বিদেশে পণ্য রপ্তানি একটি লাভজনক ব্যবসা। তবে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করার বিভিন্ন নিয়মকানুন যেমন আইনগত অনুমোদন, ব্যাংকিং, কাস্টমস, লজিস্টিকস ও বিদেশি ক্রেতার সাথে সমন্বয় ইত্যাদি প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকার কারণে অনেকেই রপ্তানি ব্যবসা শুরু করতে সাহস পান না।
সেসব উদ্যোক্তা যারা বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে চান কিন্তু কিভাবে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে হয় বা রপ্তানি করার নিয়ম সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য আজকের এই লেখা।
বিদেশে পণ্য রপ্তানি ব্যবসা শুরু করার ধাপসমূহ
বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে হলে আপনাকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে। ধাপগুলো হচ্ছে :
১. রপ্তানি ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংগ্রহ
বিদেশে রপ্তানি ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে প্রথমেই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংগ্রহ করতে হবে। এসব ডকুমেন্টস ছাড়া আপনি রপ্তানি কার্যক্রম চালাতে পারবেন না।
আবশ্যক ডকুমেন্টস এর মধ্যে রয়েছে :
১. ট্রেড লাইসেন্স (ব্যবসার ঠিকানা অনুযায়ী)
২. TIN (Tax Identification Number)
৩. ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন (BIN) – কিছু পণ্যে বাধ্যতামূলক
৪. Export Registration Certificate (ERC)
৫. ব্যাংক একাউন্ট
৬. চেম্বার মেম্বারশিপ সার্টিফিকেট যেমন: FBCCI / স্থানীয় চেম্বার
এসব ডকুমেন্টস এর মধ্যে ERC হচ্ছে রপ্তানি লাইসেন্স যেটি ছাড়া আইনগতভাবে কোনো পণ্য রপ্তানি করা যায় না।
২. পণ্য নির্বাচন
সব পণ্য সব দেশে রপ্তানি করা যায় না। দেশভেদে বিভিন্ন ধরণের পণ্য নিষিদ্ধ থাকে। আবার অনেকে দেশ বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্ট ধরণের পণ্য বেশি আমদানি করে থাকে।
তাই বিদেশে পণ্য রপ্তানি ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে সঠিক পণ্য নির্বাচন করতে হবে। যেসব দেশে রপ্তানি করবেন সেসব দেশের আমদানি নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পণ্য উৎপাদন করতে হবে।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় কিছু রপ্তানি পণ্য আছে, এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে:
- গার্মেন্টস (Ready Made Garments)
- পাট ও পাটজাত পণ্য
- চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য
- হোম টেক্সটাইল
- কৃষিপণ্য (মসলা, ফল, শুকনো খাবার)
- হস্তশিল্প ও জুট ডেকোর
- প্লাস্টিক পণ্য
- ফার্নিচার
৩. বিদেশি ক্রেতা খোঁজা
রপ্তানি ব্যবসার মূল চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বাসযোগ্য ক্রেতা পাওয়া। আবার ক্রেতা হচ্ছে যেকোনো ব্যবসার প্রাণ তাই বিদেশে পণ্য রপ্তানি ব্যবসা শুরু করতে হলে আপনাকে ভাল বিদেশি ক্রেতা খুঁজে বের করতে হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে আপনি বিদেশি ক্রেতা খুঁজে বের করবেন? বিদেশি ক্রেতা খুঁজে বের করার বেশ কিছু উপায় আছে। এসব উপায়গুলো নিচে একে এক করে আলোচনা করেছি যাতে আপনি সহজেই বিদেশি ক্রেতা খুঁজে বের করতে পারেন।
B2B অনলাইন প্ল্যাটফর্ম
এটি হচ্ছে বিদেশি ক্রেতা খুঁজে বের করার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়গুলোর মধ্যে একটি। বেশ কিছু জনপ্রিয় B2B ওয়েবসাইট আছে যেমন:
- Alibaba
- Trade key
- GlobalSources
- ExportHub
- EC21
- Made-in-China
ভাল ক্রেতা পাওয়ার জন্য কোম্পানি প্রোফাইল ১০০% সম্পূর্ণ করুন, পণ্যের High Quality ছবি ও স্পেসিফিকেশন দি ন, নিয়মিত Buyer Inquiry তে রিপ্লাই করুন, Verified Buyer ও Trade Assurance ব্যবহার করুন। ক্রেতা নির্বাচনের পূর্বে ক্রেতার Buyer এর Company Profile, Country, Website যাচাই করুন।
নিজের এক্সপোর্ট ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল মার্কেটিং
ভাল ক্রেতারা সাধারণত অর্ডার করার আগে ওয়েবসাইট দেখে। ওয়েবসাইট যদি প্রফেশনাল হয় এবং তারা যেসব বিষয় চেক করতে চায় সেগুলো যদি থাকে তাহলে অর্ডার বেশি পাওয়া যায়।
তাই আপনার ওয়েবসাইটে যেসব বিষয় থাকা উচিত:
- About Company
- Product Catalogue
- Quality & Certification
- Export Experience
- Contact Info (Email, WhatsApp, Address)
ডিজিটাল মার্কেটিং ক্রেতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে তাই ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারেন। যা করবেন:
- সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
- গুগল এডস
- ইমেইল মার্কেটিং
- সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ইত্যাদি।
লিংকডইন দিয়ে ক্রেতা খোঁজা
লিংকডইন এর মাধ্যমে ভাল বায়ার খুঁজে পাওয়া যায়। তাই এই প্লাটফর্মে সক্রিয় থাকুন। নিজ ব্যবসা ও পণ্য নিয়ে নিয়মিত পোস্ট দিন।
ক্রেতা খোঁজার জন্য LinkedIn Search এ বিভিন্ন কিওয়ার্ড যেমন Import Manager, Purchase Manager, Sourcing Manager ইত্যাদি দিয়ে সার্চ দিন।
কিওয়ার্ড নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন: কিওয়ার্ড রিসার্চ কি? কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন?
প্রতিদিন প্রতিদিন ১০–১৫ জনকে টার্গেট করে এভাবে মেসেজ দিতেই পারেন:
Hello,
We are exporter of [Product] from Bangladesh.
Interested to explore sourcing opportunity with your company.
আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ার ও এক্সপো
বিদেশি বায়ার খুঁজে পাওয়ার জন্য এটি সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। তাই এসব ট্রেড ফেয়ার ও এক্সপোতে নিয়মিত অংশ নিয়ে নিজের পণ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করুন। কিছু জনপ্রিয় ফেয়ার হচ্ছে:
- Dhaka International Trade Fair (DITF)
- Canton Fair (China)
- Gulfood (Dubai)
- Heimtextil (Germany)
- Ambiente (Germany)
বায়িং হাউজ / সোর্সিং এজেন্ট
এদের মাধ্যমে আপনি বায়ার পেতে পারেন। গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল সেক্টরে এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর। নতুন এক্সপোর্টার হলে বায়িং হাউজের সাথে যোগাযোগ করে সহজেই বায়ার পেতে পারেন।
দূতাবাস, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর ও EPB
বায়ার পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দূতাবাসের কমার্শিয়াল ইউনিটের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। Export Promotion Bureau (EPB), বিভিন্ন ব্যবসায়ীক সংগঠন যেমন FBCCI / BGMEA / BKMEA ইত্যাদিতে যোগাযোগ করতে পারেন।
Importer Directory & Trade Database
ইম্পোর্টার ডিরেক্টরি এবং ট্রেফ ডেটাবেজ থেকেও বায়ার পেতে পারেন। এরকম কিছু জনপ্রিয় ডাটাবেজ হচ্ছে:
- Kompass
- Europages
- ThomasNet
- ImportGenius
- Panjiva
মনে রাখবেন বায়ার পেলেই কাজ শুরু করে দিবেন না। বায়ার ভেরিফিকেশন যেমন কোম্পানির ওয়েবসাইট, রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্স, ক্রেডিট রেটিং, রিভিউ ইত্যাদি চেক করে তারপর কাজ শুরু করুন। সন্দেহ হলে Advance Payment / LC ছাড়া কাজ করবেন না।
৪. প্রোফর্মা ইনভয়েস (Proforma Invoice)
বায়ার পেয়ে গেলে তারা আপনার কাছে প্রোফর্মা ইনভয়েজ চাইবে। ক্রেতা বিক্রেতার বিস্তারিত তথ্য,
পণ্যের নাম, পরিমাণ, মূল্য, শিপমেন্ট টার্মস (FOB / CIF / CFR), পেমেন্ট টার্মস, সরবরাহ সময় ইত্যাদি উল্লেখ করে আপনাকে প্রোফর্মা ইনভয়েজ তৈরি করে বায়ারকে প্রদান করতে হবে।
৫. পেমেন্ট মেথড নির্বাচন
বিদেশে পণ্য রপ্তানি ব্যবসায় পেমেন্ট মেথড সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। সঠিক পেমেন্ট পদ্ধতি নির্বাচন করতে না পারলে পণ্য পাঠানোর পরও টাকা না পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বেশকিছু পেমেন্ট মেথড আছে যেগুলো আপনি ব্যবহার করতে পারেন। যেমন
Letter of Credit (LC)
এটি সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। এলসি হচ্ছ্ব ব্যাংকের লিখিত অঙ্গীকার যেখানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে Exporter টাকা পাবে।
এলসি খোলার জন্য আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দিয়ে এলসি মার্জিন কমিশন ও চার্য জমা দিতে হবে।
বিস্তারিত পড়ুন: এলসি কি? এলসি খোলার নিয়ম ও খরচসহ বিস্তারিত।
Advance Payment / TT (Telegraphic Transfer)
এই পদ্ধতিতে ক্রেতা অগ্রিম পেমেন্ট প্রদান করে। এক্ষেত্রে সাধারণত ৩০-১০০% অগ্রিম প্রদান করা হয়। ছোট অর্ডার এবং নতুন রপ্তানিকারকদের জন্য এডভান্স পেমেন্ট ভালো।
DP (Documents against Payment)
ক্রেতা যখন পেমেন্ট পরিশোধ করে তখন সাপ্লায়ার ডকুমেন্টস প্রদান করে। অর্থাৎ ডকুমেন্টস পাওয়ার শর্তই হচ্ছে পেমেন্ট পরিশোধ।
DA (Documents against Acceptance)
রপ্তানিকারক পণ্য জাহাজীকরণের পর আমদানিকারক ব্যাংকের নিকট ডকুমেন্টস প্রদান করা হয়। আমদানিকারকের ব্যাংক আমদানিকারকের নিকট ডকুমেন্টস উপস্থাপন করার পর তার একসেপ্টেন্স পাওয়ার ব্যাংক পেমেন্ট পরিশোধ করে।
Open Account (OA)
ওপেন একাউন্ট হচ্ছে এমন একটি পেমেন্ট অপশন যেখানে সাপ্লায়ার পেমেন্ট পাওয়ার আগেই পণ্য শিপমেন্ট করে ডকুমেন্টস দিয়ে দেয়। ক্রেতাকে ৩০,৬০,৯০ ইত্যাদি বিভিন্ন মেয়াদে ক্রেডিট সুবিধা প্রদান করে।
এটি সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ পদ্ধতি। খুবই বিশ্বস্ত ক্রেতা ছাড়া এই ধরণের সুবিধা দেওয়া ঠিক না। তবে ব্যাংক গ্যারান্টি বা এক্সপোর্ট ক্রেডিট ইন্সুইরেন্স এর বিপরীতে ওপেন একাউন্ট এর সুবিধা দিলে ঝুঁকি কমানো যায়।
Escrow / Trade Assurance
Escrow / Trade Assurance সাধারণ B2B প্লাটফর্মে ব্যবহৃত হয়। যেমন Alibaba Trade Assurance। এটি খুব নিরাপদ পদ্ধতি। সকল প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত পেমেন্ট হোল্ড করা থাকে। এই পদ্ধতি ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কেই নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।
৬. পণ্য প্রস্তুত ও প্যাকেজিং
ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য প্রস্তুত করতে হবে। ক্রেতার দেশের আমদানি নীতিমালা অনুযায়ী মান ঠিক রাখতে হবে। প্যাকেজিং এর ক্ষেত্রেও গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সব করতে হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে পারেন এর ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। সার্টিফিকেট এর মধ্যে রয়েছে :
- Phytosanitary Certificate
- Health Certificate
- BSTI / ISO / HACCP Certificate
৭. কাস্টমস ও শিপমেন্ট প্রক্রিয়া
সব প্রক্রিয়া শেষ করার পর আপনাকে কাস্টমস ও শিপমেন্ট এর কাজ করতে হবে। তবে এই অংশটি সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। এই ধাপে জরিমানা, বিলম্ব বা অর্থ আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ক্রেতার সাথে চুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পর এই ধাপ শুরু হয়। পণ্য প্রস্তুত ও প্যাকেজিং এর পর ক্রেতার সাথে শিপমেন্ট টার্মস নিয়ে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।
সমুদ্র, আকাশপথ নাকি স্থলপথে পরিবহন করা হবে তা ঠিক করতে হবে। সাধারণত বড় চালানে সমুদ্র, জরুরি বা ছোট চালানে আকাশপথ ব্যবহৃত হয়।
কাস্টমস এর যাবতীয় কাজ সহজভাবে সম্পন্ন করার জন্য C&F Agent নির্বাচন (Customs & Forwarding Agent) নির্বাচন করুন।
সিএন্ডএফ এজেন্ট কাস্টমস ডকুমেন্টস প্রস্তুত করা, ASYCUDA World এ Export Entry, কাস্টমস অফিসে ফাইল সাবমিট, পণ্য খালাস ও শিপমেন্ট বুকিং ইত্যাদি কাজ করে দিবে।
আরও পড়ুন: সিএন্ডএফ ব্যবসা কি? কিভাবে সিএন্ডএফ ব্যবসা শুরু করবেন?
এক্সপোর্ট ডকুমেন্ট চেকলিস্ট
আবশ্যক ডকুমেন্টস
- Commercial Invoice
- Packing List
- EXP Form (ব্যাংক থেকে)
- ERC (Export Registration Certificate)
- LC / Sales Contract / PO
- Certificate of Origin (CO)
- Shipping Instruction
বিশেষ পণ্যের জন্য
- Phytosanitary Certificate
- Health Certificate
- Fumigation Certificate
- BSTI / QC Certificate
ASYCUDA World এ এক্সপোর্ট এন্ট্রি
বাংলাদেশ কাস্টমসের অনলাইন সিস্টেম ASYCUDA World এ Export Declaration দাখিল করা, HS Code অনুযায়ী পণ্যের তথ্য প্রদান, Invoice Value & Quantity ও Destination Country দিয়ে এন্ট্রি সম্পন্ন করা।
কাস্টমস অ্যাসেসমেন্ট ও এক্সামিনেশন
কাস্টমস অফিসার ডকুমেন্টস যাচাই করবে, প্রযোজ্য হলে Physical Examination করবে এবং Export Policy Order (EPO) অনুযায়ী অনুমোদন করবে।
সম্ভাব্য স্ট্যাটাস হবে:
Green Channel – দ্রুত ক্লিয়ার
Yellow Channel – ডকুমেন্টস চেক
Red Channel – পণ্য পরীক্ষা। নতুন এক্সপোর্টারদের ক্ষেত্রে রেড চ্যানেল বেশি হয়।
শিপমেন্ট রিলিজ ও লোডিং
কাস্টমস ক্লিয়ার হলে:
- Cargo Shed / Port এ পণ্য জমা দিতে হবে,
- Shipping Line পণ্য গ্রহণ করতে হবে,
- Vessel / Flight এ লোডিং সম্পন্ন করার পর পণ্য রপ্তানি শুরু হয়।
Bill of Lading (B/L) বা Airway Bill (AWB)
শিপমেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। সি শিপমেন্ট এর ক্ষেত্রে বিল অব লেডিং (B/L) এবং এয়ার শিপমেন্ট এর ক্ষেত্রে এয়ারওয়ে বিল (AWB)।
Bill of Lading যেসব ডকুমেন্টস থাকে:
- Shipper & Consignee
- Port of Loading / Discharge
- Cargo details
- Freight Terms
শিপমেন্ট পরবর্তী ব্যাংকিং ডকুমেন্টস সাবমিশন
পণ্য পাঠানোর পর ব্যাংকে জমা দিতে হবে:
- Commercial Invoice
- Packing List
- Bill of Lading / AWB
- Certificate of Origin
- EXP Form (Endorsed)
ব্যাংক এসব ডকুমেন্টস আমদানিকারকের ব্যাংকের কাছে পাঠাবে।
রপ্তানি মূল্য আদায় ও PRC
Buyer payment দিলে টাকা দেশে আসবে তখন ব্যাংক PRC (Proceeds Realization Certificate) দিবে যার মাধ্যমে আপনি Export Incentive ক্লেইম করতে পারবেন।
রপ্তানি লাইসেন্স কি? রপ্তানি লাইসেন্স কিভাবে করবেন?
রপ্তানি লাইসেন্স বা ERC (Export Registration Certificate) হলো সরকার কর্তৃক অনুমোদিত রপ্তানিকারক হওয়ার সনদ। CCI&E (Office of the Chief Controller of Imports & Exports) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এই সনদ ইস্যু করে।
ERC করার আগে আপনার থাকতে হবে:
- বৈধ ব্যবসা (Proprietorship / Partnership / Ltd.),
- বাংলাদেশে ব্যবসার ঠিকানা,
- ব্যাংক একাউন্ট,
- ট্যাক্স ও ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন,
ERC করতে যেসব ডকুমেন্ট লাগবে
- ট্রেড লাইসেন্স
- TIN Certificate
- VAT/BIN Certificate
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) – মালিক/ডিরেক্টর
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি (২ কপি)
- ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট
- চেম্বার মেম্বারশিপ সার্টিফিকেট (FBCCI / Local Chamber)
- ব্যবসার ঠিকানার প্রমাণ যেমন ভাড়া চুক্তি/বিদ্যুৎ বিল।
কোম্পানি হলে লাগবে:
- Memorandum & Articles of Association
- Certificate of Incorporation
- Form XII / Director List
ERC আবেদন করার প্রক্রিয়া
অনলাইন ও সরাসরি দুভাবেই ইআরসি’র জন্য আবেদন করা যায়। অনলাইনে আবেদন করার জন্য CCI&E এর নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ ও ডকুমেন্ট স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।
তারপর অনলাইন আবেদন এর প্রিন্ট কপি সব ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে CCI&E অফিস / আঞ্চলিক অফিসে জমা দিতে হবে।
ERC ফি (আনুমানিক)
| ধরণ | ফি (BDT) |
| —————— | ————– |
| নতুন ERC | ৫,০০০ – ১০,০০০ |
| নবায়ন (Renewal) | ৩,০০০ – ৫,০০০ |
| এজেন্ট ফি (ঐচ্ছিক) | ৩,০০০ – ৭,০০০ |
সময় ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফি পরিবর্তন হতে পারে। সব ঠিক থাকলে ERC পেতে সাধারণত ৭–১৫ কার্যদিবস সময় লাগে।
ERC সাধারণত ১ বছর মেয়াদি হয়ে থাকে। তাই প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়।
উপসংহার
বিদেশে পণ্য রপ্তানি ব্যবসা শুরু করতে হলে আইনগত প্রস্তুতি, সঠিক ক্রেতা নির্বাচন, নিরাপদ পেমেন্ট ও নির্ভূল ডকুমেন্টেশন এই চারটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে প্রক্রিয়া জটিল মনে হলেও একবার বুঝে গেলে রপ্তানি ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে।