HomeBusiness Guidelinesব্যবসায় কত শতাংশ লাভ করা উচিত? লাভের হার নির্ধারণের পদ্ধতি

ব্যবসায় কত শতাংশ লাভ করা উচিত? লাভের হার নির্ধারণের পদ্ধতি

একজন ব্যবসায়ী ১০০ টাকায় পণ্য কিনে ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন। তাঁর ধারণা, প্রতিটি পণ্যে ২০% লাভ হচ্ছে। কিন্তু দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, পরিবহন, প্যাকেজিং ও অন্যান্য খরচ হিসাব করার পর দেখা গেল, প্রকৃত লাভ অনেক কম।

অন্যদিকে, আরেকজন ব্যবসায়ী পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর ৩০% লাভ যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করছেন। কিন্তু বাজারে প্রতিযোগীরা কম দামে পণ্য বিক্রি করায় তাঁর পণ্য বিক্রি হচ্ছে না।

এই দুটি পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—ব্যবসায় কত শতাংশ লাভ করা উচিত এবং লাভের হার কীভাবে নির্ধারণ করতে হয়?

বাস্তবতা হলো, সব ব্যবসার জন্য লাভের একটি নির্দিষ্ট আদর্শ হার নেই। পাইকারি ব্যবসা, খুচরা ব্যবসা, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সেবা প্রদানকারী ব্যবসার খরচ, বিক্রয়ের পরিমাণ ও ঝুঁকি আলাদা। তাই লাভের হার নির্ধারণ করতে হবে ব্যবসার মোট খরচ, বাজারের চাহিদা, প্রতিযোগিতা এবং কাঙ্ক্ষিত আয়ের ভিত্তিতে।

এই আর্টিকেলে আমরা জানব ব্যবসায় লাভের হার কী, Gross Profit Margin ও Net Profit Margin কীভাবে হিসাব করতে হয়, বিক্রয়মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করতে হয় এবং বাংলাদেশের ব্যবসার জন্য বাস্তবসম্মত লাভের লক্ষ্য কীভাবে তৈরি করা যায়।

ব্যবসায় কত শতাংশ লাভ করা উচিত?

ব্যবসায় কত শতাংশ লাভ করা উচিত, তার কোনো একক উত্তর নেই। কারণ একটি ব্যবসার লাভের হার নির্ভর করে তার খরচ, বিক্রয়ের পরিমাণ, প্রতিযোগিতা, ঝুঁকি এবং ব্যবসার ধরন অনুযায়ী।

উদাহরণ হিসেবে:

  • একটি পাইকারি ব্যবসা কম লাভের হার রেখে বেশি পরিমাণে পণ্য বিক্রি করতে পারে।
  • একটি খুচরা ব্যবসা প্রতি পণ্যে তুলনামূলক বেশি Gross Margin রাখতে পারে, কারণ দোকান পরিচালনার খরচ রয়েছে।
  • একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কাঁচামাল, শ্রম, বিদ্যুৎ, মেশিনের অবচয় ও কারখানার খরচ বিবেচনা করতে হয়।
  • একটি সেবা প্রদানকারী ব্যবসায় পণ্যের মজুত কম থাকলেও কর্মচারীর বেতন, সফটওয়্যার, অফিস ও গ্রাহক সংগ্রহের খরচ বেশি হতে পারে।

তাই লাভের হার নির্ধারণের সময় শুধু অন্য ব্যবসায়ী কত শতাংশ লাভ করছেন, তা অনুসরণ করা উচিত নয়।

বরং প্রথমে হিসাব করতে হবে:

১. পণ্য বা সেবা দিতে মোট কত খরচ হচ্ছে?

২. ব্যবসার নিয়মিত পরিচালন ব্যয় কত?

৩. বাজারে ক্রেতারা কত দামে পণ্য কিনতে আগ্রহী?

৪. কাঙ্ক্ষিত লাভ অর্জনের জন্য কত বিক্রয় প্রয়োজন?

৫. বিক্রয় কমে গেলে বা খরচ বাড়লে ব্যবসা টিকে থাকতে পারবে কি না?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার পর লাভের হার নির্ধারণ করা বেশি বাস্তবসম্মত হয়।

Profit Margin কী?

Profit Margin বা লাভের হার হলো বিক্রয় থেকে অর্জিত লাভের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের অনুপাত, যা শতাংশে প্রকাশ করা হয়।

সূত্র:

Profit Margin = (Profit ÷ Net Sales) × 100

ধরা যাক, একটি পণ্য ১,০০০ টাকায় বিক্রি করা হলো এবং পণ্যটির সংশ্লিষ্ট খরচ ৮০০ টাকা।

লাভ = ১,০০০ − ৮০০ = ২০০ টাকা

Profit Margin = (২০০ ÷ ১,০০০) × ১০০ = ২০%

অর্থাৎ, প্রতি ১০০ টাকা বিক্রয়ের বিপরীতে ২০ টাকা লাভ হচ্ছে। তবে এখানে কোন ধরনের লাভ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায় সাধারণত Gross Profit Margin, Operating Profit Margin এবং Net Profit Margin হিসাব করা হয়। প্রতিটি অনুপাত ব্যবসার লাভের আলাদা স্তর প্রদর্শন করে।

Gross Profit Margin কীভাবে হিসাব করবেন?

Gross Profit Margin এর মাধ্যমে বুঝা যায় পণ্য বিক্রির পর সরাসরি পণ্য ক্রয় বা উৎপাদনসংক্রান্ত খরচ বাদ দিলে বিক্রয়ের কত শতাংশ অবশিষ্ট থাকে।

সূত্র:

Gross Profit = Net Sales − Cost of Goods Sold

Gross Profit Margin = (Gross Profit ÷ Net Sales) × 100

উদাহরণ

একটি পাইকারি ব্যবসা মাসে ১০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে।

বিবরণ টাকা
Net Sales ১০,০০,০০০
বিক্রিত পণ্যের ক্রয়মূল্য ৮,০০,০০০
Gross Profit ২,০০,০০০
Gross Profit Margin ২০%

অর্থাৎ, প্রতি ১০০ টাকা বিক্রয়ের বিপরীতে ২০ টাকা Gross Profit থাকছে।

এই ২০ টাকা দিয়ে ব্যবসাকে দোকান ভাড়া, বেতন, পরিবহন, বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে হবে। এসব খরচ বাদ দেওয়ার পর যা থাকবে, সেটিই পরবর্তী স্তরের লাভ।

গুরুত্বপূর্ণ: Gross Profit Margin-কে Net Profit Margin মনে করা যাবে না। Gross Margin বেশি হলেও পরিচালন ব্যয় বেশি হলে ব্যবসার নিট লাভ কম হতে পারে।

আরও পড়ুন : ব্যবসায় লাভ হচ্ছে, তবুও টাকার সংকট কেন? সম্ভাব্য কারণ ও সমাধান

Net Profit Margin কীভাবে হিসাব করবেন?

Net Profit Margin এর মাধ্যমে আপনি ব্যবসার সব সংশ্লিষ্ট ব্যয় বাদ দেওয়ার পর বিক্রয়ের কত শতাংশ নিট লাভ হিসেবে থাকে তা জানতে পারবেন।

সাধারণভাবে নিট লাভ হিসাবের সময় পণ্য ক্রয় বা উৎপাদন খরচ, পরিচালন ব্যয়, সুদ এবং প্রযোজ্য কর বিবেচনা করা হয়। তবে হিসাবটি কর-পূর্ব নাকি কর-পরবর্তী লাভের ভিত্তিতে করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করতে হবে।

সূত্র:

Net Profit = Net Sales − Total Expenses

Net Profit Margin = (Net Profit ÷ Net Sales) × 100

উদাহরণ

একটি ব্যবসার মাসিক হিসাব:

বিবরণ টাকা
Net Sales ১০,০০,০০০
বিক্রিত পণ্যের খরচ ৮,০০,০০০
Gross Profit ২,০০,০০০
দোকান ভাড়া ৩০,০০০
কর্মচারীর বেতন ৪০,০০০
পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় ২০,০০০
বিজ্ঞাপন ও প্রশাসনিক ব্যয় ১০,০০০
সুদ ও অন্যান্য ব্যয় ১০,০০০
মোট পরিচালন ও অন্যান্য ব্যয় ১,১০,০০০
Net Profit ৯০,০০০

Net Profit Margin = (৯০,০০০ ÷ ১০,০০,০০০) × ১০০ = ৯%

অর্থাৎ, ব্যবসাটি প্রতি ১০০ টাকা বিক্রয়ের বিপরীতে ৯ টাকা নিট লাভ করছে। এখানে উদাহরণটি কর-পূর্ব নিট লাভের ভিত্তিতে করা হয়েছে। কর-পরবর্তী লাভ হিসাব করতে প্রযোজ্য আয়করও বাদ দিতে হবে।

Markup ও Profit Margin-এর পার্থক্য

ব্যবসায় লাভের হার নির্ধারণের সময় অনেকেই Markup ও Profit Margin-কে একই মনে করেন। কিন্তু দুটি হিসাবের ভিত্তি আলাদা।

  • Markup হিসাব করা হয় পণ্যের খরচের ওপর।
  • Profit Margin হিসাব করা হয় বিক্রয়মূল্যের ওপর।

উদাহরণ

একটি পণ্যের ক্রয়মূল্য ৮০০ টাকা। বিক্রয়মূল্য ১,০০০ টাকা।

লাভ = ১,০০০ − ৮০০ = ২০০ টাকা

Markup = (২০০ ÷ ৮০০) × ১০০ = ২৫%

Profit Margin = (২০০ ÷ ১,০০০) × ১০০ = ২০%

অর্থাৎ, ২৫% Markup দিলে Profit Margin হবে ২০%।

বিষয় Markup Profit Margin
হিসাবের ভিত্তি খরচ বিক্রয়মূল্য
সূত্র লাভ ÷ খরচ × ১০০ লাভ ÷ বিক্রয় × ১০০
উদাহরণ ২৫% ২০%

এই পার্থক্যটি না বুঝলে ব্যবসায়ী ভুল বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করতে পারেন।

আরও পড়ুন : Working Capital কী? Working Capital হিসাব করার নিয়ম উদাহরণসহ।

কাঙ্ক্ষিত Profit Margin অনুযায়ী বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের নিয়ম

ধরা যাক, একটি পণ্য কিনতে বা তৈরি করতে মোট ৮০০ টাকা খরচ হয়। ব্যবসায়ী চান পণ্যটি বিক্রি করে ২০% Gross Profit Margin অর্জন করতে। এক্ষেত্রে শুধু খরচের সঙ্গে ২০% যোগ করলে হবে না। কারণ সেটি ২০% Markup হবে, ২০% Margin নয়।

Margin অনুযায়ী বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের সূত্র:

Selling Price = Total Cost ÷ (1 − Desired Margin)

এখানে Margin দশমিক আকারে ব্যবহার করতে হবে।

উদাহরণ

মোট খরচ = ৮০০ টাকা

কাঙ্ক্ষিত Gross Margin = ২০% = ০.২০

Selling Price = ৮০০ ÷ (১ − ০.২০) = ৮০০ ÷ ০.৮০

= ১,০০০ টাকা

অর্থাৎ, ২০% Gross Margin অর্জনের জন্য বিক্রয়মূল্য ১,০০০ টাকা হতে হবে।

বিভিন্ন Margin অনুযায়ী বিক্রয়মূল্য

কাঙ্ক্ষিত Margin মোট খরচ বিক্রয়মূল্য
১০% ৮০০ ৮৮৮.৮৯
১৫% ৮০০ ৯৪১.১৮
২০% ৮০০ ১,০০০
২৫% ৮০০ ১,০৬৬.৬৭
৩০% ৮০০ ১,১৪২.৮৬

এই সূত্রটি ব্যবহার করার সময় নিশ্চিত হতে হবে যে মোট খরচের মধ্যে পণ্য বিক্রির সঙ্গে সম্পর্কিত সব প্রয়োজনীয় খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ব্যবসার সব খরচ হিসাব করে লাভের হার নির্ধারণ করুন

অনেক ব্যবসায়ী শুধু পণ্যের ক্রয়মূল্য বিবেচনা করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেন। কিন্তু পণ্য কিনে বিক্রি করার জন্য আরও কিছু খরচ হতে পারে।

বাংলাদেশের একটি অনলাইন বা খুচরা ব্যবসার ক্ষেত্রে খরচের মধ্যে থাকতে পারে:

  • পণ্যের ক্রয়মূল্য
  • পরিবহন ও লোডিং খরচ
  • প্যাকেজিং
  • ডেলিভারি বা কুরিয়ার খরচ
  • মার্কেটপ্লেস বা পেমেন্ট চার্জ
  • বিজ্ঞাপন ব্যয়
  • দোকান বা গুদাম ভাড়া
  • কর্মচারীর বেতন
  • বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়
  • ঋণের সুদ
  • পণ্য নষ্ট হওয়া বা ফেরত আসার সম্ভাব্য খরচ

উদাহরণ: অনলাইন ব্যবসা

একটি পণ্যের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের আগে খরচ হিসাব করা হলো।

খরচের বিবরণ টাকা
পণ্যের ক্রয়মূল্য ৬০০
পরিবহন ৩০
প্যাকেজিং ২০
পেমেন্ট ও প্ল্যাটফর্ম চার্জ ৩০
বিজ্ঞাপন ব্যয়ের বরাদ্দ ৫০
অন্যান্য খরচের বরাদ্দ ২০
মোট খরচ ৭৫০

ব্যবসায়ী যদি ২০% Gross Margin রাখতে চান: Selling Price = ৭৫০ ÷ ০.৮০ = ৯৩৭.৫০ টাকা

অর্থাৎ, আনুমানিক ৯৩৮ টাকা বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। এখানে হিসাবটি একটি সরল উদাহরণ। VAT, আয়কর এবং ব্যবসার হিসাবনীতি অনুযায়ী খরচের শ্রেণিবিন্যাস আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

বিভিন্ন ব্যবসায় লাভের হার কীভাবে নির্ধারণ করবেন?

ব্যবসার ধরন অনুযায়ী লাভের হার নির্ধারণের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে।

পাইকারি ব্যবসা

পাইকারি ব্যবসায় সাধারণত বিক্রয়ের পরিমাণ বেশি এবং প্রতি পণ্যে লাভের হার তুলনামূলক কম হতে পারে।

এক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হবে:

  • প্রতি পণ্যের ক্রয়মূল্য
  • পরিবহন ও গুদাম খরচ
  • বাকিতে বিক্রয়ের ঝুঁকি
  • পণ্যের বিক্রয় গতি
  • প্রতিযোগীদের মূল্য
  • মাসিক পরিচালন ব্যয়

পাইকারি ব্যবসায় কম Margin রেখে বেশি বিক্রয়ের পরিকল্পনা করা যেতে পারে, তবে বিক্রয়ের পরিমাণ বাড়লেও মোট লাভ যেন পরিচালন ব্যয় মেটাতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

খুচরা ব্যবসা

খুচরা ব্যবসায় দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ, পণ্য নষ্ট হওয়া এবং অন্যান্য খরচ গুরুত্বপূর্ণ।

তাই শুধু পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর লাভ যোগ করলেই হবে না। মাসিক পরিচালন ব্যয় ও প্রত্যাশিত বিক্রয়ের পরিমাণ বিবেচনা করে Gross Margin নির্ধারণ করতে হবে।

উৎপাদনকারী ব্যবসা

উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পণ্যের খরচ হিসাব করার সময় সাধারণত বিবেচনা করতে হয়:

  • কাঁচামাল
  • সরাসরি শ্রম
  • উৎপাদনসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ
  • কারখানার বিদ্যুৎ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়
  • মেশিনের অবচয়
  • প্যাকেজিং
  • উৎপাদনজনিত অপচয়

উৎপাদন খরচ সঠিকভাবে নির্ধারণ না করলে বিক্রয়মূল্য কম হয়ে যেতে পারে এবং প্রত্যাশিত লাভ অর্জন করা কঠিন হতে পারে।

সেবা প্রদানকারী ব্যবসা

সেবা ব্যবসায় পণ্যের ক্রয়মূল্য না থাকলেও কর্মচারীর সময়, অফিস, সফটওয়্যার, যাতায়াত ও গ্রাহক সংগ্রহের খরচ থাকে।

উদাহরণ হিসেবে একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি কোনো ক্লায়েন্টের কাছ থেকে মাসে ৫০,০০০ টাকা ফি নিল। ক্লায়েন্টের কাজ সম্পন্ন করতে কর্মচারী, সফটওয়্যার ও অন্যান্য খরচ ৩৫,০০০ টাকা হলে: মুনাফা = ৫০,০০০ − ৩৫,০০০ = ১৫,০০০ টাকা

প্রফিট মার্জিন = (১৫,০০০ ÷ ৫০,০০০) × ১০০ = ৩০%

এখানে কোন খরচগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তার ওপর লাভের ধরন নির্ভর করবে। সব পরিচালন ব্যয়, সুদ ও কর বাদ দেওয়ার পর Net Profit Margin হিসাব করতে হবে।

কাঙ্ক্ষিত লাভ অর্জনের জন্য কত বিক্রয় প্রয়োজন?

লাভের হার নির্ধারণের পাশাপাশি ব্যবসার Break-even Point জানা জরুরি।

Break-even Point হলো এমন বিক্রয়ের পরিমাণ, যেখানে ব্যবসার মোট আয় ও মোট ব্যয় সমান হয়। এ পর্যায়ে ব্যবসার লাভ বা লোকসান থাকে না।

সূত্র:

Break-even Sales = Fixed Costs ÷ Contribution Margin Ratio

ধরা যাক:

  • মাসিক Fixed Costs = ১,০০,০০০ টাকা
  • Contribution Margin Ratio = ২৫%

Break-even Sales = ১,০০,০০০ ÷ ০.২৫

= ৪,০০,০০০ টাকা

অর্থাৎ, এই ব্যবসাকে মাসে ৪ লাখ টাকা বিক্রি করতে হবে শুধু Fixed Costs মেটানোর জন্য। এর বেশি বিক্রয় হলে, অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকলে, ব্যবসা লাভ করতে শুরু করবে। এই হিসাব ব্যবসার বিক্রয় লক্ষ্য নির্ধারণে সাহায্য করে।

লাভের হার কম হলে কী করবেন?

ব্যবসার লাভের হার কম হলে সব সময় বিক্রয়মূল্য বাড়ানোই একমাত্র সমাধান নয়।

আপনি বিবেচনা করতে পারেন:

  • সরবরাহকারীর সঙ্গে ক্রয়মূল্য নিয়ে আলোচনা করা
  • পরিবহন ও প্যাকেজিং খরচ কমানো
  • অপচয় ও পণ্য ফেরত কমানো
  • ধীরগতির পণ্য মজুত নিয়ন্ত্রণ করা
  • অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয় কমানো
  • বেশি লাভজনক পণ্য বা সেবার বিক্রয় বাড়ানো
  • বিক্রয়মূল্য ও ছাড়ের নীতি পুনর্বিবেচনা করা
  • বাকিতে বিক্রয়ের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা

তবে খরচ কমানোর সময় পণ্যের মান, গ্রাহকসেবা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

ব্যবসায় ২০% লাভ করা কি ভালো?

২০% লাভ ভালো কি না, তা নির্ভর করে এটি Gross Margin নাকি Net Profit Margin, ব্যবসার ধরন, ঝুঁকি ও পরিচালন ব্যয়ের ওপর। ২০% Gross Margin থাকা ব্যবসার Net Margin অনেক কম হতে পারে।

পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর কত শতাংশ লাভ যোগ করা উচিত?

এটি নির্ভর করে পণ্যের খরচ, বাজারমূল্য, প্রতিযোগিতা ও ব্যবসার কাঙ্ক্ষিত Margin-এর ওপর। শুধু একটি নির্দিষ্ট Markup অনুসরণ না করে মোট খরচ ও বাজার যাচাই করা উচিত।

৩০% Markup দিলে কি ৩০% Profit Margin হবে?

না। ৩০% Markup দিলে Profit Margin হবে:

৩০ ÷ ১৩০ × ১০০ = প্রায় ২৩.০৮%

কারণ Markup খরচের ওপর এবং Margin বিক্রয়মূল্যের ওপর হিসাব করা হয়।

ব্যবসার লাভের হার কত ঘন ঘন হিসাব করা উচিত?

বেশিরভাগ ব্যবসার ক্ষেত্রে মাসিকভাবে Gross Margin ও Net Profit Margin হিসাব করা ভালো। পণ্যের দাম বা খরচ দ্রুত পরিবর্তিত হলে আরও ঘন ঘন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বেশি লাভের হার রাখলেই কি ব্যবসা বেশি লাভ করবে?

সব সময় নয়। বেশি দাম রাখলে বিক্রয়ের পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাই লাভের হার এবং বিক্রয়ের পরিমাণের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।

উপসংহার

ব্যবসায় কত শতাংশ লাভ করা উচিত, তার উত্তর নির্ভর করে ব্যবসার খরচ, বাজার, প্রতিযোগিতা এবং কাঙ্ক্ষিত আয়ের ওপর।

একটি ব্যবসার জন্য সঠিক লাভের হার নির্ধারণ করতে হলে প্রথমে মোট খরচ হিসাব করতে হবে, এরপর Gross Profit Margin ও Net Profit Margin-এর পার্থক্য বুঝতে হবে এবং বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

শুধু পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট শতাংশ যোগ করলেই লাভ নিশ্চিত হয় না। ব্যবসার পরিচালন ব্যয়, বিক্রয়ের পরিমাণ, পাওনা আদায়, মজুত এবং নগদ প্রবাহও বিবেচনায় রাখতে হবে।

মনে রাখবেন, ভালো লাভের হার হলো সেই হার, যা আপনার ব্যবসার সব খরচ মেটাতে পারে, বাজারে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসাকে লাভজনক রাখে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular