HomeUncategorizedম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেস প্রফিট ক্যালকুলেটর এর ব্যবহার নির্দেশিকা

ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেস প্রফিট ক্যালকুলেটর এর ব্যবহার নির্দেশিকা

ব্যবহার নির্দেশিকা

Manufacturing Business Profit Calculator এর সাহায্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিক্রয়, কাঁচামালের ব্যবহার, উৎপাদন খরচ, কারখানার ব্যয়, প্রশাসনিক খরচ এবং অন্যান্য আয়-ব্যয়ের ভিত্তিতে লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে পারবে।

এটি গার্মেন্টস, বেকারি, প্লাস্টিক পণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, আসবাবপত্র, প্যাকেজিং এবং অন্যান্য উৎপাদনমূলক ব্যবসার জন্য প্রাসঙ্গিক।

এই নির্দেশিকায় ক্যালকুলেটরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মের অর্থ, হিসাবের পদ্ধতি এবং ব্যবহারিক উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

১. Revenue (রাজস্ব বা বিক্রয়)

এই অংশে নির্দিষ্ট হিসাবকালে পণ্য বিক্রি থেকে অর্জিত আয় নির্ধারণ করা হয়।

Gross Sales – মোট বিক্রয়

বিক্রয় ফেরত ও ছাড় বাদ দেওয়ার আগে পণ্য বিক্রির মোট মূল্যকে Gross Sales বলে।

উদাহরণ: একটি বেকারি এক মাসে ৮,০০,০০০ টাকার পণ্য বিক্রি করলে Gross Sales হবে ৮,০০,০০০ টাকা।

Sales Return – বিক্রয় ফেরত

ক্রেতা পণ্য ফেরত দিলে সেই পণ্যের বিক্রয়মূল্য Sales Return হিসেবে গণ্য হয়।

উদাহরণ: বিক্রি করা পণ্যের মধ্যে ১৫,০০০ টাকার পণ্য ফেরত এলে Sales Return হবে ১৫,০০০ টাকা।

Sales Discount & Allowances – বিক্রয় ছাড় ও মূল্য সমন্বয়

ক্রেতাকে দেওয়া বিক্রয় ছাড় অথবা পণ্যের ত্রুটি, ক্ষতি বা অন্য কারণে বিক্রয়মূল্যে অনুমোদিত হ্রাসকে বোঝায়।

উদাহরণ: একজন ডিলারকে ১০,০০০ টাকার বিক্রয় ছাড় দেওয়া হলে এই পরিমাণ এখানে অন্তর্ভুক্ত হবে।

Net Sales – নিট বিক্রয়

Gross Sales থেকে Sales Return এবং Sales Discount & Allowances বাদ দিলে Net Sales পাওয়া যায়।

সূত্র: Net Sales = Gross Sales − Sales Return − Sales Discount & Allowances

উদাহরণ:

  • Gross Sales: ৮,০০,০০০ টাকা
  • Sales Return: ১৫,০০০ টাকা
  • Sales Discount: ১০,০০০ টাকা
  • Net Sales: ৭,৭৫,০০০ টাকা

২. Raw Materials Consumed (ব্যবহৃত কাঁচামালের খরচ)

পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামালের হিসাব এই অংশে করা হয়। মনে রাখতে হবে, কাঁচামাল কেনার মোট মূল্য এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের মূল্য এক বিষয় নয়।

Opening Raw Materials Inventory – প্রারম্ভিক কাঁচামালের মজুত

হিসাবকালের শুরুতে কারখানায় থাকা অব্যবহৃত কাঁচামালের মূল্য।

উদাহরণ: মাসের শুরুতে কারখানায় ২,০০,০০০ টাকার কাঁচামাল থাকলে Opening Raw Materials Inventory হবে ২,০০,০০০ টাকা।

Raw Materials Purchases – কাঁচামাল ক্রয়

নির্দিষ্ট হিসাবকালে উৎপাদনের জন্য কেনা কাঁচামালের মোট মূল্য।

উদাহরণ: এক মাসে ৫,০০,০০০ টাকার কাঁচামাল কেনা হলে Raw Materials Purchases হবে ৫,০০,০০০ টাকা।

Purchase Return – ক্রয় ফেরত

সরবরাহকারীকে ফেরত দেওয়া কাঁচামালের মূল্য।

উদাহরণ: নিম্নমানের কারণে ২০,০০০ টাকার কাঁচামাল ফেরত দিলে সেই মূল্য এখানে দেখাতে হবে।

Purchase Discount – ক্রয় ছাড়

সরবরাহকারীর কাছ থেকে পাওয়া প্রযোজ্য ক্রয় ছাড়। এটি কাঁচামালের ক্রয়মূল্য কমায়।

Carriage Inward / Freight In – কাঁচামাল আনার পরিবহন খরচ

সরবরাহকারীর কাছ থেকে কাঁচামাল কারখানায় নিয়ে আসার জন্য যে পরিবহন খরচ হয়।

উদাহরণ: কাঁচামাল পরিবহনে ১২,০০০ টাকা খরচ হলে সেই পরিমাণ এখানে অন্তর্ভুক্ত করবেন।

Net Raw Material Purchases – নিট কাঁচামাল ক্রয়

ক্রয় থেকে ক্রয় ফেরত ও প্রযোজ্য ক্রয় ছাড় বাদ দিয়ে পরিবহন খরচসহ নিট ক্রয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

সূত্র: Net Raw Material Purchases = Raw Materials Purchases − Purchase Return − Purchase Discount + Carriage Inward

Raw Materials Available for Use – ব্যবহারের জন্য মোট কাঁচামাল

প্রারম্ভিক মজুত ও নিট কাঁচামাল ক্রয় যোগ করলে উৎপাদনে ব্যবহারের জন্য মোট কাঁচামালের মূল্য পাওয়া যায়।

সূত্র: Raw Materials Available for Use = Opening Raw Materials Inventory + Net Raw Material Purchases

Closing Raw Materials Inventory – সমাপনী কাঁচামালের মজুত

হিসাবকালের শেষে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা কাঁচামালের মূল্য।

Raw Materials Consumed – ব্যবহৃত কাঁচামালের মূল্য

মোট ব্যবহারযোগ্য কাঁচামাল থেকে সমাপনী কাঁচামালের মজুত বাদ দিলে উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের মূল্য পাওয়া যায়।

সূত্র: Raw Materials Consumed = Raw Materials Available for Use − Closing Raw Materials Inventory

উদাহরণ:

  • Opening Inventory: ২,০০,০০০ টাকা
  • Net Raw Material Purchases: ৪,৯২,০০০ টাকা
  • Closing Inventory: ১,৫০,০০০ টাকা

Raw Materials Consumed = ২,০০,০০০ + ৪,৯২,০০০ − ১,৫০,০০০

ব্যবহৃত কাঁচামালের মূল্য = ৫,৪২,০০০ টাকা।

৩. Direct Labour & Other Direct Costs (সরাসরি শ্রম ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ খরচ)

এই অংশে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত শ্রম ব্যয় এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষ উৎপাদন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত হয়।

Direct Production Wages – সরাসরি উৎপাদন শ্রমিকের মজুরি

যেসব শ্রমিক সরাসরি পণ্য উৎপাদন করেন, তাঁদের মজুরি।

উদাহরণ: পোশাক তৈরির শ্রমিক, বেকারির উৎপাদনকর্মী অথবা প্লাস্টিক পণ্য তৈরির মেশিন অপারেটরের উৎপাদন-সম্পর্কিত মজুরি।

Overtime & Production Incentives – অতিরিক্ত কাজের মজুরি ও উৎপাদন প্রণোদনা

উৎপাদনকর্মীদের অতিরিক্ত সময়ের মজুরি এবং উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত বোনাস বা প্রণোদনা।

Employee Benefits (Direct Labour) – সরাসরি শ্রমিকদের অন্যান্য সুবিধা

উৎপাদন শ্রমিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রযোজ্য কর্মী সুবিধা ও নিয়োগকর্তার ব্যয়, যেমন উৎপাদন-সম্পর্কিত সুবিধা বা অবদান।

Subcontracting / Outside Processing – বাইরের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানো

উৎপাদনের কোনো ধাপ বাইরের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করানোর খরচ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় পোশাক তৈরির একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বাইরের কারখানায় এমব্রয়ডারি বা প্রিন্টিং করানো।

Production Royalties & Direct Charges – উৎপাদন রয়্যালটি ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ চার্জ

উৎপাদনের পরিমাণ বা নির্দিষ্ট পণ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত রয়্যালটি ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ ব্যয়।

Total Direct Labour & Other Direct Costs – মোট সরাসরি শ্রম ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ খরচ

উপরের সব প্রযোজ্য প্রত্যক্ষ শ্রম ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ ব্যয়ের যোগফল।

Prime Cost – প্রাইম কস্ট বা মূল উৎপাদন ব্যয়

ব্যবহৃত কাঁচামাল, সরাসরি শ্রম এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষ উৎপাদন খরচের সমষ্টিকে Prime Cost বলে।

সূত্র: Prime Cost = Raw Materials Consumed + Total Direct Labour & Other Direct Costs

Prime Cost এর মাধ্যমে বোঝা যায়, কারখানার পরোক্ষ খরচ যোগ করার আগে পণ্য উৎপাদনে সরাসরি কত ব্যয় হয়েছে।

৪. Factory Overhead (কারখানার পরোক্ষ উৎপাদন ব্যয়)

যেসব উৎপাদন ব্যয় নির্দিষ্ট একটি পণ্যের সঙ্গে সরাসরি শনাক্ত করা কঠিন, কিন্তু কারখানা পরিচালনার জন্য প্রয়োজন, সেগুলো Factory Overhead-এর অন্তর্ভুক্ত।

Indirect Materials & Factory Supplies – পরোক্ষ উপকরণ ও কারখানার সরবরাহ

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত এমন উপকরণ, যেগুলোর ব্যয় নির্দিষ্ট পণ্যের সঙ্গে সরাসরি মেলানো কঠিন।

উদাহরণ: সাধারণ পরিষ্কারের উপকরণ, মেশিনে ব্যবহৃত কিছু লুব্রিকেন্ট এবং কারখানার ছোটখাটো সরবরাহ।

Indirect Labour & Factory Staff – পরোক্ষ শ্রম ও কারখানার কর্মীদের ব্যয়

যেসব কর্মী সরাসরি পণ্য তৈরি করেন না, কিন্তু কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট ব্যয়।

উদাহরণ: কারখানার সহায়ক কর্মী ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের প্রযোজ্য মজুরি।

Factory Rent – কারখানা ভাড়া

উৎপাদন কারখানা ব্যবহারের জন্য প্রদত্ত ভাড়া।

Factory Machinery Depreciation – কারখানার যন্ত্রপাতির অবচয়

যন্ত্রপাতির ব্যবহার, সময়ের অতিক্রম বা ক্ষয়ের কারণে তার অবচয়যোগ্য মূল্য উৎপাদন ব্যয় হিসেবে বরাদ্দ করা হয়।

উদাহরণ: উৎপাদন যন্ত্রপাতির মূল্য ও হিসাবনীতি অনুযায়ী বছরে যে অবচয় ব্যয় নির্ধারিত হয়, তার প্রযোজ্য অংশ হিসাবকালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

Electricity, Gas, Water & Fuel – বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও জ্বালানি

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও জ্বালানির ব্যয়।

Repairs & Maintenance – মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ

কারখানার মেশিন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উৎপাদন সরঞ্জাম সচল রাখার খরচ।

Factory Insurance – কারখানার বিমা

কারখানা, উৎপাদন যন্ত্রপাতি বা সংশ্লিষ্ট সম্পদের জন্য প্রদত্ত প্রযোজ্য বিমা ব্যয়।

Quality Control & Testing – মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা

পণ্যের গুণগত মান যাচাই, পরীক্ষাগার পরীক্ষা এবং উৎপাদন-সম্পর্কিত মান নিয়ন্ত্রণের ব্যয়।

Factory Supervision & Management – কারখানা তদারকি ও ব্যবস্থাপনা

কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম তদারকি ও পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যয়।

Miscellaneous Overhead Expenses – অন্যান্য পরোক্ষ উৎপাদন ব্যয়

কারখানা পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রযোজ্য পরোক্ষ ব্যয়, যেগুলো ওপরের শ্রেণিগুলোতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

Total Factory Overhead – মোট কারখানা ওভারহেড

কারখানার সব প্রযোজ্য পরোক্ষ উৎপাদন ব্যয়ের যোগফল।

Total Manufacturing Costs – মোট উৎপাদন ব্যয়

নির্দিষ্ট হিসাবকালে কাঁচামাল, সরাসরি শ্রম, অন্যান্য প্রত্যক্ষ ব্যয় এবং কারখানার ওভারহেড মিলিয়ে মোট উৎপাদন ব্যয় পাওয়া যায়।

সূত্র: Total Manufacturing Costs = Raw Materials Consumed + Total Direct Labour & Other Direct Costs + Total Factory Overhead

৫. Work-in-Process (WIP) – উৎপাদনাধীন পণ্য

উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কিন্তু হিসাবকালের শেষে পণ্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়নি, এমন পণ্যকে Work-in-Process বা WIP বলে।

Opening Work-in-Process (WIP) – প্রারম্ভিক উৎপাদনাধীন পণ্য

হিসাবকালের শুরুতে অসম্পূর্ণ বা উৎপাদনাধীন পণ্যের মধ্যে জমা হওয়া উৎপাদন ব্যয়ের মূল্য।

Closing Work-in-Process (WIP) – সমাপনী উৎপাদনাধীন পণ্য

হিসাবকালের শেষে অসম্পূর্ণ পণ্যে জমা হওয়া উৎপাদন ব্যয়ের মূল্য।

Cost of Goods Manufactured – সম্পন্ন উৎপাদিত পণ্যের ব্যয়

নির্দিষ্ট হিসাবকালে সম্পন্ন হওয়া পণ্যের উৎপাদন ব্যয়কে Cost of Goods Manufactured বা COGM বলে।

সূত্র: Cost of Goods Manufactured = Total Manufacturing Costs + Opening WIP − Closing WIP

উদাহরণ:

  • Total Manufacturing Costs: ১০,০০,০০০ টাকা
  • Opening WIP: ৫০,০০০ টাকা
  • Closing WIP: ৭০,০০০ টাকা

COGM = ১০,০০,০০০ + ৫০,০০০ − ৭০,০০০

Cost of Goods Manufactured = ৯,৮০,০০০ টাকা।

অর্থাৎ, হিসাবকালে সম্পন্ন হওয়া পণ্যগুলোর উৎপাদন ব্যয় ৯,৮০,০০০ টাকা।

৬. Cost of Goods Sold (COGS) – বিক্রিত পণ্যের উৎপাদন ব্যয়

প্রস্তুত পণ্যের মজুতের হিসাবের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া পণ্যের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়।

Opening Finished Goods Inventory – প্রারম্ভিক প্রস্তুত পণ্যের মজুত

হিসাবকালের শুরুতে বিক্রির জন্য প্রস্তুত অবস্থায় থাকা পণ্যের মূল্য।

Cost of Goods Manufactured – সম্পন্ন উৎপাদিত পণ্যের ব্যয়

হিসাবকালে উৎপাদন সম্পন্ন হওয়া পণ্যের ব্যয়।

Finished Goods Available for Sale – বিক্রির জন্য প্রস্তুত মোট পণ্য

প্রারম্ভিক প্রস্তুত পণ্যের মজুত ও হিসাবকালে উৎপাদিত পণ্যের ব্যয় যোগ করলে বিক্রির জন্য প্রস্তুত পণ্যের মোট মূল্য পাওয়া যায়।

সূত্র: Finished Goods Available for Sale = Opening Finished Goods Inventory + Cost of Goods Manufactured

Closing Finished Goods Inventory – সমাপনী প্রস্তুত পণ্যের মজুত

হিসাবকালের শেষে বিক্রি না হওয়া প্রস্তুতকৃত পণ্যের মূল্য।

Cost of Goods Sold – বিক্রিত পণ্যের ব্যয়

বিক্রির জন্য প্রস্তুত পণ্যের মোট মূল্য থেকে সমাপনী প্রস্তুত পণ্যের মজুত বাদ দিলে COGS পাওয়া যায়।

সূত্র: COGS = Finished Goods Available for Sale − Closing Finished Goods Inventory

এই হিসাবের মাধ্যমে বোঝা যায়, হিসাবকালে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলোর পেছনে কত উৎপাদন ব্যয় হয়েছে।

Gross Profit – মোট মুনাফা

নিট বিক্রয় থেকে বিক্রিত পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাদ দিলে Gross Profit পাওয়া যায়।

সূত্র: Gross Profit = Net Sales − Cost of Goods Sold

উদাহরণস্বরূপ, Net Sales ১২,০০,০০০ টাকা এবং COGS ৮,০০,০০০ টাকা হলে Gross Profit হবে ৪,০০,০০০ টাকা।

৭. Selling & Distribution Expenses – বিক্রয় ও বিতরণ ব্যয়

উৎপাদিত পণ্য বিক্রি, ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে ব্যয় হয়, তা এই অংশে অন্তর্ভুক্ত হয়।

Sales Staff Salaries & Benefits – বিক্রয়কর্মীদের বেতন ও সুবিধা

বিক্রয়কর্মীদের বেতন, ভাতা ও প্রযোজ্য কর্মী সুবিধার ব্যয়।

Sales Commission – বিক্রয় কমিশন

বিক্রয়ের পরিমাণ বা বিক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে বিক্রয়কর্মী, এজেন্ট বা ডিস্ট্রিবিউটরকে প্রদত্ত কমিশন।

Advertising & Promotion – বিজ্ঞাপন ও প্রচার

পণ্যের প্রচার, বিজ্ঞাপন, ক্যাম্পেইন এবং বিক্রয় বাড়ানোর কার্যক্রমের খরচ।

Delivery & Freight Outward – পণ্য সরবরাহ ও বহির্গামী পরিবহন ব্যয়

বিক্রি করা পণ্য কারখানা বা গুদাম থেকে ক্রেতার কাছে পাঠানোর খরচ।

কাঁচামাল কারখানায় আনার খরচের সঙ্গে এটি এক নয়। কাঁচামাল আনার খরচ সাধারণত উৎপাদন ব্যয়ের অংশ, আর বিক্রিত পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর ব্যয় সাধারণত বিক্রয় ও বিতরণ ব্যয়।

Warehouse & Distribution Expenses – গুদাম ও বিতরণ ব্যয়

প্রস্তুত পণ্য সংরক্ষণ, গুদাম পরিচালনা এবং বিতরণ কার্যক্রমের প্রযোজ্য ব্যয়।

Packaging for Dispatch – সরবরাহের জন্য প্যাকেজিং

প্রস্তুত পণ্য ক্রেতার কাছে পাঠানোর উপযোগী করে প্যাকেট বা মোড়কজাত করার খরচ।

পণ্যের উৎপাদনের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত প্যাকেজিংয়ের ব্যয় ইতোমধ্যে উৎপাদন খরচে অন্তর্ভুক্ত থাকলে একই ব্যয় এখানে আবার দেখাবেন না।

Total Selling & Distribution Expenses – মোট বিক্রয় ও বিতরণ ব্যয়

বিক্রয় ও বিতরণের সব প্রযোজ্য ব্যয়ের যোগফল।

৮. Administrative & General Expenses – প্রশাসনিক ও সাধারণ ব্যয়

প্রতিষ্ঠানের অফিস, প্রশাসন এবং সাধারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য যে ব্যয় হয়, তা এই অংশে দেখানো হয়।

Office Salaries & Benefits – অফিসের বেতন ও সুবিধা

হিসাব, মানবসম্পদ, প্রশাসন ও অন্যান্য অফিসকর্মীদের বেতন এবং প্রযোজ্য সুবিধার ব্যয়।

Office Rent – অফিস ভাড়া

কারখানার বাইরে অবস্থিত অফিসের জন্য প্রদত্ত ভাড়া।

Office Utilities – অফিসের ইউটিলিটি খরচ

অফিসের বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যয়।

Office Equipment Depreciation – অফিস সরঞ্জামের অবচয়

কম্পিউটার, অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য অবচয়যোগ্য অফিস সম্পদের প্রযোজ্য অবচয় ব্যয়।

Audit, Legal & Professional Fees – অডিট, আইনি ও পেশাগত ফি

অডিটর, আইনজীবী, হিসাবরক্ষক, পরামর্শক এবং অন্যান্য পেশাজীবীকে প্রদত্ত প্রযোজ্য ফি।

IT, Software & Communication – প্রযুক্তি, সফটওয়্যার ও যোগাযোগ ব্যয়

অফিসের সফটওয়্যার, ইন্টারনেট, টেলিফোন ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার প্রযোজ্য খরচ।

Bad Debt / Expected Credit Loss – অনাদায়ী পাওনা ও প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি

ক্রেতার কাছে পাওনা অর্থ আদায় না হওয়ার ঝুঁকি থেকে স্বীকৃত প্রযোজ্য ক্ষতি বা প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি।

Office Insurance – অফিসের বিমা

অফিস বা সংশ্লিষ্ট সম্পদের জন্য প্রদত্ত প্রযোজ্য বিমা ব্যয়।

Travel & Conveyance – ভ্রমণ ও যাতায়াত ব্যয়

ব্যবসার কাজে কর্মীদের ভ্রমণ, যাতায়াত এবং সংশ্লিষ্ট খরচ।

Licences, Stationery & Miscellaneous – লাইসেন্স, স্টেশনারি ও অন্যান্য ব্যয়

ব্যবসার লাইসেন্স ও নবায়ন, অফিস স্টেশনারি এবং অন্যান্য সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়।

Total Administrative Expenses – মোট প্রশাসনিক ব্যয়

উপরের সব প্রযোজ্য প্রশাসনিক ও সাধারণ ব্যয়ের যোগফল।

Total Operating Expenses – মোট পরিচালন ব্যয়

সাধারণত বিক্রয় ও বিতরণ ব্যয় এবং প্রশাসনিক ব্যয় যোগ করলে Total Operating Expenses পাওয়া যায়।

সূত্র: Total Operating Expenses = Total Selling & Distribution Expenses + Total Administrative Expenses

Operating Profit – পরিচালন মুনাফা

Gross Profit থেকে মোট পরিচালন ব্যয় বাদ দিলে Operating Profit পাওয়া যায়।

সূত্র: Operating Profit = Gross Profit − Total Operating Expenses

এটি মূল ব্যবসার কার্যক্রম থেকে অর্জিত মুনাফা নির্দেশ করে, অন্যান্য আয়, ঋণের সুদ ও আয়করের হিসাবের আগে।

৯. Other Income & Non-operating Expenses – অন্যান্য আয় ও অ-পরিচালন ব্যয়

মূল উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রমের বাইরের আয় এবং ব্যয়ের হিসাব এই অংশে করা হয়।

Interest Income – সুদ আয়

ব্যাংক আমানত বা অন্যান্য সুদ-উৎপাদনকারী উৎস থেকে অর্জিত প্রযোজ্য সুদ আয়।

Rental / Commission / Other Income – ভাড়া, কমিশন ও অন্যান্য আয়

মূল ব্যবসার বিক্রয় থেকে পৃথক প্রযোজ্য ভাড়া আয়, কমিশন আয় এবং অন্যান্য আয়।

Gain on Sale of Fixed Assets – স্থায়ী সম্পদ বিক্রির মুনাফা

যন্ত্রপাতি, গাড়ি বা অন্যান্য স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করে হিসাবভুক্ত মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে যে মুনাফা স্বীকৃত হয়।

Total Other Income – মোট অন্যান্য আয়

সুদ আয়, ভাড়া বা কমিশন আয়, সম্পদ বিক্রির মুনাফা এবং অন্যান্য অন্তর্ভুক্তিযোগ্য আয়ের যোগফল।

Loan Interest & Finance Costs – ঋণের সুদ ও অর্থায়ন ব্যয়

ব্যাংক ঋণ, অন্যান্য ঋণ এবং অর্থায়ন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রযোজ্য সুদ ও ব্যয়।

Foreign Exchange Loss – বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়জনিত ক্ষতি

বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন বা দায়ের মূল্য পরিবর্তনের ফলে স্বীকৃত প্রযোজ্য ক্ষতি।

Loss on Sale of Fixed Assets – স্থায়ী সম্পদ বিক্রির ক্ষতি

স্থায়ী সম্পদের বিক্রয়মূল্য হিসাবভুক্ত মূল্যের চেয়ে কম হলে প্রযোজ্য হিসাবনীতি অনুযায়ী যে ক্ষতি স্বীকৃত হয়।

Total Non-operating Expenses – মোট অ-পরিচালন ব্যয়

ঋণের সুদ ও অর্থায়ন ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়জনিত ক্ষতি এবং স্থায়ী সম্পদ বিক্রির ক্ষতিসহ অন্যান্য প্রযোজ্য অ-পরিচালন ব্যয়ের যোগফল।

Profit Before Tax (PBT)  কর-পূর্ব মুনাফা

Operating Profit-এর সঙ্গে অন্যান্য আয় যোগ করে অ-পরিচালন ব্যয় বাদ দিলে সাধারণভাবে Profit Before Tax পাওয়া যায়।

সূত্র: PBT = Operating Profit + Total Other Income − Total Non-operating Expenses

এই হিসাবের ভিত্তিতে আয়কর হিসাব করার আগের মুনাফা নির্ধারিত হয়।

১০. Income Tax & Net Profit – আয়কর ও নিট মুনাফা

Current Income Tax Expense – চলতি আয়কর ব্যয়

বর্তমান হিসাবকালের করযোগ্য আয় ও প্রযোজ্য করবিধি অনুযায়ী স্বীকৃত চলতি আয়কর ব্যয়।

করযোগ্য আয় এবং হিসাববিজ্ঞানের PBT সবসময় সমান হয় না। তাই শুধু PBT-এর ওপর অনুমানভিত্তিক হার প্রয়োগ করলেই সব ক্ষেত্রে সঠিক কর পাওয়া যায় না।

Deferred Tax Expense / (Income) – স্থগিত কর ব্যয় বা আয়

হিসাববিজ্ঞানের বহনমূল্য ও করের ভিত্তিতে নির্ধারিত মূল্যের সাময়িক পার্থক্যের কারণে ভবিষ্যতে করের যে প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে, তার হিসাবকে Deferred Tax বলে।

  • Deferred Tax Expense: স্থগিত কর ব্যয়।
  • Deferred Tax Income: স্থগিত কর আয় বা ব্যয়ের হ্রাস।

এই হিসাব সাধারণত প্রযোজ্য হিসাবমান অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।

Net Profit After Tax কর-পরবর্তী নিট মুনাফা

প্রযোজ্য চলতি ও স্থগিত কর হিসাবের পর অবশিষ্ট মুনাফাকে Net Profit After Tax বলে।

সাধারণ সূত্র: Net Profit After Tax = Profit Before Tax − Current Income Tax Expense − Deferred Tax Expense

যদি Deferred Tax Income থাকে, তাহলে সেটি প্রযোজ্য হিসাব অনুযায়ী কর ব্যয় কমাবে। ক্যালকুলেটরে এই অংশের সঠিক ফল নির্ভর করবে ইনপুট ও হিসাবের পদ্ধতির ওপর।

১১. ক্যালকুলেটরের ফলাফল কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

ফলাফল দেখার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল করুন।

  • Net Sales: বিক্রয় ফেরত ও ছাড় বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত নিট বিক্রয় কত হয়েছে।
  • Raw Materials Consumed: উৎপাদনে কত টাকার কাঁচামাল ব্যবহার হয়েছে।
  • Prime Cost: সরাসরি কাঁচামাল, শ্রম ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ উৎপাদন ব্যয় কত।
  • Total Manufacturing Costs: কাঁচামাল, প্রত্যক্ষ ব্যয় ও কারখানার ওভারহেড মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় কত।
  • Cost of Goods Sold: বিক্রি হওয়া পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কত।
  • Gross Profit: পণ্যের বিক্রয় থেকে বিক্রিত পণ্যের ব্যয় বাদ দেওয়ার পর কত মুনাফা হয়েছে।
  • Operating Profit: বিক্রয়, বিতরণ ও প্রশাসনিক ব্যয় বাদ দেওয়ার পর মূল ব্যবসায় কত মুনাফা হয়েছে।
  • Profit Before Tax: আয়কর হিসাবের আগে কত মুনাফা হয়েছে।
  • Net Profit After Tax: প্রযোজ্য কর হিসাবের পর কত মুনাফা অবশিষ্ট রয়েছে।

Gross Profit বেশি হলেও কারখানার ওভারহেড, প্রশাসনিক ব্যয় বা ঋণের সুদ বেশি হলে নিট মুনাফা কম হতে পারে। তাই শুধু বিক্রয় বা মোট মুনাফা দেখে ব্যবসার আর্থিক অবস্থা বিচার করা ঠিক নয়।

১২. সঠিক হিসাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

১. সব তথ্য একই হিসাবকালের হতে হবে।

২. কাঁচামাল, উৎপাদনাধীন পণ্য এবং প্রস্তুত পণ্যের মজুত আলাদাভাবে হিসাব করুন।

৩. কাঁচামাল আনার পরিবহন ব্যয় এবং প্রস্তুত পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর ব্যয় গুলিয়ে ফেলবেন না।

৪. একই খরচ একাধিকবার গণনা করবেন না। যেমন, উৎপাদন শ্রমিকের বেতন Prime Cost-এ অন্তর্ভুক্ত হলে সেটি আবার Factory Overhead-এ যোগ করা যাবে না।

৫. কারখানার ব্যয় ও অফিসের ব্যয় যথাসম্ভব আলাদা রাখুন।

৬. মজুত পণ্যের মূল্যায়ন প্রযোজ্য হিসাবনীতি অনুযায়ী করুন।

৭. স্থায়ী সম্পদ কেনার সম্পূর্ণ মূল্য সাধারণত একবারে অবচয় ব্যয় হিসেবে দেখানো হয় না; প্রযোজ্য হিসাবনীতি অনুযায়ী অবচয় নির্ধারণ করতে হয়।

৮. ব্যবসার মালিকের ব্যক্তিগত উত্তোলনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় হিসেবে ধরবেন না।

৯. কর ও স্থগিত করের হিসাব প্রয়োজন হলে যোগ্য হিসাবরক্ষক বা কর পরামর্শকের সাহায্য নিন।

Disclaimer

খান গাইডেন্স এর এই ক্যালকুলেটরটি উৎপাদনকারী ব্যবসার লাভ-ক্ষতি হিসাব ও প্রাথমিক আর্থিক বিশ্লেষণে সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর ফলাফল আপনার দেওয়া তথ্য, মজুত মূল্যায়ন, ব্যয় শ্রেণিবিন্যাস এবং ব্যবহৃত হিসাবপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। এটি নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, কর নির্ধারণ বা পেশাদার হিসাবরক্ষণ সেবার বিকল্প নয়। গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হিসাবের তথ্য যাচাই করুন ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular