সম্পর্কে যা ভাবেন, নিজের পণ্য সম্পর্কে যেভাবে বিশ্বাস করেন এবং গ্রাহকের সাথে যেভাবে আচরণ করেন তার সবকিছু বিক্রেতার মানসিক অবস্থার প্রতিফলন।

কেউ যদি নিজেকে দক্ষ বিক্রেতা মনে না করে আর বিক্রয় করার সময় নার্ভাস হয়ে যান তাহলে গ্রাহক আপনার উপস্থাপনায় সন্তুষ্ট হবে না।

একজন বিক্রেতা যদি আত্মবিশ্বাসের সাথে গ্রাহকের সামনে কোন বিষয় উপস্থাপন করতে পারেন এবং গ্রাহকদের করা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন তাহলে সহজেই তার পণ্য বিক্রি হবে।

মানুষের কাছে বিক্রি করার আগে নিজের কাছে বিক্রি করুন। আপনি যদি নিজের পণ্য বা সেবার প্রতি শতভাগ বিশ্বাস রাখেন, তখন সেটি আপনার কথার ভেতরে, কণ্ঠস্বরে ও দেহভঙ্গিতে প্রকাশ পাবে। গ্রাহক আপনার কথার মাঝেই এটি বুঝতে পারবে এবং আপনার উপর আস্থা রাখবে।

প্র্যাকটিক্যাল টিপস: প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলুন: “আমি আত্মবিশ্বাসী বিক্রেতা।”

আপনার পণ্য বা সার্ভিসের ৩টি সবচেয়ে বড় পজিটিভ কিছু দিক লিখে রাখুন যাতে সেগুলো গ্রাহকের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।

৭. মানসিক প্রস্তুতি (Mental Conditioning)

সেলস এমন একটি বিষয় যেখানে আপনাকে গ্রাহকের প্রত্যাখ্যান দেখতে হবে এবং আপনি প্রায় সময় বিক্রয় করতে ব্যর্থ হবেন। এটা স্বাভাবিক।

কিন্তু আপনাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। গ্রাহকের ‘না’ বলাকে ভয় পাওয়া যাবে না। কারণ আজকে যে ক্লায়েন্ট আপনাকে প্রত্যাখ্যান করবে ভবিষ্যতে কোনভাবে আপনার ক্লায়েন্ট হয়ে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ মেনে চলুন :

  • গ্রাহকদের প্রত্যাখ্যানকে ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না।
  • প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে একটি শিক্ষা বের করুন। কেন গ্রাহক আপনার পণ্য কিনে নাই সেটি বের করার চেষ্টা করুন।
  • প্রতিদিন নিজেকে ইতিবাচকভাবে উৎসাহিত করুন। কোনভাবেই উতসাহ হারানো যাবে না। আপনাকে মনে করতে হবে প্রত্যেক ক্লায়েন্ট আমার জন্য শেখার সুযোগ সৃষ্টি করছে, প্রত্যাখ্যান মানে পরবর্তী সাফল্যের প্রস্তুতি।

ক্লায়েন্টের আপত্তি মানে “না” নয়, বরং বিষয়টা হবে “আমার সন্দেহ দূর করুন।” বিক্রেতার কাজ হবে আপত্তি বোঝা, সহমর্মিতা দেখানো ও সমাধান দেওয়া।

যেমনক্লায়েন্ট বললো “আপনার পণ্যের মূল্যটা একটু বেশি।” আপনি তখন বললেন “ঠিক বলেছেন, এটি সস্তা নয়। তবে এটি আপনাকে আগামী ৬ মাসে আপনাকে সমমনা পণ্যের ৩ গুণ বেশি সার্ভিস দিবে।”

প্র্যাকটিক্যাল টিপস:

  • ১০টি সাধারণ আপত্তি লিখে সেগুলোর উত্তর প্রস্তুত রাখুন যাতে ক্লায়েন্ট আপত্তি তোলার সাথে সাথেই উত্তর দিয়ে ক্লায়েন্টের মনোভাব পরিবর্তন করে দেওয়া যায়।
  • “Feel–Felt–Found” মডেল ব্যবহার করুন:
    “আমি বুঝতে পারছি (Feel)… অনেকে এমন ভেবেছিল (Felt)… কিন্তু পরে বুঝেছে (Found)…”

৮. সেলসের আবেগীয় দিক (Emotional Control)

বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল এর মধ্যে আবেগের নিয়ন্ত্রণ অন্যতম। বিক্রয়ের সময় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। গ্রাহক কোন কিছু কেনার সময় যদি দ্বিধাগ্রস্ত হয়, রেগে যায় অথবা হতাশ হয় তখন বিক্রেতার কাজ হবে তার আবেগকে সামলে নেওয়া এবং শান্তভাবে কথা চালিয়ে যাওয়া।

মূল সূত্র: “The calmer you are, the more control you have.”

প্র্যাকটিক্যাল টিপস: গভীর শ্বাস নিন এবং ধীরে কথা বলুন।একগুঁয়ে বা বদরাগী গ্রাহকের সাথেও হাসিমুখে কথা বলুন।মনে রাখতে হবে আপনি গ্রাহকের সমস্যার সমাধানকারী, প্রতিদ্বন্দ্বী নন।

আরও পড়ুন: কিভাবে একটি নতুন কোম্পানি খুলবেন? স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন।

৯. আত্মপ্রেরণা (Self-Motivation) বিক্রয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে 

বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল এর মধ্যে আত্মপ্রেরণাকে রাখতেই হবে। কারণ একজন সেলস ম্যানকে প্রতিদিন তার প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রি করতে নানা প্রচেষ্টা চালানোর পরেও তাকে অনেক সময় ব্যর্থ হতে হয়। সফল হলে মানুষ প্রসংশা করলেও ব্যর্থ হলে মানুষ তিরস্কার করে। তাই নিজেকে সতেজ রাখার জন্য আত্মপ্রেরণা থাকা জরুরি।

প্রতিদিনের সেলস যাত্রায় নিজেকে প্রেরণা জোগানো দরকার। কেউ আপনাকে প্রতিদিন মোটিভেট করবে না — আপনাকেই নিজের অনুপ্রেরণা তৈরি করতে হবে।

Brian Tracy-এর ৩টি Self-Motivation সূত্র:

  • লক্ষ্য লিখে রাখুন (Write Down Your Goals)
  • সাফল্য কল্পনা করুন (Visualize Success)
  • প্রতিদিন ছোট ছোট সাফল্যের দিকে মনোযোগ দিন (Focus on Small Wins)।

এজন্য আপনার মাসিক বিক্রয়ের লক্ষ্য ঠিক করুন এবং প্রতিদিন ট্র্যাক করুন। প্রতিদিনের শেষে তিনটি ভালো কাজ নোট করুন যা আপনি করেছেন।

১০. গ্রাহকের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা

বিক্রয়ের মনস্তত্ত্বের একটি বড় অংশ হলো গ্রাহকের মন বোঝা। একজন ভালো বিক্রেতা শুধু কথা বলে না, বরং সে গ্রাহকের কথা শুনে, তাকে পর্যবেক্ষণ করে এবং তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করে। বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে এটি খুবই ফলপ্রসূ।

গ্রাহকের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য গ্রাহকের কথা ভালভাবে শুনতে হবে। গ্রাহকের ভাল লাগা মন্দ লাগার বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করতে হবে। বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার মাধ্যমে তার দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করে প্রোডাক্ট অফার করতে হবে।

১১. সম্ভাব্য গ্রাহক খোঁজা কার্যক্রম

দক্ষ বিক্রেতা সবসময় সম্ভাব্য গ্রাহক সন্ধান করে। তারা কখনো সবাইকে গ্রাহক হিসেবে টার্গেট করে না। কারণ সবাই আপনার গ্রাহক হবে না। যেমন একজন গাড়ি বিক্রেতা তার সম্ভাব্য গ্রাহক হিসেবে উচ্চ আয় করে এমন ব্যক্তিদের টার্গেট করবে।

এখন যদি গাড়ি বিক্রেতা উচ্চ আয়ের ব্যক্তি রেখে মধ্য আয় বা নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে বা অন্য কোনভাবে তাদের কাছে প্রচারণা চালায় তাহলে কোন রেজাল্ট পাবে না।

এজন্য সঠিক গ্রাহক নির্বাচন করার ৩ টি কাজ করুন:

১. Target Market নির্ধারণ
২. Ideal Customer Profile তৈরি
৩. Qualified Lead ফিল্টার করুন

১২. গ্রাহকের সমস্যা খুঁজে বের করে বিক্রয় বৃদ্ধির চেষ্টা

একজন বিক্রেতা যখন বিক্রি করেন তখন তাকে গ্রাহকের প্রকৃত সমস্যা বুঝতে হবে। তার সমস্যা বের করার জন্য তাকে প্রশ্ন করুন এবং মনযোগ দিয়ে তার কথা শুনুন।

আপনার মনযোগ দেওয়াটাই গ্রাহককে প্রভাবিত করবে। সে অনুভব করবে আপনিই সেই ব্যক্তি যে তার সমস্যা বুঝতে পেরেছে এবং সেই সমস্যার সমাধান আপনার কাছেই আছে।

মনে করুন আপনি একজন বিজনেস কন্সাল্টেন্সি সার্ভিস প্রোভাইডার। আপনার কাছে একজন ব্যবসায়ী তার ব্যবসা সম্প্রসারণ এর বিষয়ে পরামর্শ চাইতে আসলো।

তার সমস্যা হচ্ছে ব্যবসা কিভাবে সম্প্রসারণ করবে এবং এর ফাইনান্স কিভাবে হবে? আপনি প্রথমে মনযোগ দিয়ে তার কথা শুনলেন এবং পয়েন্ট আকারে খাতায় নোট করলেন। তারপর পয়েন্ট ধরে ধরে সমস্যা সমাধানের পথ বাতলে দিলেন। সে আপনার প্রতি ইম্প্রেসড হয়ে যাবে।

১৩. বিক্রয় সম্পন্ন করা

বিক্রয় বৃদ্ধির অন্যতম কৌশল হচ্ছে কোন কিছু বিক্রয়ের চেষ্টা করে সেটা সম্পন্ন করা। অনেক বিক্রেতা আছে যারা ক্রেতাদের সামনে সুন্দরভাবে পণ্যের উপস্থাপন করবে কিন্তু ক্রেতার কাছ থেকে অর্ডার চাইবে না। এটা বড় একটা ভুল।

আপনি আপনার উপস্থাপনা শেষ করার পর অবশ্যই গ্রাহকের কাছে অর্ডার চাইবেন। মানে কথার শেষে Call to Action থাকতে হবে। গ্রাহককে কয়েকটা বিকল্প পণ্য দেখিয়ে তার জন্য কোনটা ভাল হবে সেটা তাকে বলুন। এর ফলে গ্রাহকের সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে এবং আপনার পণ্য ক্রয়ে উৎসাহিত হবে।

১৪. বিক্রেতার ব্যক্তিত্ব ও মনোভাব

একজন বিক্রেতার ব্যক্তিত্ব ও মনোভাব তার বিক্রয় বৃদ্ধিতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।
বন্ধুত্বপূর্ণ, শ্রোতা, আত্মবিশ্বাসী এবং হাসিখুশি বিক্রেতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি বিক্রয় করতে পারে।

ক্রেতারা তাদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। শুধু স্বাচ্ছন্দ বোধ নয় এই ধরণের বিক্রেতার কাছ ক্রয় করে কনফিডেন্স পায়।

এজন্য নিয়মিত নিজের শরীরের ভাষা অনুশীলন করুন। ক্রেতাদের সামনে মুখে হাসি রাখুন কিন্তু সেটা পরিমিত হবে যাতে ক্লায়েন্ট বিরক্ত না হয়। কোনভাবেই খারাপ আচরণ করা যাবে না এবং রাগ দেখানো যাবে না।

১৫. প্রতিনিয়ত শেখা ও উন্নতি করা

সফল সেলসপারসনরা কখনও শেখা বন্ধ করে না। আপনার প্রতিদিনের ছোট ছোট উন্নতিই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। এজন্য নিয়মিত বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কিত বই পড়ুন, কোর্স করুন।

প্রতি সপ্তাহ বা মাসে একবার পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করুন। আপনার বিক্রয় আগের তুলনায় কত বেড়েছে বা কমেছে তা খুঁজে বের করুন। এর পেছনে কি কারণ থাকতে পারে তা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

পরিশেষে

বিক্রয় মানে শুধু কথা বলা বা পণ্য দেখানো নয়, বিক্রয় মানে নিজের ভেতরের ভয়, দ্বিধা, নেতিবাচক চিন্তা ও সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। বিক্রেতার মনোভাব, আত্মবিশ্বাস, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও আত্মপ্রেরণা তার বিক্রয় বাড়াতে বিরাট ভূমিকা পালন করে। মূলত ব্যবহারিক এবং মনস্তাত্ত্বিক দুটি কৌশল একসাথে ব্যবহার করতে পারলেই সহজে বিক্রয় বাড়ানো যায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular