বায়িং হাউজ ব্যবসা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ব্যবসাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর বড় কারণ হচ্ছে বাংলাদেশে রয়েছে কয়েক হাজার গার্মেন্টস। বিশ্বে পোশাক খাতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।
যেহেতু বাংলাদেশ বিশ্বে পোশাক খাতের অন্যতম সাপ্লায়ার দেশ সেহেতু অসংখ্য বিদেশি পোশাক ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত পোশাক কিনে থাকে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ভাল ব্র্যান্ডগুলো তাদের ক্রয়াদেশ বায়িং হাউজের মাধ্যমেই দিয়ে থাকে। তাই আমাদের বায়িং হাউজ ব্যবসার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
বায়িং হাউজ কি?
বায়িং হাউজ হচ্ছে একটি মধ্যস্থকারী প্রতিষ্ঠান, যারা বিদেশি ক্রেতা এবং স্থানীয় গার্মেন্টস মালিকদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।
সহজভাবে বললে, বায়িং হাউজ বিদেশি ক্রেতার হয়ে কাজ করে। তারা পণ্য অর্ডার দেওয়া থেকে শুরু করে শিপমেন্ট পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করে।
বায়িং হাউজের প্রধান কাজ কি কি?
একটি বায়িং হাউজ বিভিন্ন ধরণের কাজ করে থাকে। এর মধ্যে প্রধান কাজগুলো হচ্ছে:
১. ক্রেতা ও ফ্যাক্টরির মধ্যে সংযোগ স্থাপন
বায়িং হাউজ বিদেশি বায়ারের অর্ডার সংগ্রহ করে উপযুক্ত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি নির্বাচন করে এবং তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে দেয়। তারা দাম ও অন্যান্য শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করে।
২. স্যাম্পল ডেভেলপমেন্ট
ক্রেতাদের ডিজাইন অনুযায়ী প্রি-প্রোডাকশন স্যাম্পল তৈরি অনুমোদনের জন্য পাঠানো, স্যাম্পল সংশোধন ও ফিডব্যাক বাস্তবায়ন এর কাজ করে থাকে।
৩. কস্টিং ও অর্ডার নিশ্চিত করা
পোশাকের কস্টিং শিট তৈরি করে FOB / CIF / CNF অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করে অর্ডার নিশ্চিত করা।
৪. কাঁচামাল ও প্রোডাকশন মনিটরিং
কাপড়, এক্সেসরিজ (বাটন, জিপার, লেবেল ইত্যাদি) প্রোডাকশন প্ল্যান অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা দেখা এবং
সময়মতো কাজ শেষ করার বিষয়ে মনিটর করা।
৫. কোয়ালিটি কন্ট্রোল (QC & Inspection)
বায়ারের চাহিদা অনুযায়ী কোয়ালিটি বজায় রাখা হচ্ছে কিনা যা যাচাই করা।
৬. কমপ্লায়েন্স ও সোশ্যাল অডিট
ফ্যাক্টরির কমপ্লায়েন্স স্ট্যান্ডার্ড যাচাই করা, শ্রম আইন, নিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয় দেখা ও বায়ারের কোড অব কন্ডাক্ট অনুসরণ নিশ্চিত করা বায়িং হাউজের কাজ।
৭. শিপমেন্ট ও ডকুমেন্টেশন সাপোর্ট
প্যাকিং, কার্টন মার্কিং যাচাই করা, শিপমেন্ট সময়মতো হচ্ছে কিনা তা ফলোআপ করা।
আরও পড়ুন: গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে? মেশিন, খরচ, লাভসহ বিস্তারিত।
বায়িং হাউজ ব্যবসা শুরু করার আগে যেসব বিষয়ে জ্ঞান থাকা উচিৎ
বায়িং হাউজ ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে গার্মেন্টস ব্যবসা নখদর্পনে থাকতে হবে৷
সবচেয়ে ভাল হয় গার্মেন্টস এ কয়েক বছর চাকরি করে ভালভাবে জেনে এই ব্যবসা শুরু করা।
১. গার্মেন্টস পণ্য সম্পর্কে জ্ঞান
বায়িং হাউজ ব্যবসাটা গার্মেন্টস ব্যবসার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাই আপনাকে গার্মেন্টস পণ্য সম্পর্কে ভালভাবে জানতে হবে।
নিট, ওভেন, সোয়েটার, ডেনিম, ফেব্রিকস, জিএমএস, তুলা, টিসি, পোলেস্টার, রঙের বৈচিত্র্যতা এসব সম্পর্কে জানা থাকতে হবে।
২. কস্টিং ও প্রাইসিং
কিভাবে গার্মেন্টস পণ্যের কস্টিং করা হয়। FOB / CIF / CNF কি, Fabric + Trims + CM কিভাবে হিসাব করা হয়, মার্জিন কোথায় যোগ হয় এবং বায়ারের সাথে কিভাবে দামাদামি করতে হয় ইত্যাদি বিষয়ে ভাল জ্ঞান থাকতে হবে।
৩. মার্চেন্ডাইজিং ওয়ার্কফ্লো সম্পর্কে জানা
নিচের ওয়ার্কফ্লোটা ভাল করে মনে রাখতে হবে:
ইনকোয়ারি → কস্টিং → স্যাম্পল → অর্ডার → প্রোডাকশন → QC (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) → শিপমেন্ট → পেমেন্ট
৪. আমদানি রপ্তানি ও এলসি জ্ঞান
বায়িং হাউজ ব্যবসা করতে হলে আপনাকে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম কিভাবে সম্পন্ন হয় তা জানতে হবে।
এলসি কি, এলসির প্রকারভেদ, কিভাবে এলসি খুলতে হয় ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।
৫. যোগাযোগ দক্ষতা ও ইংরেজি জানা
বিদেশি বায়ারদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য ইংরেজি জানা আবশ্যক। ইংরেজি ছাড়া আপনি বায়িং হাউজ ব্যবসা চালাতে পারবেন না।
এছাড়া বায়ারদের সাথে কিভাবে কথা বললে তারা ক্রয় করতে অনুপ্রাণিত হবে ও নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করার জন্য যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।
বায়িং হাউজ ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে?
একটি বায়িং হাউজ ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনাকে যেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে:
১. বায়িং হাউজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন
বায়িং হাউজ ব্যবসা শুরু করার আগে প্রথমেই এই ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিয়ে নিন। এক্ষেত্রে কোন বায়িং হাউজের চাকরি করে নিলে খুব ভাল হয় তাহলে আপনি সবকিছু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
আপনি চাইলে ট্রেডার বায়িং হাউজ হিসেবে শুরু করতে পারেন আবার কমিশন এজেন্ট হিসেবেও শুরু করতে পারেন।
আপনার টার্গেট সেক্টর হতে পারে নিট, ওভেন বা সোয়েটার। নতুন হলে নিট ও ওভেন দিয়ে শুরু করাই ভাল হবে।
২: রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স
বায়িং হাউজ রেজিস্ট্রেশন এর জন্য আপনার বেশকিছু ডকুমেন্টস লাগবে। এসব ডকুমেন্টস এর মধ্যে রয়েছে:
- আপডট ট্রেড লাইসেন্স
- ট্যাক্স রিটার্ন সার্টিফিকেট
- লিমিটেড কোম্পানী হইলে মেমোরেন্ডাম এন্ড আর্টিক্যালস অফ এ্যাসোসিয়েশন এবং সার্টিফিকেট অফ ইনকর্পোরেশন- এর কপি । অংশীদারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হইলে অংশীদারি চুক্তিপত্রের কপি।
- সম্ভাব্য বাৎসরিক টার্নওভার
- ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত সলভেন্সি সার্টিফিকেট
- অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্রের কপি
- উদ্যোক্তাদের জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি এবং বিদেশি উদ্যোক্তা বা কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের কপি (একটা ফাইলে সকল NID দিয়ে pdf করে আপলোড করতে হবে অথবা অন্যান্য অপশন সিলেক্ট করে আপলোড করতে হবে)
- তফসিল-১ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ (কোড নং- ১-৪১৩১-০০০১-১৮১৬) সংক্রান্ত চালানের কপি লাগবে (অনলাইন কপি)
- ১০০% বৈদেশিক বিনিয়োগে বা যৌথ বিনিয়োগে স্থাপিত বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে বৈদেশিক উদ্যোক্তা বা উদ্যোক্তাদেরভ এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট এর কপি
- যৌথ বিনিয়োগে স্থাপিত বস্ত্রশিল্পের জন্য যৌথ বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তিপত্রের সত্যায়িত কপি। ( প্রযোজ্য ক্ষেত্রে )
নিবন্ধন ফি ২০ হাজার টাকা। ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার নিয়ম।
৩. অফিস সেটআপ
বায়িং হাউজের জন্য ছোট একটি অফিস হলেই যথেষ্ট।কম্পিউটার / ল্যাপটপ, ইন্টারনেট কানেকশন, প্রিন্টার + স্ক্যানার, অফিসিয়াল ইমেইল এবং ওয়েবসাইট এগুলো হচ্ছে বায়িং হাউজ ব্যবসার সেটআপ।
৪. জনবল নিয়োগ
বায়িং হাউজ ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য আপনার বিভিন্ন ধরণের কাজের জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগ দিতে হবে।
এসব জনবলের মধ্যে রয়েছে:
- মার্চেন্ডাইজার
- কোয়ালিটি কন্ট্রোল ইন্সপেক্টর
- সোর্সিং অফিসার
- মার্কেটিং অফিসার
- একাউন্ট্যান্ট
- অফিস সহকারী
৫. বায়ার খোঁজা ও কারখানার সাথে যোগাযোগ
অফিস সাজসজ্জা ও জনবল নিয়োগ দেওয়ার পরই আপনি ব্যবসায়ীক কার্যক্রম শুরু করে দিতে পারেন।
ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনার যেমন ক্রেতা লাগবে তেমনি কারখানাও লাগবে। এজন্য প্রথমেই কিছু ভাল কারখানা টার্গেট করে তাদের সাথে কথা বলে চুক্তি করে ফেলুন।
বিদেশি ক্রেতা খুঁজে বের করতে হবে। যত ক্রেতা তত বেশি ইনকামের সুযোগ। ক্রেতা খুঁজে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন এপারেল এক্সপোতে যোগদান করুন।
Alibaba, Global Sources, Fibre2Fashion ইত্যাদি প্লাটফর্ম থেকে আপনি সহজেই ক্রেতা খুঁজে পেতে পারেন।
বায়ার খুঁজে পাওয়ার আরেকটি বড় মাধ্যম হচ্ছে লিংকড-ইন। যেহেতু এটি প্রফেশনালদের একটি প্লাটফর্ম তাই এখানে আপনি সহজেই বিদেশি ক্রেতা পেয়ে যাবেন।
এছাড়া অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর মাধ্যমে ক্লায়েন্ট হান্টিং করতে পারেন।
আরও পড়ুন: এলসি কি? এলসি খোলার নিয়ম ও ডকুমেন্টস চেকলিস্ট।
বায়িং হাউজ কিভাবে লাভ করে?
একটি বায়িং হাউজ বিভিন্নভাবে লাভ করে থাকে। নিচে এই বিষয়ে আলোচনা করা হলো।
১. কমিশন আয়
বায়িং হাউজের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস হচ্ছে কমিশন। বিদেশি ক্রেতারা গার্মেন্টস পণ্য কেনার জন্য বায়িং হাউজের সাথে চুক্তি করে।
ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বায়িং হাউজ ফ্যাক্টরি নির্বাচন, প্রোডাকশন, QC, শিপমেন্ট ম্যানেজ করে। এর বিনিময়ে তারা মোট অর্ডার ভ্যালুর উপর কমিশন পায়।
সাধারণত ৫% – ১০% হয়ে থাকে কমিশন রেট। তবে।
বায়ার, পণ্যের ধরন ও ভলিউম অনুযায়ী এই রেট ভিন্ন হয়।
উদাহরণ: অর্ডার ভ্যালু ১,০০,০০০ ডলার। কমিশন হচ্ছে ৭%। বায়িং হাউজের আয় ৭,০০০ ডলার।
২. মার্কআপ প্রফিট
কিছু বায়িং হাউজ সরাসরি ট্রেডার হিসেবে কাজ করে। এক্ষেত্রে তারা ফ্যাক্টরি থেকে কম দামে অর্ডার নেয়। বায়ারকে একটু বেশি দামে কোট করে। মাঝখানের পার্থক্যই হচ্ছে লাভ।
উদাহরণ: ফ্যাক্টরি প্রাইস = ৪.৫ ডলার প্রতি পিস।
বায়ার প্রাইস = ৪.৮০ ডলার প্রতি পিস।
অর্ডার = ৫০,০০০ পিস।
লাভ= (০.৩০ × ৫০,০০০) = ১৫,০০০ ডলার।
৩. স্যাম্পল ও ডেভেলপমেন্ট চার্জ
নতুন ক্রেতা পেলে তাদের কাছ থেকে স্যাম্পল তৈরি ফি, প্যাটার্ন/ টেক প্যাক ডেভেলপমেন্ট ফি।
৪. QC ও Inspection ফি
কিছু বায়ার আলাদা করে QC চার্জ দেয়। উৎপাদন পর্যায়ে ইন্সপেকশন ও ফাইনাল ইন্সপেকশন এর কয়েকশো ডলার আয় করা যায়।
৫. সোর্সিং ও কনসালটেন্সি ফি
বায়ার বা ফ্যাক্টরির মাঝে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সোর্সিং ফি নেওয়া যায়। এছাড়া কমপ্লায়ান্স কনসাল্টেন্সি, বিক্রেতা সম্পর্কে বিশ্লেষণাত্মক রিপোর্ট করে ফি নেওয়া যায়।
৬. এক্সেসরিজ ও কাঁচামাল মার্জিন
আপনি চাইলে এক্সেসরিজ ও কাঁচামাল সোর্সিং করে মার্জিন নিতে পারবেন।
৭. রেফারেল ও সাব-কন্ট্রাক্ট কমিশন
আপনার বায়িং হাউজ যখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে তখন আপনার পরিচিত বায়ারের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।
তখন অন্যান্য বায়িং হাউজগুলো আপনার কাছে রেফারেল বা সাব-কন্ট্রাক্ট কাজের জন্য আসবে। তখন আপনি এসব কাজের বিনিময়ে কমিশন নিতে পারবেন।
আরও পড়ুন: বিদেশে পণ্য রপ্তানি ব্যবসা শুরু করার স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন
বায়িং হাউজ ব্যবসায় সফল হওয়ার ১০ টি প্র্যাকটিক্যাল টিপস
১. প্রথমে এক ধরনের প্রোডাক্ট যেমন নিট, ওভেন, ডেনিম ইত্যাদির মধ্যে যেকোনো একটায় স্পেশালাইজড হোন। অভিজ্ঞতা অর্জনের পর অন্য প্রডাক্ট যুক্ত করুন।
২. কমিশনের চেয়ে বিশ্বাসকে প্রাধান্য দিন। প্রথম অর্ডারে কম কমিশন হলেও সমস্যা নেই। সময় ও কোয়ালিটি ঠিক রাখুন। তাহলে রিটার্ন কাস্টমার পাবেন বেশি।
৩. কস্টিং কখনো আন্দাজে করবেন না কারণ ভুল কস্টিং ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফেব্রিক্স, ট্রিমস, সিএম এর হিসাব আলাদা করতে হবে। ওয়াশিং, টেস্ট ও ওয়েস্টেজ এর মত হিডেন খরচের হিসাব যোগ করতে হবে।
৪. কোন ফ্যাক্টরিতে অর্ডার দেওয়ার ফ্যাক্টরি কমপ্লায়েন্স, সক্ষমতা, বিগত পারফর্মেন্স ইত্যাদি ভাল করে যাচাই করে নিন।
৫. উৎপাদনকালীন ও চূড়ান্ত অনুসন্ধান ছাড়া কোন শিপমেন্ট করবেন না।
৬. ক্রেতাকে দেওয়া কমিটমেন্ট অবশ্যই রক্ষা করবেন৷ মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিশ্বাস নষ্ট করবেন না। কোন সমস্যা হলে আগেই জানিয়ে দিন।
৭. ছোট বায়ারকে অবহেলা করবেন না কারণ আজকের ছোট বায়ার কাল বড় হয়ে যেতে পারে।
৮. ভাল ফ্যাক্টরির সাথে দীর্ঘ মেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করুন যা আপনার ব্যবসায় অনেক সাহায্য করবে।
৯. বিভিন্ন ট্রেড ফেয়ারে নিয়মিত অংশ নিন এবং পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সাথে নেটওয়ার্ক তৈরি করুন।
১০. প্রতিটি অর্ডার ডেলিভারি দেওয়ার পর গ্রাহকের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিন। তাদের পরামর্শ বা অভিযোগ আমলে নিন। সে অনুযায়ী সার্ভিসের মান উন্নত করুন।
উপসংহার
বায়িং হাউজ ব্যবসা হচ্ছে ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝে সংযোগ সৃষ্টি করা, বিনিময়ে কমিশনসহ বিভিন্ন ধরণের চার্য ধার্য করে আয় করা।
এই ধরনের ব্যবসা শুরু করার আগে আপনার বায়িং হাউজ ও গার্মেন্টস সেক্টরে কয়েক বছর কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করা উচিত।
কারণ গার্মেন্টস পণ্য, উৎপাদন ব্যবস্থা, শিপমেন্ট প্রক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে ভাল জ্ঞান না থাকলে আপনি বায়িং হাউজ চালাতে পারবেন না। আশা করি এই লেখা আপনার ব্যবসায়ীক ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ করবে।
