ব্যবসায় বিনিয়োগ কোন সাধারণ কোন বিষয় নয়। হঠাৎ কারও কথা শুনে বা চটকদার কোনো বিজ্ঞাপন দেখে কখনো কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন না। আমাদের দেশে অনেকেই ব্যবসার সম্ভাবনা সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে, পর্যাপ্ত বিশ্লেষণ ছাড়াই কোনো প্রজেক্টে বিনিয়োগ করে ফেলেন। এর ফলে অনেকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হন।
আজকের এই লেখায় কোন ব্যবসায় বিনিয়োগ করার আগে আপনাকে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে এমন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।
আসুন দেখে নিই ১০ টি বিষয় যা আপনাকে কোন ব্যবসায়/ প্রজেক্ট এ বিনিয়োগের আগে বিশ্লেষণ করতে হবে।
১. ব্যবসার মডেল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন
আপনি যে ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন, সেটি কীভাবে টাকা আয় করে, তা প্রথমেই জানতে হবে। ব্যবসার আয়ের উৎস ও পরিচালন পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
ব্যবসার মডেল বুঝতে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার চেষ্টা করুন।
- কী পণ্য বা সেবা বিক্রি হবে?
- কার কাছে বিক্রি হবে?
- কেন গ্রাহক এই পণ্য বা সেবা কিনবেন?
- প্রতি বিক্রয়ে কত লাভ থাকবে?
- মাসে কত বিক্রি করতে হবে?
- ব্যবসার নিয়মিত আয়ের উৎস কী?
ব্যবসার মডেল পরিষ্কার না হলে আকর্ষণীয় ROI-এর হিসাবও অর্থহীন হয়ে যায়। তাই বিনিয়োগের আগে ব্যবসাটি কীভাবে আয় করবে এবং সেই আয় কতটা বাস্তবসম্মত, তা যাচাই করুন।
২. পণ্যের বাজার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন
ধরুন, আপনি একটি খাদ্যপণ্যের ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন। এটি হতে পারে বিদেশি দামি চকলেটের ব্যবসা। এ ক্ষেত্রে আপনাকে কয়েকটি বিষয় যাচাই করতে হবে।
- এই চকলেটের প্রকৃত গ্রাহক কারা?
- সম্ভাব্য গ্রাহকের সংখ্যা কত?
- তারা বর্তমানে কোন ব্র্যান্ডের চকলেট বেশি কিনছেন?
- দামি চকলেটের বাজার বাড়ছে, নাকি কমছে?
- বাজারে প্রতিযোগী কতজন?
- নতুন প্রতিযোগীর বাজারে প্রবেশ কতটা সহজ?
- গ্রাহকদের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার পরিবর্তন এই পণ্যের চাহিদাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে?
পণ্যের চাহিদা আছে বলেই যে ব্যবসাটি লাভজনক হবে, তা নয়। বাজারের আকার, প্রতিযোগিতা, পণ্যের দাম, গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিশ্লেষণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: ক্লাউড সার্ভিস বিজনেস কি? কিভাবে এই বিজনেস শুরু করবেন?
৩. মোট বিনিয়োগ ও খরচের খাত সম্পর্কে জানুন
ধরুন, একটি ব্যবসা শুরু করতে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। অনেক উদ্যোক্তা শুধু প্রাথমিক বিনিয়োগের হিসাব করেন এবং সেই হিসাবের ভিত্তিতে লাভ নির্ধারণ করেন। এটি একটি বড় ভুল হতে পারে।
প্রাথমিক খরচের বাইরে ব্যবসা পরিচালনার জন্য আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যয় হতে পারে। যেমন:
- অফিস, দোকান বা কারখানা স্থাপনের খরচ
- যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনার খরচ
- লাইসেন্স ও অনুমোদন সংগ্রহের খরচ
- কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়
- কাঁচামাল ও পণ্য মজুতের খরচ
- মার্কেটিং ও বিক্রয় ব্যয়
- গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়
- রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের খরচ
- অপ্রত্যাশিত ব্যয়
- ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন
এসব খরচ বিবেচনা না করলে প্রকৃত বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। ফলে ব্যবসা শুরু করার পর অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে এবং তারল্য সংকট তৈরি হতে পারে।
তাই প্রাথমিক বিনিয়োগের পাশাপাশি অন্তত কয়েক মাসের সম্ভাব্য পরিচালন ব্যয় ও চলতি মূলধনের চাহিদাও হিসাব করুন।
৪. ক্যাশ ফ্লো নিয়মিত হবে কি না দেখুন
ক্যাশ ফ্লো বা নগদ অর্থের প্রবাহ একটি ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো ব্যবসা হিসাব অনুযায়ী লাভজনক হলেও সময়মতো নগদ অর্থ না পেলে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যা হতে পারে।
ধরে নিন, আপনার ব্যবসা থেকে বছরে ৩০ লাখ টাকা মুনাফা হতে পারে। কিন্তু ব্যবসার ধরন অনুযায়ী গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা পেতে অনেক সময় লাগে। এদিকে কর্মীদের বেতন, কাঁচামাল কেনা, ভাড়া ও ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় ব্যবসায় তারল্য সংকট তৈরি হতে পারে।
বিনিয়োগের আগে যাচাই করুন:
- গ্রাহকদের কাছ থেকে কত দিনে টাকা পাওয়া যাবে?
- সরবরাহকারীদের কত দিনের মধ্যে টাকা দিতে হবে?
- মাসিক পরিচালন ব্যয় কত?
- ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের সক্ষমতা কেমন?
- ব্যবসার নগদ অর্থের ঘাটতি হলে তা পূরণের ব্যবস্থা কী?
ব্যবসার সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের পাশাপাশি মাসভিত্তিক ক্যাশ ফ্লো প্রজেকশন তৈরি করা ভালো।
৫. ROI, NPV ও Payback Period বিবেচনা করুন
বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু সম্ভাব্য লাভ দেখলে হবে না। বিনিয়োগের বিপরীতে কত রিটার্ন আসবে, কত সময়ে অর্থ ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতের নগদ প্রবাহের বর্তমান মূল্য কত, তা বিশ্লেষণ করতে হবে।
ROI (Return on Investment)
ROI হলো বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্ত রিটার্নের একটি পরিমাপ। সাধারণভাবে ROI হিসাব করা হয়:
ROI = (নিট লাভ ÷ বিনিয়োগের পরিমাণ) × ১০০%
ROI হিসাবের ক্ষেত্রে লাভ ও বিনিয়োগের সংজ্ঞা একই ভিত্তিতে রাখতে হবে। বিশেষ করে ঋণ, কর এবং অন্যান্য খরচের প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।
ধরুন, দুটি প্রজেক্টে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। প্রথমটির প্রত্যাশিত ROI ৩০% এবং দ্বিতীয়টির ২০%। শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম প্রজেক্টকে ভালো বলা যাবে না। বিনিয়োগের সময়কাল, ঝুঁকি, নগদ প্রবাহ ও অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হবে।
Payback Period
Payback Period হলো বিনিয়োগ করা অর্থ নগদ প্রবাহের মাধ্যমে ফিরে পেতে যত সময় লাগে।
ধরুন, প্রথম প্রজেক্টে বিনিয়োগ করা অর্থ ফিরে পেতে পাঁচ বছর লাগবে, আর দ্বিতীয় প্রজেক্টে লাগবে এক বছর। অন্য বিষয়গুলো সমান হলে দ্বিতীয় প্রজেক্টে দ্রুত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুবিধা রয়েছে।
তবে Payback Period হিসাবের একটি সীমাবদ্ধতা আছে। সাধারণ Payback Period অর্থের সময়মূল্য বিবেচনা করে না এবং নির্ধারিত সময়ের পরের নগদ প্রবাহও হিসাবের বাইরে রাখে। তাই একে একমাত্র সিদ্ধান্তের মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
NPV (Net Present Value)
NPV বা নিট বর্তমান মূল্য ভবিষ্যতের প্রত্যাশিত নগদ প্রবাহকে নির্দিষ্ট Discount Rate ব্যবহার করে বর্তমান মূল্যে রূপান্তর করে এবং প্রাথমিক বিনিয়োগ বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়।
সাধারণভাবে:
- NPV পজিটিভ হলে প্রজেক্টটি নির্ধারিত Discount Rate অনুযায়ী ভ্যালু সৃষ্টি করতে পারে।
- NPV নেগেটিভ হলে প্রজেক্টটি নির্ধারিত রিটার্নের শর্ত পূরণ করতে পারে না। তাই এই ধরণের প্রজেক্টে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়।
- NPV শূন্য হলে প্রজেক্টের বর্তমান মূল্য নির্ধারিত বিনিয়োগ ব্যয়ের সমান।
তবে NPV পজিটিভ হলেই বিনিয়োগ নিশ্চিতভাবে নিরাপদ বা লাভজনক হবে, এমন নয়। নগদ প্রবাহের পূর্বাভাস, Discount Rate, ঝুঁকি এবং অন্যান্য বিকল্পের রিটার্নও বিবেচনা করতে হবে।
আরও পড়ুন: রিয়েল এস্টেট ব্যবসা শুরু করার উপায়, খরচ-লাভ, টিপসসহ বিস্তারিত
৬. প্রজেক্টে ইক্যুইটি ও ঋণের অনুপাত যাচাই করুন
কোনো ব্যবসায় কতটুকু নিজস্ব মূলধন এবং কতটুকু ঋণ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা বিনিয়োগের আগে যাচাই করা উচিত।
অতিরিক্ত ঋণ থাকলে সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়ে। বিক্রয় কমে গেলে বা ক্যাশ ফ্লো বাধাগ্রস্ত হলে ব্যবসার আর্থিক ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
তবে সব ব্যবসার জন্য একই ঋণ-ইক্যুইটি অনুপাত উপযুক্ত নয়। শিল্পের ধরন, আয়ের স্থিতিশীলতা, সম্পদের প্রকৃতি, ঋণের খরচ এবং ব্যবসার নগদ প্রবাহ অনুযায়ী উপযুক্ত অনুপাত নির্ধারণ করতে হয়।
বিনিয়োগের আগে দেখুন:
- মোট ঋণ ও নিজস্ব মূলধনের পরিমাণ কত?
- ঋণের সুদের হার কত?
- ঋণ পরিশোধের সময়সূচি কেমন?
- ব্যবসার আয় কমে গেলে কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হবে কি?
- নতুন ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে কি?
শুধু ঋণের পরিমাণ নয়, ব্যবসাটি সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারবে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৭. সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বিবেচনা করুন
আপনি যে প্রজেক্টে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন, সেখানে কী কী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা আগে থেকেই চিহ্নিত করতে হবে।
সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে:
- বাজারে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া
- কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি
- ব্যাংকঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়া
- ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তন
- নতুন প্রতিযোগীর প্রবেশ
- সরকারি নীতি বা নিয়ম পরিবর্তন
- সরবরাহব্যবস্থায় সংকট
- দক্ষ কর্মী চলে যাওয়া
- চলতি মূলধনের ঘাটতি
- গ্রাহকদের কাছ থেকে সময়মতো টাকা না পাওয়া
প্রতিটি ঝুঁকি ব্যবসার আয়, ব্যয় ও নগদ প্রবাহকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে, তা বিশ্লেষণ করুন।
এ ছাড়া Worst-case Scenario বা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিও বিবেচনা করুন। যেমন, বিক্রয় প্রত্যাশার চেয়ে ২০% কম হলে, কাঁচামালের খরচ ১৫% বেড়ে গেলে অথবা কয়েক মাস লোকসান হলে ব্যবসাটি টিকে থাকতে পারবে কি না।
এই বিশ্লেষণকে Sensitivity Analysis ও Scenario Analysis-এর মাধ্যমে আরও কার্যকর করা যায়।
৮. Opportunity Cost বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন
Opportunity Cost বা বিকল্প ব্যয় হলো একটি সুযোগ বেছে নেওয়ার কারণে ত্যাগ করা পরবর্তী সেরা বিকল্পের সম্ভাব্য সুবিধা।
ধরুন, আপনার কাছে এক কোটি টাকা আছে। আপনি এই টাকা একটি ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারেন। আবার ব্যাংক ডিপোজিট, বন্ড, জমি বা অন্য কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগও রয়েছে।
একটি প্রজেক্টের সম্ভাব্য রিটার্ন ভালো দেখালেই সেটি সেরা বিকল্প হয়ে যায় না। অন্য বিকল্পগুলোর সম্ভাব্য রিটার্ন, ঝুঁকি, তারল্য এবং বিনিয়োগের সময়কালও তুলনা করতে হবে।
নিজেকে প্রশ্ন করুন:
- এই প্রজেক্ট থেকে প্রত্যাশিত রিটার্ন কত?
- বিকল্প বিনিয়োগে কত রিটার্ন পাওয়া যেতে পারে?
- কোন বিকল্পে ঝুঁকি তুলনামূলক কম?
- প্রয়োজনে কত দ্রুত অর্থ তুলে নেওয়া যাবে?
- এই বিনিয়োগে অর্থ আটকে থাকলে অন্য সুযোগ গ্রহণে সমস্যা হবে কি?
এভাবে তুলনা করলে আপনার মূলধন কোথায় ব্যবহার করা বেশি যুক্তিযুক্ত হবে, তা বুঝতে সুবিধা হবে।
৯. ম্যানেজমেন্ট টিম যাচাই করুন
একটি ব্যবসার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে যারা ব্যবসাটি পরিচালনা করেন, তাদের দক্ষতা ও সততার ওপর।
তাই বিনিয়োগের আগে ম্যানেজমেন্ট টিমের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, পরিচালন দক্ষতা, আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং অতীতের ব্যবসায়িক ইতিহাস যাচাই করুন।
বিশেষ করে দেখুন:
- সংশ্লিষ্ট শিল্পে তাদের অভিজ্ঞতা কতটুকু?
- আগে পরিচালিত ব্যবসার ফলাফল কেমন ছিল?
- আর্থিক প্রতিবেদন ও হিসাব কতটা স্বচ্ছ?
- বিনিয়োগকারীদের কাছে তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা আছে কি?
- ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয় কি?
- উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি আছে কি?
ভালো ব্যবসার ধারণা থাকলেও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রজেক্ট ব্যর্থ হতে পারে। তাই শুধু ব্যবসার পরিকল্পনা নয়, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতাও যাচাই করুন।
১০. Competitive Advantage আছে কি না দেখুন
কোনো ব্যবসা বর্তমানে লাভ করছে বলেই যে পাঁচ বছর পরও একইভাবে লাভ করবে, তা নিশ্চিত নয়। দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগীদের তুলনায় ব্যবসাটি কীভাবে এগিয়ে থাকবে, সেটি বোঝা জরুরি।
এ জন্য ব্যবসাটির Competitive Advantage বা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা আছে কি না যাচাই করুন।
এ ধরনের সুবিধার উদাহরণ:
- শক্তিশালী ও পরিচিত ব্র্যান্ড
- কার্যকর ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক
- নিজস্ব প্রযুক্তি বা বিশেষ উৎপাদন দক্ষতা
- বিশ্বস্ত ও নিয়মিত গ্রাহক
- ভালো ব্যবসায়িক লোকেশন
- বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের ফলে কম খরচ
- বৈধ লাইসেন্স বা বিশেষ নিয়ন্ত্রক সুবিধা
এসব সুবিধা থাকলে প্রতিযোগীদের তুলনায় ব্যবসাটি ভালো অবস্থানে থাকতে পারে। তবে সুবিধাগুলো কতটা স্থায়ী এবং প্রতিযোগীরা সহজেই তা অনুকরণ করতে পারবে কি না, সেটিও বিবেচনা করুন।
উপসংহার
ব্যবসায় বিনিয়োগের আগে এসব বিষয় বিবেচনা করলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুলের ঝুঁকি কমানো যায়। তবে ব্যবসার ধরন, শিল্প, বিনিয়োগের পরিমাণ এবং সময়কাল অনুযায়ী বিবেচ্য বিষয়ের গুরুত্ব পরিবর্তিত হতে পারে।
মনে রাখবেন, ভালো বিনিয়োগ মানে শুধু বেশি লাভের সম্ভাবনা নয়। ভালো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত রিটার্ন যথেষ্ট হওয়া, ঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা, ক্যাশ ফ্লোর পূর্বাভাস বাস্তবসম্মত হওয়া এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ক্ষতি সামলানোর সক্ষমতা থাকা জরুরি।
বিনিয়োগের আগে তথ্য যাচাই করুন, প্রয়োজনীয় আর্থিক বিশ্লেষণ করুন এবং অনুমানের পরিবর্তে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিন।
