HomeBusiness Guidelinesকুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করার স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করার স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা এখন বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা। এর বড় একটা কারণ হচ্ছে বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসার পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অনলাইনে কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ার কারণে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মালামাল ডেলিভারি দেওয়ার চাহিদা বেড়ে গেছে। সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস, এস এ পরিবহন এর মত বড় বড় কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি এই বিপুল চাহিদা মেটাতে পারছে না।

যার কারণে দ্রুত মালামাল ডেলিভারি দেওয়ার জন্য জেলা বা বিভাগভিত্তিক বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি গড়ে উঠেছে।

আপনিও যদি কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে আজকের এই লেখাটি আপনার জন্য। কিভাবে কুরিয়ার সার্ভিস লাইসেন্স সংগ্রহ করবেন, কিভাবে ব্যবসাটি শুরু করবেন, কিভাবে দাম নির্ধারণ করবেন ইত্যাদি বিষয় জানতে পারবেন এই লেখায়।

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা কী?

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা হলো ডকুমেন্ট, পার্সেল, পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিরাপদ ও দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার একটি সেবাভিত্তিক ব্যবসা।

এই সেবা হতে পারে একই শহরের ভেতর, একই বিভাগের ভেতর বা সারাদেশ ভিত্তিক।

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসার ধরণ

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসার বেশ কিছু ধরণ বা মডেল রয়েছে। আপনি যেকোনো একটি বা একাধিক মডেলে শুরু করতে পারেন। এসব ধরণের মধ্যে রয়েছে:

লোকাল কুরিয়ার

সাধারণ ছোট আকারে যারা এই ব্যবসা শুরু করতে চায় তারা প্রথমে লোকাল কুরিয়ার দিয়েই শুরু করে। নির্দিষ্ট শহরের ভেতর খাবার, ফাইল, ছোট পার্সেল বাইক/সাইকেল দিয়ে ডেলিভারি দেওয়া হয়।

ইন্টারসিটি কুরিয়ার

শুধুমাত্র সিটি এরিয়াতে মালামাল ডেলিভারি দেওয়া হয়। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় সিটিগুলোকে টার্গেট করে ইন্টারসিটি কুরিয়ার সার্ভিস দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ট্রাকের মত বড় পরিবহন ব্যবহার করতে হয়।

ই-কমার্স কুরিয়ার

ই-কমার্স ব্যবসার প্রসারের কারণে এই ধরণের কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা জনপ্রিয় হচ্ছে। অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসাকে টার্গেট করে এই ধরণের কুরিয়ার সার্ভিস পরিচালনা কর হয়।

এই মডেলে ক্যাশ অন ডেলিভারি, রিটার্ন ম্যানেজমেন্ট, অনলাইন মার্চেন্ট সাপোর্ট ইত্যাদি বিষয়ে ফোকাস করা হয়।

ফ্র্যাঞ্চাইজি কুরিয়ার

সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস এজেন্ট, এস এ পরিবহন বা পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিস এজেন্ট হিসেবে আপনি ব্যবসা করতে পারেন।

ফ্র‍্যাঞ্চাইজি হিসেবে আপনি কোম্পানি থেকে সব ধরণের লজিস্টিক সাপোর্ট পাবেন। বিক্রয় প্রতি কমিশন আপনার মূল আয়ের পথ হবে। যত বেশি পার্সেল ডেলিভারি দিতে পারবেন আপনার আয় তত বাড়বে।

আরও পড়ুন: রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করার জন্য যেভাবে পরিকল্পনা করলে সফল হবেন

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করার ধাপ

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

ধাপ–১: মার্কেট রিসার্চ করুন

এই ধরণের ব্যবসায় নামার আগে ভাল কতে মার্কেট রিসার্চ করে তারপর শুরু করুন। আপনি যদি সারাদেশব্যাপী কুরিয়ার ব্যবসা করতে চান তাহলে দেশের মার্কেট সাইজ ও মানুষের চাহিদা কেমন সে বিষয়ে জানতে হবে।

আপনার প্রতিযোগিদের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকতে পারবেন কিনা সেজন্য তাদের ও আপনার সক্ষমতা যাচাই করুন। কিভাবে আপনি মার্কেট শেয়ার বাড়াবেন সে বিষয়ে স্ট্র‍্যাটেজি ঠিক করুন।

ছোট পরিসরে শুরু করলে নিজ এলাকার জনসংখ্যা কেমন ও তারা কি পরিমাণ অনলাইনে কেনাকাটা করে সে বিষয়ে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করুন।

ক্রেতার পরিমান বেশি থাকলে এই ধরণের ব্যবসার সুযোগ বেশি। কিভাবে সার্ভিস দিলে মানুষের মন জয় করতে পারবেন সে বিষয়ে ভাল করে পরিকল্পনা করুন।

বাংলাদেশে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো নিয়ে ভাল করে রিসার্চ করে নিন। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছেঃ

  • সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস
  • এসএ পরিবহন
  • পাঠাও কুরিয়ার
  • রেডএক্স ডেলিভারি
  • eCourier
  • ডেলিভারি টাইগার
  • করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিস
  • CarryBee
  • জননী এক্সপ্রেস

ধাপ–২: বিজনেস মডেল ঠিক করা

আপনি কোন মডেল নিয়ে ব্যবসা করবেন তা ঠিক জরুন। মডল অনুযায়ী আপনাকে প্রস্তুতি নিতে হবে।

আপনি চাইলে অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য প্রথমদিকে ফ্র‍্যাঞ্চাইজি হিসেবে শুরু করতে পারেন। অভিজ্ঞতা অর্জন আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা দিবে।

এছাড়া উপরে উল্লেখিত অন্যান্য মডেল নিয়েও ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

ধাপ–৩: লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন

কুরিয়ার সার্ভিস চালানোর জন্য আপনার কুরিয়ার সার্ভিস লাইসেন্স লাগবে৷ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের (MOCSLA) নিকট লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হয়।

আবেদন করার সময় আপনার যেসব ডকুমেন্টস লাগবে:

  • ট্রেড লাইসেন্স,
  • TIN সার্টিফিকেট
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
  • কোম্পানির/প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য (নাম, ঠিকানা, যোগাযোগ, মালিকানা/শেয়ারহোল্ডারদের বিবরণ)।
    ব্যবসায়িক পরিকল্পনা।
  • সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে),
  • ম্যামেরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন ও আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে),
  • মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এর মেম্বারশিপ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে),
  • বোর্ড রেজুলেশন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে),
  • বার্ষিক সাধারণ সভা বা বিশেষ সভার বিবরণ(প্রযোজ্য ক্ষেত্রে),
  • অডিটেড ফাইনান্সিয়াল স্ট্যাটমেন্ট,
  • প্রধান কার্যালয় ও বুকিং/ডেলিভারি অফিসের ঠিকানা। প্রধান কার্যালয় নিজের জমির উপর হলে মালিকানা দলিলাদি,
  • গুদাম ও পরিবহন ব্যবস্থার বিবরণ।
  • লোকবলের তালিকা,
  • ফ্র্যাঞ্চাইজি/যৌথ বিনিয়োগ হলে তার চুক্তিপত্র,
  • প্রস্তাবিত রেট কার্ড ও ডেলিভারি সময়সীমা।
  • বীমার প্রমাণপত্র

আবেদন প্রক্রিয়া:
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনস্থ মেইলিং অপারেটর ও কুরিয়ার সার্ভিস লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের (MOCSLA) ওয়েবসাইটে নতুন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে।

ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনপত্রটি পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিন।

আবেদন করার পর কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করবে এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে লাইসেন্স প্রদান করবে।

৪. অফিস ও অবকাঠামো

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা পরিচালনার জন্য আপনার একটি অফিস লাগবে৷ অফিসে যা থাকবে:

  • গোডাউন
  • কম্পিউটার ও প্রিন্টার
  • ইন্টারনেট
  • ওজন মাপার মেশিন
  • র‍্যাক/শেলফ
  • পার্সেল প্যাকিং সামগ্রী

আপনি যদি ইন্টারসিটি বা দেশব্যাপী শুরু করতে চান তাহলে আপনাকে বিভিন্ন স্থানে সাব-অফিস খুলতে হবে। সেসব অফিসও প্রয়োজন অনুসারে সাজাতে হবে এবং লোকবল নিয়োগ দিতে হবে।

৫. ডেলিভারি সিস্টেম সেটআপ

অফিস স্থাপন করা হয়ে গেলে আপনাকে ডেলিভারি সিস্টেম সেটআপ করতে হবে। একই শহরের ভেতরে ডেলিভারি দিতে হলে বাইক / সাইকেল / ভ্যান কিনে ফেলুন।

ইন্টারসিটি ডেলিভারি করতে হলে ট্রাক কেনা লাগবে৷ রিমোট এরিয়াতে ডেলিভারি দেওয়ার জন্য লোকাল এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে। ডেলিভারি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ডেলিভারি ম্যান নিয়োগ দিন।

৬. সফটওয়্যার ও ট্র্যাকিং সিস্টেম

আধুনিক সেবা দিতে হলে আপনাকে সফটওয়্যার ও ট্র‍্যাকিং সিস্টেম ডেভেলপম করতে হবে। সফটওয়্যার দিয়ে আপনি সকল মালামালের হিসাব, আর্থিক হিসাব ইত্যাদি খুব সহজেই দ্রুত করতে পারবেন।

ট্র‍্যাকিং সিস্টেম দিয়ে ডেলিভারি কোন পর্যায়ে আছে তা জানা যায়। গ্রাহকরা এই ধরণের সিস্টেম খুব পছন্দ করে। এটি গ্রাহকদের মাঝে বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন: কিভাবে অল্প পুঁজিতে গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসা শুরু করবেন?

৭. প্রাইসিং ও চার্জ নির্ধারণ

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমনভাবে চার্জ নির্ধারণ করতে হবে যেন অন্যান্য প্রতিযোগিদের চেয়ে বেশি না হয় আবার ক্ষতির শিকার না হয়।

কুরিয়ার চার্জ সাধারণত ৫টি বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হচ্ছে:

ডেলিভারির দূরত্ব : দুরত্ব দাম নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে। দূরত্ব যত বেশি, চার্জ তত বেশি হয়।

পার্সেলের ওজন: পার্সেলের ওজন হিসাব করে কুরিয়ার সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়। এটি সাধারণত স্ল্যাব ভিত্তিক হয়। যেমনঃ

ওজন চার্জ
০–৫০০ গ্রাম বেসিক রেট
৫০০ গ্রাম – ১ কেজি বাড়তি চার্জ
১–২ কেজি আরও বাড়তি
২ কেজির বেশি প্রতি কেজিতে আলাদা চার্জ

অনেক কুরিয়ার ভলিউমেট্রিক ওজন (Length × Width × Height ÷ 5000) হিসাবেও চার্জ নেয়।

সার্ভিস টাইপ: সার্ভিস টাইপ অনুসারেও অনেকে চার্য নিয়ে থাকে। নরমাল ডেলিভারিতে চার্জ কম। এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে চার্জ বেশি। একই দিনে ডেলিভারি দিলেও চার্জ বেশি।

রিটার্ন রিস্ক: রিটার্ন বেশি হলে চার্জের পরিমাণ বাড়ে। কিছু কুরিয়ার রিটার্ন চার্জ আলাদা নেয়।

এলাকা ভিত্তিক খরচ: দুর্গম এলাকা, দ্বীপ/চর/হাওর/পাহাড়ি অঞ্চল হলে চার্জের পরিমাণ বেশি হবে।

কুরিয়ার সার্ভিসের সাধারণ প্রাইসিং কাঠামো

লোকাল (ঢাকার ভিতরে): ৬০ – ১০০ টাকা
ঢাকা → জেলা: ১৩০ – ১৮০ টাকা (১ কেজি পর্যন্ত)
জেলা → ঢাকা: ১০০ – ১৫০ টাকা

COD চার্জ হবে ১% – ২% (মিনিমাম ১০–২০ টাকা)

৮. এজেন্ট নিয়োগ

সাধারণ বড় কুরিয়ার সার্ভিস হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগ করতে হয়। কুরিয়ার সার্ভিস এজেন্টরা আপনার ব্যবসা বাড়াতে অনেকে সাহায্য করবে।

তারাই আপনার জন্য কাস্টমার নিয়ে আসবে৷ আপনার কাজ হচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিস এজেন্টদের কমিশনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা।

এজেন্টদের কাজসমূহ হচ্ছেঃ

  • পার্সেল গ্রহণ ও রেজিস্ট্রেশন
  • ওজন ও চার্জ নির্ধারণ
  • কনসাইনমেন্ট রসিদ দেওয়া
  • পার্সেল সঠিক ব্রাঞ্চে পাঠানো
  • আগত পার্সেল গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর
  • COD (যদি অনুমোদিত হয়) ম্যানেজমেন্ট
  • ডেলিভারি রিপোর্ট রাখা

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করতে কেমন খরচ হয়?

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করতে কেমন খরচ হবে সেটা নির্ভর করবে আপনার ব্যবসার পরিধি, স্থান ও লজিস্টিক ব্যবহারের পরিমাণের উপর।

নিচে ছোট আকারের একটি কুরিয়ার সার্ভিস শুরু করার আনুমানিক খরচ দেওয়া হলো।

খাত টাকা 
লাইসেন্স ১৫,০০০
অফিস সেটআপ ৩০,০০০
বাইক (১টি) ১,২০,০০০
সফটওয়্যার/সিস্টেম ২০,০০০
কর্মচারী (১ মাস) ৪০,০০০
মোট . লাখ

কুরিয়ার সার্ভিস কিভাবে লাভ/আয় করে?

আপনি যেহেতু এই ধরণের ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন তাই আপনার কুরিয়ার সার্ভিস কিভাবে লাভ করে এই বিষয়ে ধারণা থাকতে হবে।

১. ডেলিভারি চার্জ মার্জিন/কমিশন

কুরিয়ার সার্ভিসের প্রথমত আয় করে ডেলিভারি চার্জ দিয়ে। নিজের প্রতিষ্ঠান হলে ডেলিভারি চার্জ আর কুরিয়ার সার্ভিস এজেন্ট হলে কমিশন।

২. COD (Cash on Delivery) চার্জ

ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলো আয় করে থাকে। পণ্যের দামের উপর ভিত্তি করে COD চার্জ নির্ধারিত হ্য়।

৩. রিটার্ন চার্জ

আপনি চাইলে পার্সেল রিটার্নেও চার্জ নিতে পারেন। আবার রিটার্ন কন্ট্রোল করতে পারলে এটাও অন্যভাবে লাভের পরিমাণ বাড়ায়।

৪. ভলিউম বোনাস

বড় ভলিউম পার্সেল ডেলিভারিতে বাস/ট্রাক/এয়ার লাইনে ভলিউম বোনাস পেতে পারেন। এই বোনাস আপনার লাভের পরিমাণ বাড়াবে।

৫. মাসিক চুক্তি

নিয়মিত পার্সেল ডেলিভারি দেয় এমন প্রতিষ্ঠানের সাথে কর্পোরেট চুক্তি করতে পারলে নিয়মিত আয় করা যায়।

বাস্তব লাভের হিসাব

ধরি আপনার দৈনিক পার্সেল ১০০ টি। তাহলে গড় লাভ/পার্সেল ৩০ টাকা। এর ফলে দৈনিক লাভ হবে ৩,০০০ টাকা এবং মাসিক লাভ ৯০,০০০ টাকা (খরচ বাদ দিয়ে)।

লাভ বাড়ানোর স্মার্ট কৌশল

  • পার্সেল রিটার্ন ১০% এর নিচে রাখুন৷
  • রুট অপটিমাইজ করুন অর্থাৎ এমনভাবে ডেলিভারি রুট নির্ধারণ করুন যাতে খরচ কমানো যায়,
    প্যাকেজিং ভালভাবে করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করুন,
  • নিয়মিত মার্চেন্ট রাখুন,
  • আর্থিক হিসাব নিকাশ সঠিকভাবে করুন ও ক্যাশফ্লো ঠিক রাখুন।

আরও পড়ুন: বিদেশে পণ্য রপ্তানি ব্যবসা শুরু করার স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন

কিভাবে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায় সফল হবেন?

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায় সফল হতে হলে নিচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করুন:

১. সার্ভিস কোয়ালিটি ঠিক করুন

প্রথমদিকে সার্ভিস ভলিউমের দিকে নজর না দিয়ে সার্ভিস কোয়ালিটির দিকে মনযোগ দিন। আপনার সার্ভিস কোয়ালিটি ভাল হলে নিয়মিত গ্রাহক পাবেন।

সার্ভিস কোয়ালিটি হচ্ছেঃ

  • সময়মতো ডেলিভারি,
  • পার্সেল না হারানো,
  • দ্রুত ও সঠিকভাবে কাস্টমার সার্ভিস দেওয়া ইত্যাদি।

সার্ভিস কোয়ালিটি যেমন রিটার্ন কাস্টমার বাড়ায় তেমনি নতুন কাস্টমার নিয়ে আসতে সাহায্য করে।

২. প্রথমদিকে নির্দিষ্ট কাস্টমার শ্রেণি টার্গেট করুন

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায় সফল হতে হলে প্রথমদিকে সবাইকে টার্গেট করবেন না। নির্দিষ্ট শ্রেণি টার্গেট করে মার্কেটিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হবে।

আপনার টার্গেট কাস্টমার হতে পারে:

  • এফ কমার্স উদ্যোক্তা,
  • ছোট ই-কমার্স উদ্যোক্তা,
  • হোম-বেইজড বিজনেস,
  • জেলা/উপজেলা সেলার,

৩. এজেন্টদের পেমেন্ট সময়মতো দিন

কুরিয়ার সার্ভিস এজেন্টদের সময়মতো পেমেন্ট পরিশোধ করুন। সপ্তাহে ১–২ দিন ফিক্সড পেমেন্ট দিতে পারেন। কোন অজুহাতে পেমেন্ট দিতে গড়িমসি করবেন না। এজেন্টরা খুশি থাকলে ব্যবসার প্রবৃদ্ধি হবে।

এছাড়া এজেন্ট/ মার্চেন্টদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করুন। তাদের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আন্তরিক থাকুন। ফ্রি পিকআপ, বোনাস ডেলিভারি, প্রাইস ডিসকাউন্ট ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাদেরকে উজ্জীবিত রাখুন।

৪. রিটার্ন কমানোর চেষ্টা করুন

পার্সেল রিটার্ন হলে ব্যবসার ক্ষতি হয় তাই রিটার্ন কমানোর চেষ্টা করুন। এজন্য যা করবেন:

  • ডেলিভারির আগে কল করে কাস্টমার এড্রেস কনফার্ম কল করতে হবে,
  • ভুল ঠিকানা হলে মার্চেন্টকে জানাতে হবে,
  • ক্যাশ অন ডেলিভারি চার্জ আগেই ক্লিয়ার করতে হবে,

রিটার্ন কমাতে পারলে লাভের পরিমাণ বাড়বে।

৫. দক্ষ ও অভিজ্ঞ টিম তৈরি করুন

একটি দক্ষ ও অভিজ্ঞ টিম ব্যবসার প্রসারে অনেক ভূমিকা পালন করে। টিমের সদস্যদের জন্য ইউনিফর্ম রাখতে পারেন। গ্রাহকদের সাথে কিভাবে ব্যবহার করবে সে ব্যাপারে তাদের প্রশিক্ষণ দিন।

কারণ তাদের ব্যবহার কাস্টমার ধরে রাখা ও নতুন কাস্টমার আনার ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। দ্রুত সার্ভিস দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা দিন। সময় ও এলাকাভিত্তিক রুট নির্ধারণ করে ডেলিভারি ম্যান সেট করুন।

৬. ট্র্যাকিং ও রিপোর্টিং স্বচ্ছ রাখুন

পার্সেল ট্র‍্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করুন। ডেলিভারি স্ট্যাটাস নিয়মিত আপডেট করুন। গ্রাহকরা যাতে এসএমএস বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ট্র‍্যাকিং করতে পারে তার ব্যবস্থা করুন। স্বচ্ছভাবে রিপোর্ট তৈরি করুন।

৭. প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ করুন

দাম নির্ধারণের আগে অন্যান্য কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানসমূহের দামের বিষয়ে ভাল করে জানুন। কারণ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে বেশি দাম নির্ধারণ করলে আপনি গ্রাহক হারাতে পারেন।

ইতিমধ্যে উপরে কিভাবে কুরিয়ার সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করবেন সে ব্যাপারে আলোচনা করেছি। সেভাবে আপনি প্রাইসিং স্ট্র‍্যাটেজি ঠিক করুন।

৮. সঠিকভাবে আর্থিক হিসাব রাখুন

হিসাবের ক্ষেত্রে কোন ছাড় দিবেন না। কারণ সঠিকভাবে হিসাব না রাখার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে লসের প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত হয়।

লেনদেনের জন্য ব্যাংকে একাউন্ট খুলুন। সফটওয়্যার ব্যবহার করে পার্সেলের হিসাব ও খরচ-লাভের হিসাব রাখুন। ক্যাশফ্লো ঠিক রাখুন যাতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালে টান না পড়ে।

ব্যবসা বাড়ানোর সময় নতুন বিনিয়োগ করার আগে আর্থিকভাবে লাভজনক কিনা সে ব্যাপারে ভাল করে বিশ্লেষণ করে তারপর বিনিয়োগ করুন। প্রয়োজনে প্রফেশনালদের পরামর্শ নিন।

পরিশেষে 

কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা আপনার জন্য একটি লাভজনক ব্যবসা হবে যদি আপনি সঠিক পরিকল্পনা করে সার্ভিস কোয়ালিটি নিশ্চিত করে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

আশা করি আজকের এই লেখা থেকে আপনি কিভাবে একটি কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা শুরু করবেন, কিভাবে আয় করবেন, কিভাবে সফল হবেন ইত্যাদি বিষয়ে ভাল ধারণা পেয়েছেন।

এই ধারণা আপনার ব্যবসায়ীক ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular