বর্তমান সময়ে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্ত মানুষের কাছে বাজার করার জন্য অন্যতম পছন্দের স্থান হচ্ছে সুপারশপ। পরিষ্কার পরিছন্ন যায়গা ও এক ছাদের নিচে সব পণ্য পাওয়ার কারণে মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে ব্যবসায়ীরা সুপারশপ ব্যবসায় প্রচুর বিনিয়োগ করছেন।
সুপারশপ কী?
সুপারশপ হলো এমন একটি আধুনিক মুদি দোকান যেখানে এক ছাদের নিচে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্যসামগ্রী, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য পণ্য, গৃহস্থালী পণ্যসহ বিভিন্ন ধরণের পণ্য থাকে এবং Self-service পদ্ধতিতে বিক্রি করা হয়।
কিভাবে একটি সুপারশপ ব্যবসা শুরু করবেন?
সুপারশপ ব্যবসা শুরু করা কঠিন কোন বিষয় নয়। নিচে এই বিষয়ে আলোচনা করা হলো:
১. বাজার গবেষণা
সুপারশপ ব্যবসা করার আগে আপনাকে মার্কেট নিয়ে গবেষণা করতে হবে। গবেষণায় যেসব বিষয় আপনার সামনে আসবে সেগুলো যাচাই করতে হবে।
প্রথমেই আপনাকে দেখতে হবে আপনার এলাকায় এই ধরণের ব্যবসার চাহিদা কি রকম?
ক্রেতাদের ক্রয় অভ্যাস কেমন? তারা কি সাধারণ বাজারে যেয়ে বাজার করতে পছন্দ করে নাকি সুপারশপে?
মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কেমন? কারণ ক্রয় ক্ষমতা বেশি থাকলে বড় সুপারশপ আর কম থাকলে মিনি সুপারশপ দিতে হবে।
যেখানে ব্যবসা তার আশেপাশে সুপারশপ আছে কিনা?
কোন ধরণের পণ্য এলাকায় বেশি চলে?
২. লোকেশন নির্বাচন
ব্যবসার ক্ষেত্রে লোকেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। লোকেশন ভাল হলে ক্রেতার অভাব হয় না। তাই জনবহুল এলাকায় যদি সুপারশপ দিতে পারেন তাহলে আপনার ব্যবসা ভালই চলবে। সুপারশপের ক্ষেত্রে যেসব যায়গা নির্বাচন করতে পারেন:
- আবাসিক এলাকার কাছাকাছি
- রাস্তার পাশে বা ভিজিবল জায়গা
- বাজার এলাকা,
- পার্কিং সুবিধা থাকলে ভালো,
- ন্যূনতম জায়গা: মিনি সুপারশপ ৩০০-৫০০ স্কয়ার ফিট, সাধারণ সুপারশপ ৮০০-১৫০০ স্কয়ার ফিট।
৩. প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও কাগজপত্র
একটি সুপারশপ ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। এসব ডকুমেন্টস এর মধ্যে রয়েছে :
- ট্রেড লাইসেন্স (সিটি কর্পোরেশন / ইউনিয়ন)
- TIN সার্টিফিকেট
- ফায়ার সেফটি (বড় হলে)
- BSTI অনুমোদিত পণ্য
- ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন (টার্নওভার বেশি হলে)
৪. দোকান সেটআপ ও ডেকোরেশন
ডেকোরেশনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে:
- কাস্টমার সহজে পণ্য খুঁজে পাবে
- দোকান পরিষ্কার ও উজ্জ্বল দেখাবে
- বেশি সময় দোকানে থাকবে
- বিক্রয় বাড়বে
লেআউট ডিজাইন
মিনি সুপারশপ হোক আর স্ট্যান্ডার্ড সাইজের সুপারশপ হোক লেআউট ডিজাইন খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে লেআউট ডিজাইন করতে পারলে গ্রাহকরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।
প্রবেশ ও বাহির
দোকানে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথ খোলামেলা রাখুন। প্রবেশমুখে অফার/ডিসকাউন্ট আইটেম রাখুন এর যাতে এগুলো গ্রাহকদের মনযোগ আকর্ষণ করে। দরজার পাশে ট্রলি বা ঝুড়ি রাখুন।
চলাচলের রাস্তা
চলাচলের রাস্তা কমপক্ষে ৩–৪ ফুট যায়গা রাখুন। একদিকে চলার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।
প্রোডাক্ট জোন
|
জোন |
পণ্য |
| সামনে |
অফার / ফাস্ট মুভিং |
|
মাঝখানে |
গ্রোসারি, স্ন্যাকস |
| পাশে |
পার্সোনাল কেয়ার |
|
পিছনে |
চাল, তেল (দরকারি জিনিস) |
| ক্যাশ কাউন্টার |
ছোট স্ন্যাকস |
র্যাক ও শেলফ সেটআপ
র্যাক ও শেলফ সেটআপ করবেন যেভাবে:
- স্টিল বা MS র্যাক ব্যবহার করুন
- দেয়াল ঘেঁষে ৬–৭ ফুট উঁচু র্যাক ব্যবহার করুন,
- মাঝখানে আইল র্যাক (Double Side) রাখুন,
- নিচের শেলফে ভারী পণ্য রাখুন,
- চোখের সমানে High Profit পণ্য রাখুন,
শেলফ খালি রাখবেন না কারণ এর ফলে ক্রেতার মনে নেগেটিভ বার্তা যেতে পারে।
লাইটিং ডিজাইন
দোকানের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য লাইটিং ডিজাইন ভালভাবে করুন। সাদা LED লাইট (Cool White) ব্যবহার করুন। ছাদে পর্যাপ্ত টিউব/প্যানেল লাইট বসান। ফ্রিজ সেকশনে আলাদা আলো দিতে পারেন। হলুদ আলো এড়িয়ে চলুন।
আরও পড়ুন:
- রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু করার উপায়, খরচ-লাভ, টিপস।
- নতুন ব্যবসা শুরু করার স্টেপ বাই স্টেপ পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন।
রঙ ও ব্র্যান্ডিং
দেয়ালের রঙ সাদা/হালকা ধূসর দিতে পারেন। শেলফ কালার সাদা বা কালো দিয়ে পারেন।। ব্র্যান্ডিং এর জন্য আপনার লোগো ও নাম দোকানের ভেতর স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করুন। ভিতরে ছোট ব্যানার/স্টিকার রাখতে পারেন।
ফ্রিজ ও ফ্রোজেন সেকশন
- গ্লাস ডোর ফ্রিজ ব্যবহার করুন,
- দুধ, পানীয় সামনে রাখুন,
- আইসক্রিম আলাদা ফ্রিজে রাখুন,
ক্যাশ কাউন্টার ডিজাইন
ক্যাশ কাউন্টার সামনে বা Exit-এর পাশে রাখুন। কাউন্টার হবে পরিষ্কার ও ছোট ডিজাইনের। কাউন্টারে POS মেশিন + Barcode Scanner রাখুন। সামনে ছোট পণ্য (চকলেট, চুইংগাম) ইত্যাদি রাখতে পারুন।
সিসিটিভি ও সিকিউরিটি
সিকিউরিটি নিশ্চিত করার জন্য প্রবেশমুখ, ক্যাশ কাউন্টার এর উপর সিসিটিভি লাগান।
৫. কর্মী নিয়োগ
দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী একটি প্রতিষ্ঠানের বড় সম্পদ। তাই কর্মী নিয়োগ দেওয়ার আগে তার অতীত বিক্রয় কর্মী হিসেবে অভিজ্ঞতা আছে কিনা তা যাচাই করে নিন।
মিনি সুপারশপ হলে ১ জন ক্যাশিয়ার, ১–২ জন সেলস সহকারী হলেও যথেষ্ট। বড় সুপারশপ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ দিন।
সুপারশপ ব্যবসা শুরু করতে কেমন খরচ হবে?
একটা সুপারশপ ব্যবসা শুরু করতে কেমন খরচ হবে তা নির্ভর করবে আপনি কোন পরিসরে এই ব্যবসা শুরু করবেন তার উপর। মিনি সুপারশপ হলে খরচ কম আর বড় সুপারশপ হলে অনেক মূলধন লাগবে। নিচে একটি আনুমানিক হিসাব দেওয়া হলো:
|
খাত |
খরচ (টাকা) |
|
দোকান ভাড়া ও ডেকোরেশন |
১.৫–৩.৫ লাখ |
|
মালামাল (স্টক) |
৫–১৫ লাখ |
| যন্ত্রপাতি |
১–২ লাখ |
|
লাইসেন্স ও অন্যান্য |
৫০ হাজার |
| মোট |
৮–২১ লাখ |
লাভ কেমন হয়?
সুপারশপ ব্যবসায় গড় মুনাফা: ৮% – ২০%। মাসিক বিক্রি ১০–১৫ লাখ হলে লাভ হবে ৫০,০০০ – ১,৫০,০০০ টাকা।
সুপারশপ ব্যবসায় মার্কেটিং কৌশল ও ব্র্যান্ডিং
এই ধরণের ব্যবসা দিলেই কাস্টমার আসবে বলেন বিষয়টি এমন নয়। আপনার মার্কেটিং কৌশল এবং ব্র্যান্ডিং কাস্টমার আনা ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে।
ব্র্যান্ডিং এর জন্য একটি সুন্দর নাম রাখুন। বড় সাইনবোর্ড ব্যবহার করুন। প্রতিষ্ঠানের নামে প্রফেশনাল লোগো তৈরি করুন। সাইনবোর্ড, ম্যামো, ব্যাগসহ বিভিন্ন যায়গায় লোগো ব্যবহার করুন। এর ফলে ব্র্যান্ডিং ইমেজ বাড়বে।
মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে লোকাল ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
লোকাল মার্কেটিং এর জন্য লিফলেট বিতরণ করতে পারেন। ব্যানার এড দিতে পারেন। গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরণের অফার দিতে পারেন যেমন ডিসকাউন্ট, হোম ডেলিভারি, একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি ইত্যাদি।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর জন্য ফেসবুকে একটি পেজ খুলে সেখানে অফার, ডিসকাউন্টসহ বিভিন্ন বিষয় প্রচার করুন। বেশি রিচের জন্য ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিন।
সুপারশপে যেসব আইটেম রাখবেন তার তালিকা
১. গ্রোসারি আইটেম (চাল–ডাল–তেল)
- মিনিকেট চাল
- নাজিরশাইল চাল
- বাসসমতি চাল
- আটা
- ময়দা
- সুজি
- মুসুর ডাল
- মুগ ডাল
- ছোলা
- সয়াবিন তেল
- সরিষার তেল
- লবণ (আয়োডিনযুক্ত)
২. মসলা ও রান্নার উপকরণ
- হলুদ গুঁড়া
- মরিচ গুঁড়া
- ধনে গুঁড়া
- জিরা গুঁড়া
- গরম মসলা
- পেঁয়াজ গুঁড়া
- রসুন গুঁড়া
- আদা গুঁড়া
- তেজপাতা
- দারুচিনি
- লবঙ্গ
- এলাচ
- রান্নার পেস্ট (আদা–রসুন)
৩. ডেইরি ও ফ্রোজেন আইটেম
- প্যাকেট দুধ
- কনডেন্সড মিল্ক
- দই
- মাখন
- চিজ
- ডিম
- আইসক্রিম
- ফ্রোজেন সবজি
- ফ্রোজেন চিকেন / নাগেট
৪. বিস্কুট, চানাচুর ও স্ন্যাকস
- বিস্কুট (ডাইজেস্টিভ, ক্রিম)
- কেক
- চানাচুর
- চিপস
- পপকর্ন
- নুডলস
- পাস্তা
- সেমাই
৫. রেডি ফুড ও ক্যানজাত পণ্য
- সস
- কেচাপ
- চিলি সস
- সয়াসস
- জ্যাম
- জেলি
- মধু
- টুনা ফিশ
- ক্যানজাত ফল
- স্যুপ প্যাকেট
৬. বেভারেজ (পানীয়)
- মিনারেল ওয়াটার
- সফট ড্রিংকস
- এনার্জি ড্রিংক
- ফলের জুস
- চা পাতা
- কফি
- গুঁড়া শরবত
৭. পার্সোনাল কেয়ার পণ্য
- সাবান
- শ্যাম্পু
- কন্ডিশনার
- টুথপেস্ট
- টুথব্রাশ
- ফেসওয়াশ
- শেভিং ক্রিম
- রেজর
- স্যানিটারি ন্যাপকিন
- টিস্যু
৮. হাউজহোল্ড ও ক্লিনিং আইটেম
- ডিটারজেন্ট পাউডার
- লিকুইড ডিটারজেন্ট
- ফ্লোর ক্লিনার
- ডিশওয়াশ লিকুইড
- টয়লেট ক্লিনার
- ব্লিচিং পাউডার
- এয়ার ফ্রেশনার
- মশা নিধন কয়েল / লিকুইড
৯. বেবি কেয়ার পণ্য
- ডায়াপার
- বেবি ফুড
- বেবি সাবান
- বেবি শ্যাম্পু
- বেবি ওয়াইপস
- বেবি অয়েল
১০. কিচেন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস
- লাইটার
- মোমবাতি
- ম্যাচ
- ফয়েল পেপার
- ফুড র্যাপ
- জিপ ব্যাগ
- প্লাস্টিক বোতল
- প্লাস্টিক কন্টেইনার
মিনি সুপারশপ হলে অগ্রাধিকার দিন
- চাল–ডাল–তেল
- বিস্কুট–নুডলস–চানাচুর
- সাবান–ডিটারজেন্ট
- ডিম–দুধ
- পানি–সফট ড্রিংকস ইত্যাদি।
আরও পড়ুন : বিক্রয় বৃদ্ধির ১৫ টি কৌশল যা আপনার বিক্রয় ৩ গুণ বৃদ্ধি করবে
বাংলাদেশে সুপারশপ ব্যবসার সম্ভাবনা কেমন?
বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বিশাল এক জনগোষ্ঠী যাদের মাথাপিছু আয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর পাশাপাশি মানুষের সৌখিনতা ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন অতিবাহিত করার প্রবণতাও বাড়ছে। এই প্রবণতা ক্রেতাদের সুপারশপমুখি করছে।
Ecommercedb বলেছে রিটেইল ও গ্রসারি ই-কমার্সের মোট ভলিউম দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে অনলাইন গ্রসারি মার্কেট ২০২৫-২৯ পর্যন্ত বার্ষিক গড়ে ৩০% হারে বৃদ্ধি পাবে।
প্রথমআলো এক রিপোর্টে জানিয়েছে বাংলাদেশে দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ রিটেইল বাজারের মোট আয় প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার (১,৫০,০০০ কোটি টাকার মতো)।
রিপোর্ট আরো বলা হয়েছে, সুপারশপ বা সুপারমার্কেট মোট রিটেইল মার্কেটের মাত্র ২ থেকে ২.৫%। তবে এটি আগে ছিল মাত্র ১.৫%। যেহেতু এই বিশাল মার্কেটের মাত্র ২-২.৫% সুপারশপ দখল করে আছে তাই বলা যায় এখানে বিশাল সম্ভাবনা বিদ্যমান।
সুপারশপ থেকে কেনার অভ্যাস বৃদ্ধির কারণগুলো হচ্ছে:
ক্রেতাদের ক্রয় আচরণে পরিবর্তন এসেছে। আগে শুধু ধনী শ্রেণির সুপারশপ থেকেই বাজার করলেও এখন মধ্যবিত্তরাও এখান থেকে বাজার করছে।
স্বপ্ন, আগোরা, মিনা বাজার এর মত সুপারশপগুলো সারা দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি দেওয়াতে এই ব্যবসার বিস্তার ঘটছে।
সুপারশপ ব্যবসায় সফল হওয়ার টিপস
১. সুপারশপের ৫০% সাফল্য নির্ভর করে লোকেশন ও গ্রাহকের ধরণের উপর। তাই আবাসিক এলাকা, ফ্ল্যাটবাড়ি, মেস, অফিস এরিয়া, মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবী কাস্টমার আছে এমন এলাকায় সুপারশপ দিন
২. Fast Moving Product-এ বেশি ফোকাস করুন।সব পণ্য একসাথে আনলে ক্যাশ আটকে যাবে।
আগে যেগুলো রাখবেন:
- চাল, ডাল, তেল
- ডিম, দুধ
- বিস্কুট, নুডলস, চানাচুর
- সাবান, ডিটারজেন্ট
- পানি, সফট ড্রিংক ইত্যাদি।
৩. দাম ও মার্জিন কৌশল সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বাজারের চেয়ে বেশি দাম রাখবেন না, জনপ্রিয় পণ্যে কম মার্জিন রাখুন আবার কম চলা পণ্যে বেশি মার্জিন রাখতে পারবন।
৪. সঠিকভাবে স্টক ম্যানেজ করতে হবে। বেশি স্টক থাকলে লিকুইডিটি কমে যায় আর কম স্টক থাকলে ক্রেতা হারাতে পারেন। তাই ব্যালেন্স রক্ষা করতে হবে।
৫. কাস্টমার সার্ভিসে আপস করবেন না। যত দ্রুত ভাল সার্ভিস দিবেন তত বেশি রিটার্ন কাস্টমার পাবেন। হাসিমুখে সার্ভিস দিন ও দোকান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। হোম ডেলিভারির সিস্টেম রাখুন।
৬. অফার ও লয়্যালটি সিস্টেম চালু করুন। যেমন:
- সাপ্তাহিক অফার
- মাসিক Discount Day
- Loyalty Card / Point System
- ঈদ, পূজা, রমজানে বিশেষ অফার
৭. ডিজিটাল উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। Google Map-এ দোকান এড করুন। ফেসবুকের পেজ অবশ্যই থাকা উচিত। প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়েবসাইট তৈরি করুন। সেখানে আপনার দোকানের সকল পণ্য প্রদর্শন করুন যাতে গ্রাহকরা সেখান থেকে অনলাইন অর্ডার করতে পারে।
৮. প্রতিদিন হিসাব রাখুন। প্রতিদিনের মোট বিক্রি, কত লাভ, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া পণ্য কোনগুলো, স্টকের পরিমাণ ইত্যাদি। হিসাব না রাখলে ব্যবসায় টিকে থাকতে পারবেন না।
৯. প্রথমেই বেশি বিনিয়োগ করবেন না। ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়ান। ঋণ নেওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন। সক্ষমতার বাইরে কখনো ঋণ করবেন না।
ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করবেন?
সুপারশপ ব্যবসায় ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টের লক্ষ্য হচ্ছে স্টক শেষ হওয়ার আগেই নতুন স্টকের সংস্থান করা, মেয়াদোত্তীর্ণ (Expiry) কমানো, টাকা আটকে না রাখা, ফাস্ট মুভিং পণ্য সবসময় এভেইলেবল রাখা।
পণ্য ক্যাটাগরি অনুযায়ী কন্ট্রোল (ABC Analysis)
এ ক্যাটাগরি হচ্ছে ফাস্ট মুভিং পণ্য যেমন চাল, তেল, ডিম, দুধ, ডিটারজেন্ট ইত্যাদি। এসব পণ্য দ্রুত শেষ হয় ডেইলি মনিটরিং করতে হবে।
বি ক্যাটাগরি হচ্ছে মিডিয়াম গতির পণ্য যেমন বিস্কুট, নুডলস, পার্সোনাল কেয়ার ইত্যাদি। এগুলো এ ক্যাটাগরির চেয়ে ধীরে বিক্রি হয়। তাই সাপ্তাহিক ভিত্তিতে চেক করুন।
সি ক্যাটাগরি আরো ধীরে বিক্রি হয়। যেমন ক্যানজাত খাবার, স্পেশাল আইটেম ইত্যাদি। এগুলো মাসিক ভিত্তিতে রিভিউ করতে হবে।
FIFO পদ্ধতি প্রয়োগ করুক। আগে আসা পণ্য আগে বিক্রি করুন। নতুন স্টক পেছনে রাখুন। এতে Expiry লস ৫০% পর্যন্ত কম।
Reorder Level সেট করুন। প্রতিটি পণ্যের জন্য একটি মিনিমাম স্টক লেভেল ঠিক করুন। যেমন: ডিম: দৈনিক বিক্রি ৫০ পিস, ৫ দিনের সেফটি স্টক হচ্ছে ২৫০ পিস। তাই স্টক ৩০০ এ নামলেই অর্ডার দিন।
ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট এর জন্য POS সফটওয়্যার ব্যবহার করুন। এর মাধ্যমে আপনি রিয়েল-টাইম স্টক, প্রতিদিন / মাসিক বিক্রয়, মেয়াদ উত্তীর্ণ এলার্ট ইত্যাদি জানতে পারবেন।
যেসব স্টক বিক্রয় হয় না সেগুলো বিভিন্ন ডিসকাউন্ট, বান্ডেল অফার ইত্যাদির মাধ্যমে বিক্রি করার ব্যবস্থা করুন।
নিয়মিত সাপ্লাই পাওয়ার জন্য একাধিক সাপ্লায়ারের ব্যবস্থা রাখুন। রিটার্ন পলিসি নিয়ে তাদের সাথে ভালভাবে আলাপ করে নিন।
ইনভেন্টরি টার্নওভার মাসে ২-৪ বার হলে এটাকে ভাল হিসেবে ধরা হয়।
উপসংহার
বর্তমান বাস্তবতায় সুপারশপ হচ্ছে এই যুগের চাহিদা এজন্য সুপারশপ ব্যবসার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিবছর ক্রেতার পরিমাণও বাড়ছে।
তাই এই খাতে বিনিয়োগ করা ভবিষ্যতের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে৷ সঠিক লোকেশন, সঠিক পণ্য নির্বাচন ও কাস্টমার সার্ভিস থাকলে আপনার সুপারশপ সহজেই লাভজনক ব্যবসায় রুপান্তরিত হবে।