চীনকে বলা হয় বিশ্বের পত্র প্রডাকশন হাউজ। এমন কোন পণ্য নেই যে তারা উৎপাদন করে না। তাই চীন থেকে আমদানি করে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ব্যবসায়ীরা তাদের নিজেদের দেশে ব্যবসা করছে।
আজকের এই লেখায় কিভাবে চীন থেকে আমদানি করবেন, কেমন খরচ হবে, কি কি ডকুমেন্টস লাগবে, কিভাবে পেমেন্ট করবেন তার বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
চীন থেকে আমদানি করার স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন
চীন থেকে আমদানি ব্যবসা শুরু করতে চাইলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
১.গবেষণা ও পণ্য নির্বাচন
চীন হচ্ছে বিশ্বের উৎপাদন ক্ষেত্র। এখানে লাখো ধরণের পণ্যের বিশাল সমারোহ আছে। কিন্তু আপনি কোন ধরণের পণ্য নিয়ে ব্যবসা করবেন সেটা আপনাকে প্রথমেই ঠিক করতে হবে। এজন্য আপনাকে পণ্য নিয়ে গবেষণা করতে হবে ও সম্ভাবনা যাচাই করতে হবে।
কিছু পণ্য আছে যেগুলো বাংলাদেশে বেশি চলে। যেমন:
- ইলেকট্রনিক্স (মোবাইল এক্সেসরিজ, চার্জার, হেডফোন ইত্যাদি)
- প্লাস্টিক পণ্য (বালতি, মগ, কনটেইনার ইত্যাদি)
- গৃহস্থালী পণ্য (জগ, থালা, বাটি ইত্যাদি)
- ফ্যাশন আইটেম (ঘড়ি, ব্যাগ, জুতা ইত্যাদি)
- কসমেটিক্স ও বিউটি পণ্য
আপনি চাইলে এসব পণ্যের কোন একটা নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে পণ্য বাছাইয়ের সময় লক্ষ্য রাখুন:
- বাজার চাহিদা
- প্রতিযোগিতা
- মূল্য ও প্রফিট মার্জিন
- শুল্ক ও আমদানি কর
আপনি যে এলাকায় ব্যবসা করবেন সে এলাকায় এই পণ্যের চাহিদা আছে কিনা তা যাচাই করে নিন। আপনার প্রতিযোগীদের সাথে আপনি কিভাবে প্রতিযোগিতা করবেন সে ব্যপারে কিছু পরিকল্পনা করে নিন।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমদানি সংক্রান্ত সকল খরচ বহন করে আপনি যে মূল্যে বিক্রয় করবেন সেটি বর্তমান মার্কেটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা দেখে নিন।
মার্কেট যাচাই না করে কোন পণ্য আমদানি করবেন না। কারণ চীনে যে পণ্য ১০০ টাকা সেটা সকল খরচ যোগ করার পর কয়েকগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তাই ভাল করে হিসেব করে আমদানি করবেন তাহলে লসে পড়বেন না।
২. প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও কাগজপত্র সংগ্রহ
আপনি যদি কোন ই-কমার্স সাইট থেকে অল্প পরিমাণে পণ্য ক্রয় করে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে চান তাহলে কিছু লাগবে না। আপনি পণ্য সিলেক্ট করে শিপিং ঠিক করে পেমেন্ট করবেন তাহলেই পণ্য দেশে চলে আসবে।
কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চীন থেকে পণ্য আমদানি করতে হলে বেশ কিছু ডকুমেন্টস লাগবে। এসব ডকুমেন্টস এর মধ্যে রয়েছে:
- ট্রেড লাইসেন্স
- টিআইএন (TIN)
- ভ্যাট (VAT) রেজিস্ট্রেশন
- আইআরসি (IRC) Import Registration Certificate
- ব্যাংক একাউন্ট
- প্রোফর্মা ইনভয়েজ
৩. সাপ্লায়ার খোঁজা এবং যাচাই
চীন থেকে আমদানি ব্যবসায় বিদেশি সাপ্লায়ার খুঁজে বের করা হচ্ছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ভাল সাপ্লায়ার খুঁজে বের করা অনেক কঠিন বিষয়। নতুন আমদানিকারকদের এই বিষয়ে অনেক বেগ পেতে হয়।
তাই ভাল সাপ্লায়ার খোঁজার জন্য আপনি বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটের সাহায্য নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আমি বলবো Alibaba, 1688.com, Made-in-China.com থেকে সাপ্লায়ার খুঁজুন। ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।
সাপ্লায়ারকে যাচাই করার জন্য তাদের ব্যবসায়ীক ইতিহাস চেক করতে পারেন। কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন, কত বছর যাবত তারা ব্যবসা করছে, অফিস আছে কিনা, কর্মীর সংখ্যা ইত্যাদি জানার চেষ্টা করুন।
Wechat / WhatsApp এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। ভিডিও কলে কারখানার দেখাতে বলুন। গোল্ড সাপ্লায়ার ট্যাগ বিশিষ্ট বিক্রেতা থেকে পণ্য ক্রয় করার চেষ্টা করুন কারণ তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি থাকে।
আরও পড়ুনঃ
- সুপারশপ ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে? ডেকোরেশন টিপস।
- কিভাবে একটি নতুন কোম্পানি খুলবেন? স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন।
৪. পেমেন্ট প্রদান এবং চালান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা
সাপ্লায়ারের সাথে সবকিছু ঠিক হওয়ার আপনাকে পেমেন্ট প্রদান করতে হবে। ই-কমার্স সাইট থেকে অল্প পরিমাণে ক্রয় করলে ডুয়েল কারেন্সি সাপোর্ট করে এমন ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়েই পেমেন্ট করতে পারবেন। ক্ষেত্র বিশেষে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমেও পেমেন্ট দেওয়া যায়।
আর বড় আকারে আমদানি করলে আপনাকে ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি করে আমদানি করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকে গিয়ে সকল ডকুমেন্টস (উপরে উল্লেখিত) দিয়ে এলসি করতে হবে। এলসি করার পর আমদানি প্রক্রিয়া শেষ হলে ব্যাংক পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
পেমেন্ট সম্পন্ন করার পর পণ্য আনার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এটাকে শিপমেন্ট বলে। শিপমেন্ট পদ্ধতির মধ্যে রয়েছেঃ
CIF (Cost, Insurance & Freight) এটি এমন চুক্তি যেখানে সাপ্লায়ার পণ্য উৎপাদন করবে, প্যাকিং করবে, চীনের বন্দর থেকে জাহাজে পণ্য তুলে দিবে, শিপমেন্ট ইনস্যুরেন্সও করে দিবে। জাহাজে উঠানোর পর থেকে ঝুঁকি (risk of loss or damage) আমদানিকারকের অর্থাৎ আপনার।
আপনি কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স নিয়ে পণ্য গ্রহণ করবেন। আপনি নতুন হলে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারেন।
FOB (Free on Board) এটি এমন চুক্তি যেখানে সাপ্লায়ার পণ্য উৎপাদন করবে, প্যাকিং করবে, লোকাল ট্রান্সপোর্টে বন্দরে নিয়ে যায় এবং জাহাজে তুলে দেয়ার আগ পর্যন্ত সব দায়িত্ব পালন করবে। এরপর সব দায়িত্ব আমদানিকারকের অর্থাৎ আপনার।
আপনি জাহাজ ভাড়া করবেন, ইন্সুরেন্স করবেন, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স নিয়ে পণ্য নিজের গুদামে পরিবহণ করবেন। সাধারণ আমদানিতে অভিজ্ঞরাই এই পদ্ধতিতে আমদানি করে।
৫. কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং শুল্ক প্রদান
বাংলাদেশে পণ্য ঢুকানোর আগে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স লাগবে। এজন্য C&F এজেন্ট এর প্রয়োজন হবে। এজেন্টই ক্লিয়ারেন্স ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
আপনাকে যেসব শুল্ক দিতে হবে তার মধ্যে রয়েছেঃ
- আমদানি শুল্ক (Import Duty)
- সম্পূরক শুল্ক
- VAT
- AIT (Advance Income Tax)
বাংলাদেশ কাস্টমস ওয়েবসাইট থেকে পণ্যের HS Code দিয়ে ডিউটি রেট জানা যায়।
৬. পণ্য গ্রহণ করা ও বিপণন
কাস্টমস ফর্মালিটি শেষ করার পর আপনার হাতে চূড়ান্তভাবে পণ্য চলে আসবে। হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি শুধু অনলাইনেই পণ্য দেখে থাকবেন।
যাই হোক পণ্য পাওয়ার পর আপনার কাজ হবে গুদাম বা দোকানে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা ও বিপণন কৌশল ব্যবহার করে বিক্রয়ের চেষ্টা করা।
কিছু বাস্তব টিপস
- চীনে সরাসরি না গিয়ে প্রথমে ছোট অর্ডার দিয়ে শুরু করুন।
- প্রতিটি চালানে ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, বিল অব লেডিং, সার্টিফিকেট অফ অরিজিন সংগ্রহ করে রাখুন।
- ট্রান্সপোর্ট ডিলারদের রিভিউ দেখে বেছে নিন।
- কাস্টমস আইন ও আমদানি নীতিমালার আপডেট রাখুন।
চীন থেকে আমদানি করতে শিপিং খরচ কেমন?
চীন থেকে বাংলাদেশে আমদানি করতে হলে আপনাকে শিপিং খরচের বিষয়টি সবার আগে ভাবতে হবে।আমদানিকারকদের বিশেষ করে নতুন আমদানিকারকরা শিপিং খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন।
পুরাতনদের দুশ্চিন্তা হচ্ছে কখন শিপিং খরচ বেড়ে যায় আর নতুন আমদানিকারকদের শিপিং খরচ নিয়ে ধারণা না থাকার কারণে আমদানি বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়।
বর্তমানে (ডিসেম্বর ২০২৫ আপডেট) চীন থেকে বাংলাদেশে আমদানি করতে হলে আপনাকে ২০ ফুট কন্টেনারের জন্য প্রায় ৯০০ ডলার খরচ করতে হবে এবং ৪০ ফুট কন্টেনারের জন্য ১১৮০ ডলার খরচ করতে হবে।
বিমান যোগে আমদানির ক্ষেত্রে ১০০০ কেজি+ হলে প্রতি কেজি ৪.৫০ ডলার। (সূত্রঃ সিনো শিপিং)। তবে প্রতিষ্ঠান ভেদে এই রেট কম বা বেশি হতে পারে।
যারা একেবারে ছোট আমদানিকারক তাদের জন্য রয়েছে LCL (Less than Container Load) পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে আপনি per CBM (Cubic Meter) হিসেবে পণ্য পাঠাতে পারবেন। হিসেব হবে
Length x Width x Height (in meters) অনুসারে। per CBM আপনি বর্তমান রেট অনুসারে ৭২
ইউএস ডলারে পাঠাতে পারবেন।
তবে সবচেয়ে দ্রুতগতির এক্সপ্রেস শিপিং ট্যাক্স, ডিউটি, এবং কাস্টমস ফিসহ প্যাকেজের সাইজ এবং ওজন ভেদে ৫০ থেকে ১০০ ডলার হতে পারে।
বিখ্যাত শিপিং কোম্পানি সিনো শিপিং তাদের ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সি ফ্রেইট এবং এয়ার কার্গো শিপিং কস্ট গ্রাফের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।


সমুদ্র পথে চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য আসতে ১২-১৬ দিন সময় লাগে। বিমানযোগে ঢাকায় পণ্য আসতে ৩-৫ দিন সময় লাগে। এক্সপ্রেস শিপিং ৩-৫ দিন। তবে কাস্টমস এবং বন্দরের অবস্থার কারণে সময়ের তারতম্য হতে পারে।
শিপিং খরচের সাথে জ্বালানি সার চার্জ ১০-১৫%, কাস্টমস ডিউটি পণ্যভেদে ৫%-৪০% এবং বন্দর খরচ, ডকুমেন্টেশন খরচ, হ্যান্ডলিং চার্জ ইত্যাদি যোগ হবে।
| পণ্য | কাস্টমস ডিউটি (%) |
| কনজুমার ইলেক্ট্রনিক্স | ১০ |
| টেক্সটাইল | ১৫ |
| মেশিনারিজ | ৫ |
| প্লাস্টিক পণ্য | ২৫ |
| অটোমোবাইল পার্টস | ২০ |
| পাদুকা | ১৫ |
| কৃষি পণ্য | ৫ |
| ফার্মাসিউটিক্যালস | ১০ |
সময়ের সাথে সাথে শিপিং খরচসহ ট্যাক্স ডিউটি ভ্যাট সবকিছু পরিবর্তন হতে পারে তাই আপনাকে আপডেট থাকতে হবে।
আরও পড়ুনঃ
কিভাবে চীনা বিক্রেতাদের সাথে প্রাইস নেগোসিয়েশন করবো?
যেকোন ব্যবসায় লাভ করতে হলে আপনাকে কেনার সময় লাভ করতে হবে। কেনার সময় লাভ করতে বুঝায় যে পণ্যটি আপনার প্রতিযোগী ব্যবসায়ী ১০০ টাকা দিয়ে কিনেছে সেটাকে আপনি যদি ৯০ বা ৯৫ টাকায় কিনতে পারেন তাহলে আপনি তার চেয়ে অনেক এগিয়ে গেলেন।
যেহেতু আপনি কেনার সময় আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে কম দামে কিনতে পেরেছেন তাহলে বিক্রয়ের সময় আপনি কিছু কম দামে বাজারে ছাড়তে পারবেন। আর কম দাম পেলে আপনার কাছে প্রচুর কাস্টমার আসবে।
চীন থেকে আমদানি করার আগে চীনা বিক্রেতাদের সাথে প্রাইস নেগোশিয়েশন করার সময় কিছু কৌশল মেনে চললে আপনি ভালো দাম পেতে পারেন এবং এর ফলে সাপ্লায়ারের সাথে সম্পর্কও ভালো রাখতে পারবেন। নিচে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি দিলাম:
১. আলোচনার আগে প্রস্তুতি
প্রথমেই আপনাকে বাজার নিয়ে কিছু রিসার্চ করতে হবে। যেমন একই পণ্যের দাম একাধিক সাপ্লায়ারের কাছ থেকে জেনে নিন।
এছাড়া বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস Alibaba, Made-in-China, 1688.com ইত্যাদি মার্কেটপ্লেস থেকে প্রাইস তুলনা করে দেখেন কোথায় আপনার চাহিদার পণ্যটির দাম সবচেয়ে কম।
MOQ বুঝে নিন। MOQ (Minimum Order Quantity) কম রাখলে দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। বড় অর্ডারে দাম কমানোর সুযোগ বেশি।
২. প্রথম যোগাযোগে কৌশলী হোন
প্রথমবার যোগাযোগ করার সময় আপনাকে কৌশলী হতে হবে। প্রথম মেসেজে এভাবে লিখতে পারেন:
Hi, I’m from Bangladesh. I’m interested in your [product name].Can you please give me:- Best price for 100/1000 pcs- MOQ and price breaks for higher quantities- Shipping cost to Chittagong port- Can you offer private labeling?
যেহেতু আপনি সরাসরি দাম ও শিপিং খরচ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন তাই তারা বুঝবে আপনি ক্রয়ের বিষয়ে সিরিয়াস।
নেগোশিয়েশন করার সময় দাম কমানোর জন্য যা বলতে পারেন:
“What is your bottom price if I order 2000 pcs?”
“If I make repeated orders every month, can you give better price?”
“I received better offer from another supplier at $0.85 — can you match or beat that?”
৩. বোনাস ও ডিসকাউন্ট চাইতে পারেন
দামাদামি করার এক পর্যায়ে আপনি বোনাস ও ডিসকাউন্ট চাইতে পারেন। তবে এই বিষয়ে বেশি চাপাচাপি করা ঠিক হবে না।
স্বাভাবিকভাবে চাইবেন সাপ্লায়ার যদি ঠিক মনে করে তাহলে সে আপনার প্রস্তাবে সাড়া দিবে। যেভাবে বলতে পারেন:
“Can you include 50 extra pieces free?”
“Free logo printing possible for first order?”
“Can you provide faster shipping or better packaging at same price?”
ভদ্রভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পারেন। যেমন:
“Your quality looks great, but I’m a startup and I want to build a long-term partnership.
If you help me with a better price on the first order, I will reorder monthly.”
এভাবে বললে সাপ্লায়ার বুঝবে আপনি লং-টার্ম ক্লায়েন্ট হতে পারেন। তাই তারা আপনার প্রস্তাব মেনে নিতে পারে।
কিছু দরকারি বাক্য ও এক্সপ্রেশন (Negotiation phrases) মনে রাখুন
| ইংরেজি বাক্য | ব্যবহার |
| “Can you give me your best price?” | শুরুতেই |
| “What is your MOQ for private label?” | নিজস্ব ব্র্যান্ডের জন্য |
| “That price is a bit high for my market.” | দাম বেশি বোঝাতে |
| “I got a better offer — can you match it?” | বিকল্প দেখিয়ে দাম কমানো |
| “Let’s do a trial order first.” | ছোট অর্ডার দিয়ে শুরু |
আলোচনার সময় যেসব বিষয় এড়িয়ে চলবেনঃ
- খুব বেশি চাপ দিয়ে দাম কমাতে চাইলে সাপ্লায়ার ইন্টারেস্ট হারাতে পারে,
- একসাথে সব দরকষাকষি করবেন না (ধাপে ধাপে আলোচনা করেন),
- কোনো কিছু যাচাই না করে বিক্রেতা দাম বললেই রাজি হয়ে যাবেন না,
চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্য কাস্টমস থেকে ছাড় করানোর প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে আমদানি করা পণ্য আসার পর পণ্য ছাড় করানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় Customs Clearance। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ এই প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে করতে না পারলে আপনার পণ্য আটকে যেতে পারে বা অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।
চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্য কাস্টমস থেকে ছাড় করানোর পুরো প্রক্রিয়া নিম্নরূপ:
১. সাপ্লায়ারের কাছ থেকে ডকুমেন্টস সংগ্রহ
চীন থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া শেষে পণ্যটি দেশে পৌঁছালে শিপিং কোম্পানি বা ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার আপনাকে Bill of Lading (BL), Packing List, Commercial Invoice ইত্যাদি দেবে। এসব কাগজ কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য লাগবে।
২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
পণ্য ছাড়করণের জন্য আপনাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হবে।
নিচের ডকুমেন্টগুলো দরকার হবে:
| Commercial Invoice |
| Packing List |
| Bill of Lading (BL) |
| LC বা TT কপি |
| Import Registration Certificate (IRC) |
| BIN Number |
| Trade License |
| BSTI/Drug License (যদি প্রযোজ্য) |
৩. একটি C&F (Clearing & Forwarding) এজেন্ট নিয়োগ করুন
পণ্য ছাড়করণের জন্য আপনাকে একটি সি এন্ড এফ এজেন্ট নিয়োগ করতে হবে। তাদের কাছে উপরের ডকুমেন্টস দিলে তারাই আপনার সবকিছু করে দিবে। মূলত সি এন্ড এফ এজেন্টের কাজ হচ্ছে:
- কাস্টমস ডিউটি হিসাব করা
- BE (Bill of Entry) সাবমিট করা
- পণ্য ছাড়ের জন্য কাগজপত্র তৈরি
- বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং
কাস্টমস ডিউটি পরিশোধ করার পর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর কাস্টমস থেকে আপনি পণ্য ছাড় করাতে পারবেন। তবে এর আগে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কাস্টমস ইন্সপকশন করতে পারে।
আনুমানিক সময়ঃ
| ধাপ | আনুমানিক সময় | মন্তব্য |
| কাগজপত্র প্রস্তুতি | ১ দিন | আগেই প্রস্তুত থাকলে দ্রুত হয় |
| BE সাবমিশন ও ডিউটি পেমেন্ট | ১-২ দিন | সিস্টেম নির্ভর |
| কাস্টমস পরিদর্শন | ১ দিন | Green/Red Channel নির্ভর |
| রিলিজ ও পোর্ট থেকে পণ্য তোলা | ১-২ দিন | সার্ভিস ও ট্রাফিক এর নির্ভর করবে। |
আমদানি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেকলিস্ট (Import Documents Checklist)
| ক্রম | ডকুমেন্টস | ব্যাখ্যা |
| ১ | Proforma Invoice (PI) | সাপ্লায়ারের কাছ থেকে নেওয়া কোটেশন/অফার যেখানে পণ্যের ইউনিট মূল্য, পরিমাণ, মোট মূল্য ইত্যাদি থাকে। |
| ২ | Commercial Invoice | এটা হচ্ছে মূল চালান। প্রোডাক্ট মূল্য, পরিমাণ উল্লেখ, শিপমেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত থাকে। |
| ৩ | Packing List | কোন বক্সে কী আছে, ওজন ও পরিমাণসহ। |
| ৪ | Bill of Lading (BL) বা Air Waybill | শিপমেন্ট ডকুমেন্ট (FOB/EXW/CIF অনুযায়ী) |
| ৫ | Certificate of Origin | পণ্যটি কোন দেশে তৈরি তার প্রমাণ। |
| ৬ | HS Code | কাস্টমস পণ্যের শ্রেণিকরণ বুঝায়। |
| ৭ | Import Registration Certificate (IRC) | বাংলাদেশে আমদানি করার অনুমোদনপত্র। |
| ৮ | TIN ও VAT রেজিস্ট্রেশন | কর ও ভ্যাটদাতার প্রমাণ। |
| ৯ | LC/TT পেমেন্ট ডকুমেন্টস | ব্যাংক ট্রান্সফার বা LC পেমেন্ট এর জন্য প্রয়োজন। |
| ১০ | Insurance Certificate (ঐচ্ছিক) | যদি ইনস্যুরেন্স করে থাকে তাহলে প্রয়োজন। |
| ১১ | Delivery Order (DO) | শিপিং এজেন্ট থেকে চালান ছাড়ের কাগজ। এর মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন কার্গো থেকে মাল গন্তব্যে ডেলিভারি করা হয়েছে। |
| ১২ | Customs Bill of Entry | কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ডকুমেন্ট অর্থাৎ পণ্যটি দেশে প্রবেশ করেছে এবং কাস্টমস তা অনুমোদন করে অনুমোদন পত্র প্রদান করেছে। |
উপসংহার
বাংলাদেশে চীন থেকে আমদানি করার উপরের স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইনটি অনুসরণ করলে আপনি খুব সহজেই চীন থেকে দেশে এনে ব্যবসা করতে পারেন।
তবে আমদানি ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই ভালভাবে সবকিছু জেনে বুঝে শুরু করতে হবে। চীনের যে দাম পাচ্ছেন সেটা দেশে আসা পর্যন্ত সকল খরচ যোগ করে এবং লাভের মার্জিন যোগ করার পর দাম অনেক বেড়ে যাবে।
এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এর পাশাপাশি ফরেন কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেট এর বিষয়টি খুব সেনসিটিভ। হঠাৎ কারেন্সি রেট বেড়ে যেতে পারে। তাই ক্রয় চুক্তির আগেই বিষয়টি নিয়ে সাপ্লায়ারের সাথে স্পষ্টভাবে কথা বলে কারেন্সি রেট ঠিক করতে হবে।