Home Business Guidelines ব্যবসার Working Capital Requirement কীভাবে হিসাব করবেন?

ব্যবসার Working Capital Requirement কীভাবে হিসাব করবেন?

একজন ব্যবসায়ী নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে চান, অথবা চলমান ব্যবসার বিক্রয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। তাঁর সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে—ব্যবসার দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে মোট কত টাকা প্রয়োজন হবে?

পণ্য কেনা, কাঁচামাল সংগ্রহ, কর্মচারীদের বেতন, পরিবহন খরচ, ক্রেতার কাছ থেকে পাওনা আদায়ের আগ পর্যন্ত ব্যবসা চালানো—সবকিছুর জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। এই অর্থের প্রয়োজন সঠিকভাবে হিসাব না করলে ব্যবসায় কখনো অতিরিক্ত টাকা আটকে থাকে, আবার কখনো প্রয়োজনের সময় নগদ অর্থের সংকট তৈরি হয়।

এ কারণে ব্যবসা শুরু করা বা সম্প্রসারণের আগে Working Capital Requirement (WCR) বা কার্যকরী মূলধনের প্রয়োজনীয়তা হিসাব করা জরুরি।

Working Capital Requirement হিসাব করে একজন উদ্যোক্তা বুঝতে পারেন, ব্যবসার পরিচালন কার্যক্রম সচল রাখতে কত টাকা প্রয়োজন, নিজের কত টাকা বিনিয়োগ করতে হবে এবং অতিরিক্ত অর্থের জন্য ঋণ নেওয়া প্রয়োজন কি না।

এই আর্টিকেলে আমরা Working Capital Requirement কী, কীভাবে হিসাব করতে হয়, বাংলাদেশের ব্যবসার উদাহরণ এবং প্রয়োজনীয় মূলধন কমানোর উপায় বিস্তারিতভাবে জানব।

Working Capital Requirement কী?

Working Capital Requirement হলো ব্যবসার দৈনন্দিন পরিচালন কার্যক্রম চালু রাখতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হয়।

ব্যবসায় পণ্য বা কাঁচামাল কেনার পর তা বিক্রি করতে সময় লাগে। আবার বাকিতে বিক্রি করলে ক্রেতার কাছ থেকে টাকা আদায় করতেও সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে ব্যবসার বিভিন্ন খরচ চালানোর জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়।

সাধারণভাবে Working Capital Requirement নির্ধারণের সময় বিবেচনা করা হয়:

  • ব্যবসার মজুত পণ্য বা কাঁচামাল
  • ক্রেতার কাছ থেকে পাওনা টাকা
  • দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ
  • সরবরাহকারীর কাছে বকেয়া টাকা
  • অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি পরিচালন দায়

সহজ সূত্র:

Working Capital Requirement = Operating Current Assets − Operating Current Liabilities

এখানে Operating Current Assets-এর মধ্যে সাধারণত Inventory, Trade Receivables এবং প্রয়োজনীয় Operating Cash অন্তর্ভুক্ত থাকে।

Operating Current Liabilities এর মধ্যে সাধারণত Trade Payables এবং অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি পরিচালন দায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী কোন সম্পদ ও দায় অন্তর্ভুক্ত হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে।

Working Capital Requirement হিসাব করার প্রধান উপাদান

১ Inventory বা মজুত পণ্য

বিক্রির জন্য যে পণ্য বা উৎপাদনের জন্য যে কাঁচামাল মজুত রাখা হয়, তার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়।

Trading Business-এর ক্ষেত্রে Inventory হতে পারে:

  • ক্রয়ের জন্য আনা পণ্য
  • বিক্রির জন্য প্রস্তুত পণ্য
  • পথে থাকা পণ্য, যদি হিসাবের নীতিমালা অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত হয়

Manufacturing Business এর ক্ষেত্রে Inventory হতে পারে:

  • Raw Materials
  • Work-in-Progress
  • Finished Goods

Inventory-এর পরিমাণ বেশি হলে ব্যবসার মূলধনের বড় অংশ মজুতে আটকে থাকতে পারে।

২ Accounts Receivable বা ক্রেতার কাছে পাওনা

ব্যবসা বাকিতে পণ্য বা সেবা বিক্রি করলে ক্রেতার কাছ থেকে টাকা পাওয়ার আগ পর্যন্ত সেই অর্থ Receivables হিসেবে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, মাসে ১০ লাখ টাকার বাকিতে বিক্রয় হয় এবং ক্রেতারা গড়ে ৩০ দিন পর টাকা দেয়।

তাহলে আনুমানিক Receivables:

= ১০,০০,০০০ × ৩০/৩০ = ১০,০০,০০০ টাকা

অর্থাৎ, ব্যবসার প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্রেতার কাছে পাওনা থাকতে পারে।

৩ Operating Cash বা পরিচালন নগদ অর্থ

ব্যবসার দৈনন্দিন খরচ চালাতে হাতে বা ব্যাংক হিসাবে কিছু নগদ অর্থ রাখা প্রয়োজন।

যেমন:

  • কর্মচারীদের বেতন
  • ভাড়া
  • বিদ্যুৎ ও অন্যান্য বিল
  • পরিবহন খরচ
  • জরুরি পরিচালন ব্যয়

এই নগদ অর্থের প্রয়োজন ব্যবসার আকার, খরচের সময়সূচি এবং নগদ প্রবাহের ওপর নির্ভর করে।

৪ Accounts Payable বা সরবরাহকারীর কাছে বকেয়া

ব্যবসা সরবরাহকারীর কাছ থেকে বাকিতে পণ্য বা কাঁচামাল কিনলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টাকা পরিশোধ করতে হয় না। এই বকেয়া অর্থ ব্যবসার Working Capital Requirement কমাতে সাহায্য করে।

তবে সরবরাহকারীর পেমেন্টের সময় বাড়ানোর জন্য চুক্তি ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বিবেচনা করা জরুরি।

আরও পড়ুন: Cash Conversion Cycle কী? ব্যবসার টাকা কত দিনে ফিরে আসে?

Working Capital Requirement হিসাব করার সূত্র

ব্যবসার পরিচালন কার্যক্রমের ভিত্তিতে একটি ব্যবহারিক সূত্র হলো:

WCR = Inventory + Trade Receivables + Operating Cash − Trade Payables − Other Operating Current Liabilities

এখানে:

  • Inventory = গড় বা পরিকল্পিত মজুত পণ্যের মূল্য
  • Trade Receivables = ক্রেতার কাছ থেকে পাওনা
  • Operating Cash = পরিচালন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ
  • Trade Payables = সরবরাহকারীর কাছে বকেয়া
  • Other Operating Current Liabilities = অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি পরিচালন দায়

এই সূত্রে শুধু ব্যবসার পরিচালন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্পদ ও দায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

ব্যাংক ঋণ সাধারণত Operating Current Liabilities-এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না, কারণ সেটি Working Capital Requirement অর্থায়নের একটি উৎস হতে পারে।

একটি ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান এর Working Capital Requirement হিসাব

ধরা যাক, ঢাকার একটি পাইকারি প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবসা মাসে ২০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করে।

ব্যবসাটির পরিকল্পিত আর্থিক তথ্য:

বিবরণ পরিমাণ
মাসিক বিক্রয় ২০,০০,০০০ টাকা
মাসিক পণ্য ক্রয়ের খরচ ১৫,০০,০০০ টাকা
Inventory Holding Period ৩০ দিন
Receivable Collection Period ২০ দিন
Supplier Payment Period ২৫ দিন
প্রয়োজনীয় Operating Cash ২,০০,০০০ টাকা

এখন ধাপে ধাপে হিসাব করি।

ধাপ ১: Inventory Requirement হিসাব

Inventory Requirement হিসাব করতে দৈনিক Cost of Goods Sold বা পণ্য বিক্রির খরচ ব্যবহার করা যায়।

ধরা যাক, মাসে ৩০ দিন ধরে হিসাব করা হচ্ছে।

দৈনিক COGS: ১৫,০০,০০০ ÷ ৩০ = ৫০,০০০ টাকা

Inventory Requirement = Daily COGS × Inventory Holding Period

৫০,০০০ × ৩০= ১৫,০০,০০০ টাকা

ধাপ ২: Accounts Receivable হিসাব

দৈনিক Credit Sales: ২০,০০,০০০ ÷ ৩০ = ৬৬,৬৬৭ টাকা (প্রায়)

Receivables Requirement:

= Daily Credit Sales × Receivable Collection Period

৬৬,৬৬৭ × ২০ = ১৩,৩৩,৩৪০ টাকা (প্রায়)

এই উদাহরণে ধরে নেওয়া হয়েছে, পুরো বিক্রয় বাকিতে হচ্ছে। যদি কিছু বিক্রয় নগদে হয়, তাহলে শুধু Credit Sales ব্যবহার করতে হবে।

ধাপ ৩: Accounts Payable হিসাব

Daily Credit Purchases: = ১৫,০০,০০০ ÷ ৩০ = ৫০,০০০ টাকা

Accounts Payable: = Daily Credit Purchases × Supplier Payment Period

৫০,০০০ × ২৫ = ১২,৫০,০০০ টাকা

এখানে ধরে নেওয়া হয়েছে, পুরো পণ্য ক্রয় বাকিতে হচ্ছে।

ধাপ ৪: Working Capital Requirement হিসাব

বিবরণ টাকা
Inventory ১৫,০০,০০০
Accounts Receivable ১৩,৩৩,৩৪০
Operating Cash ২,০০,০০০
মোট Operating Current Assets ৩০,৩৩,৩৪০
Accounts Payable ১২,৫০,০০০
Working Capital Requirement ১৭,৮৩,৩৪০

অর্থাৎ, এই ব্যবসার আনুমানিক Working Capital Requirement প্রায় ১৭.৮৩ লাখ টাকা।

ব্যবসাটি চালু রাখতে এই পরিমাণ অর্থ পরিচালন কার্যক্রমে প্রয়োজন হতে পারে। তবে বাস্তবে Inventory, Credit Sales, Credit Purchases এবং নগদ প্রবাহের তথ্য অনুযায়ী হিসাব পরিবর্তিত হবে।

আরও পড়ুন : Working Capital Loan কী? ব্যবসার জন্য কখন ঋণ নেওয়া উচিত?

Working Capital Requirement হিসাবের আরেকটি সহজ পদ্ধতি

ব্যবসার বিস্তারিত Inventory, Receivables ও Payables তথ্য না থাকলে প্রাথমিক পরিকল্পনার জন্য Operating Cycle পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়।

প্রথমে ব্যবসার Cash Conversion Cycle হিসাব করতে হবে।

Cash Conversion Cycle = Inventory Days + Receivable Days − Payable Days

তারপর আনুমানিক Working Capital Requirement:

WCR  = Daily Operating Cash Cost × Cash Conversion Cycle + Required Cash Buffer

এই পদ্ধতিতে Daily Operating Cash Cost নির্ধারণ করার সময় ব্যবসার যে পরিচালন খরচগুলো নগদ অর্থের প্রয়োজন তৈরি করে, সেগুলো ব্যবহার করতে হবে।

এটি একটি আনুমানিক পদ্ধতি। বিস্তারিত হিসাবের ক্ষেত্রে Inventory, Receivables, Payables এবং Cash Requirement আলাদাভাবে হিসাব করা বেশি নির্ভরযোগ্য।

উৎপাদনমুখি ব্যবসা এর Working Capital Requirement

উৎপাদনমুখি ব্যবসার Working Capital Requirement সাধারণ ট্রেডিং ব্যবসার তুলনায় জটিল হতে পারে।

কারণ এখানে কাঁচামাল কেনার পর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। এরপর Finished Goods বিক্রি হয় এবং ক্রেতার কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়।

উৎপাদনমুখি ব্যবসার ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হবে:

  • Raw Materials Inventory
  • Work-in-Progress Inventory
  • Finished Goods Inventory
  • Trade Receivables
  • Operating Cash
  • Trade Payables
  • অন্যান্য Operating Current Liabilities

উদাহরণস্বরূপ, একটি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল কেনার পর ১৫ দিন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সময় নেয়, Finished Goods ২০ দিন মজুত রাখে এবং ক্রেতার কাছ থেকে টাকা পেতে ৪৫ দিন সময় লাগে।

এক্ষেত্রে অর্থ দীর্ঘ সময় পরিচালন কার্যক্রমে আটকে থাকতে পারে।

তাই Manufacturing Business এর Working Capital Requirement হিসাব করার সময় শুধু কাঁচামালের খরচ নয়, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও Finished Goods-এর সময়ও বিবেচনা করতে হবে।

Working Capital Requirement বেশি হলে কী সমস্যা হয়?

Working Capital Requirement বেশি হলে ব্যবসার পরিচালন কার্যক্রমে বেশি অর্থ আটকে থাকে।

এর ফলে:

  • ব্যবসা চালাতে বেশি নিজস্ব মূলধন প্রয়োজন হয়
  • ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে
  • ঋণের সুদ ও আর্থিক খরচ বাড়ে
  • নতুন পণ্য কেনার অর্থ কমে যায়
  • বিক্রয় বাড়লেও নগদ অর্থের সংকট তৈরি হতে পারে
  • ব্যবসার সম্প্রসারণ ধীর হতে পারে

তবে বেশি Working Capital Requirement সবসময় খারাপ নয়। বড় ব্যবসা, দীর্ঘ উৎপাদন চক্র বা বেশি ক্রেডিট বিক্রয়ের কারণে প্রয়োজনীয় মূলধন বেশি হতে পারে।

মূল বিষয় হলো, ব্যবসার প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ মজুত বা পাওনায় আটকে আছে কি না।

Working Capital Requirement কমানোর উপায়

১. ইনভেন্টরি নিয়ন্ত্রণ করুন

বিক্রয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী পণ্য কিনুন। ধীরগতির পণ্য অতিরিক্ত মজুত করা কমান।

২. ক্রেতার কাছ থেকে দ্রুত টাকা আদায় করুন

ক্রেডিট পলিসি নির্ধারণ করুন, বকেয়া পাওনা নিয়মিত অনুসরণ করুন এবং সময়মতো ইনভয়েজ পাঠান।

৩. সরবরাহকারীর সঙ্গে পেমেন্টের সময় আলোচনা করুন

ব্যবসার নগদ প্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রেডিট টার্ম নির্ধারণ করুন।

৪. বিক্রয় ও খরচের পূর্বাভাস তৈরি করুন

আগামী ৪ থেকে ১৩ সপ্তাহের সম্ভাব্য নগদ আদায় ও পরিশোধের পরিকল্পনা তৈরি করুন।

৫. অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয় কমান

যেসব খরচ ব্যবসার কার্যক্রমে সরাসরি প্রয়োজন তৈরি করছে না, সেগুলো পর্যালোচনা করুন।

৬. Cash Conversion Cycle পর্যবেক্ষণ করুন

Inventory Days, Receivable Days ও Payable Days নিয়মিত হিসাব করুন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে Khan Guidance-এর Cash Conversion Cycle কী? ব্যবসার টাকা কত দিনে ফিরে আসে? আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

Working Capital Requirement ও ঋণের প্রয়োজন

Working Capital Requirement হিসাব করার পর ব্যবসার কত টাকা নিজস্ব মূলধন থেকে আসবে এবং কত টাকা অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করতে হবে।

সহজ সূত্র:

External Financing Requirement = Working Capital Requirement − Available Operating Funds

উদাহরণ:

বিবরণ টাকা
Working Capital Requirement ১৭,৮৩,৩৪০
ব্যবসার নিজস্ব ব্যবহারযোগ্য অর্থ ১০,০০,০০০
নিশ্চিত অন্যান্য অর্থের উৎস ২,০০,০০০
অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন ৫,৮৩,৩৪০

এক্ষেত্রে ব্যবসার অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন প্রায় ৫.৮৩ লাখ টাকা।

এই ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যাংক ঋণ, মালিকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ অথবা সরবরাহকারীর ক্রেডিট টার্মস বিবেচনা করা যেতে পারে।

ঋণ নেওয়ার আগে অবশ্যই ঋণের সুদ, অন্যান্য চার্জ এবং পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

Working Capital Requirement কি ব্যবসা শুরুর আগে হিসাব করা যায়?

হ্যাঁ। ব্যবসার সম্ভাব্য বিক্রয়, পণ্য কেনার খরচ, Inventory Days, Credit Sales এবং Supplier Payment Period এর ভিত্তিতে প্রাথমিক হিসাব করা যায়। তবে বাস্তব ব্যবসা শুরু হলে প্রকৃত তথ্য অনুযায়ী হিসাব আপডেট করতে হবে।

Working Capital Requirement বেশি হলে কি ঋণ নিতে হবে?

সবসময় নয়। প্রথমে মজুত পণ্য, ক্রেতার পাওনা, সরবরাহকারীর ক্রেডিট টার্মস এবং নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজন হলে ঋণ বিবেচনা করা যেতে পারে।

Working Capital Requirement কি প্রতি মাসে পরিবর্তিত হয়?

হ্যাঁ। বিক্রয়, মজুত, ক্রেতার পেমেন্ট এবং সরবরাহকারীর শর্ত পরিবর্তিত হলে Working Capital Requirement-ও পরিবর্তিত হয়। মৌসুমি ব্যবসায় এই পরিবর্তন আরও বেশি হতে পারে।

Working Capital Requirement-এর মধ্যে স্থায়ী সম্পদ অন্তর্ভুক্ত হয়?

সাধারণত না। জমি, ভবন, মেশিন বা অন্যান্য স্থায়ী সম্পদ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এগুলো Working Capital Requirement-এর অংশ নয়।

ব্যবসার Working Capital Requirement কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?

সাধারণত ইনভেন্টরি দ্রুত বিক্রি করা, ক্রেতার কাছ থেকে দ্রুত টাকা আদায় করা এবং সরবরাহকারীর সঙ্গে উপযুক্ত পেমেন্টের সময় নির্ধারণ করা কার্যকর উপায়।

উপসংহার

Working Capital Requirement হিসাব করা ব্যবসার আর্থিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি উদ্যোক্তাকে বুঝতে সাহায্য করে, দৈনন্দিন ব্যবসা চালাতে কত টাকা প্রয়োজন, কত টাকা মজুত ও পাওনায় আটকে থাকবে এবং অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন কত হতে পারে।

ব্যবসার বিক্রয় বাড়ানোর আগে Working Capital Requirement হিসাব করা বিশেষভাবে জরুরি। কারণ বিক্রয় বাড়লে মজুত ও প্রাপ্য হিসাবের জন্য আরও বেশি অর্থ প্রয়োজন হতে পারে।

মনে রাখবেন, ব্যবসা চালানোর জন্য শুধু লাভের পরিকল্পনা করলেই হবে না; সেই লাভ অর্জন করতে কত টাকা আগে বিনিয়োগ করতে হবে, সেটিও হিসাব করতে হবে।

ব্যবসার বিক্রয়, খরচ ও নিট লাভ হিসাব করতে Khan Guidance এর Profit Calculator ব্যবহার করতে পারেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version