Home Business Guidelines ক্লাউড সার্ভিস বিজনেস কি? কিভাবে এই বিজনেস শুরু করবেন?

ক্লাউড সার্ভিস বিজনেস কি? কিভাবে এই বিজনেস শুরু করবেন?

ক্লাউড বিজনেস আইডিয়া

ক্লাউড সার্ভিস বিজনেস কি?

ক্লাউড সার্ভিস বিজনেস হলো এমন একটি ব্যবসায়িক মডেল যেখানে কোন কোম্পানি নিজস্ব বা ভাড়া করা ডেটা সেন্টারের সার্ভার, স্টোরেজ, সফটওয়্যার ও কম্পিউটিং ক্ষমতা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তি বা ব্যবসাকে সার্ভিস হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়।

এই সার্ভিসের কারণে নিজের সার্ভার ছাড়াই এখন যে কেউ তাদের ফাইল, সফটওয়্যার অর্থের বিনিময়ে অন্যের সার্ভারে রাখতে পারে।

একটা উদাহরণের মাধ্যমে ক্লাউড সার্ভিস বিজনেসটি সহজভাবে বলছি। ধরুন, আপনার একটি অনলাইন ব্যবসা আছে। আপনার ওয়েবসাইট হোস্ট করার জন্য একটি শক্তিশালী সার্ভার প্রয়োজন। এই অবস্থায় নিজের সার্ভার সেট করার জন্য বড় বিনিয়োগ করতে হতো ও সেই সার্ভার ম্যানেজ করার জন্য দক্ষ কর্মী নিয়োগ দিতে হতো। কিন্তু আপনি যদি ক্লাউড কোম্পানির সার্ভিস গ্রহণ করেন তাহলে আপনাকে আর এত বড় বিনিয়োগ করতে হবে না, আপনার সকল প্রয়োজন আপনি ক্লাউড সার্ভারেই করতে পারবেন।

ক্লাউড সার্ভিস বিজনেস এর মডেল কয়টি?

ক্লাউড সার্ভিস বিজনেস ব্যবসার মডেল প্রধানত ৩টি। আসুন জেনে নিই মডেলগুলো সম্পর্কে:

১. IaaS (Infrastructure as a Service)

এই মডেলে একটি কোম্পানি মূলত সার্ভার, স্টোরেজ, নেটওয়ার্কিং ভাড়া দিয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভার্চুয়াল সার্ভার, ক্লাউড স্টোরেজ, ডেটাবেজ ইনফ্রাসট্রাকচার, নেটওয়ার্কিং, কম্পিউটিং পাওয়ার ইত্যাদি।

২. PaaS (Platform as a Service)

এই মডেল হচ্ছে এমন যেখানে শুধু সার্ভার নয়, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর জন্য পুরো প্লাটফর্ম ভাড়া দেওয়া হয়। এর ফলে ডেভেলপারকে সার্ভার ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বেশি চিন্তা করতে হয় না। সাধারণত সফটওয়্যার ডেভেলপাররা এই মডেলগুলোর মূল গ্রাহক।

৩. SaaS (Software as a Service)

এটি সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে পরিচিত ক্লাউড বিজনেস মডেল। আমি আপনি সবাই কমবেশি এই ধরণের ক্লাউড সার্ভিস ব্যবহার করে থাকি। সাধারণ মানুষই এই সার্ভিসের মূল গ্রাহক। এই সার্ভিসগুলোর মধ্যে বিখ্যাত কিছু সার্ভিস হচ্ছে গুগল ওয়ার্কশিট, মাইক্রোসফট ৩৬৫, সেলসফোর্স, ক্যানভা, ড্রপবক্স ইত্যাদি। সাধারণ ব্যবহারকারীরা এসব প্লাটফর্ম থেকে সফটওয়্যার, অ্যাপসসহ বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিতে কিনে ব্যবহার করতে পারে।

আরও পড়ুন: ড্রপশিপিং কি? ড্রপশিপিং ব্যবসার পূর্ণ গাইডলাইন।

ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডার কীভাবে আয় করে?

একটি ক্লাউড কোম্পানি বিভিন্নভাবে আয় করতে পারে। যেমন:

১. সাবস্ক্রিপশন

গ্রাহকদের মাসিক/ বাৎসরিকভিত্তিতে সাবস্ক্রিপশন এর বিনিময়ে সার্ভিস ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। যেমন:.
বেসিক: ৫০০/মাসিক
এডভান্স: ১০০০/ মাসিক
বিজনেস ২০০০/ মাসিক

২. ব্যবহার অনুযায়ী পেমেন্ট

ব্যবহারকারীরা যতটুকু সার্ভিস নিবে তার উপর সার্ভিস চার্জ আরোপ করা হবে। যেমন কেউ যদি ১ জিবি স্টোরেজ ব্যবহার করে তার জন্য ১ জিবি সার্ভিস চার্য আরোপ করা হবে। ডেটা ট্রান্সফার হলে ব্যান্ডউইথ অনুযায়ী চার্জ নির্ধারণ করা হয়।

৩. এন্টারপ্রাইজ কন্ট্রাক্ট

নাম দেখেই বুঝতে পারছেন এই সার্ভিস হচ্ছে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য। কোম্পানিগুলো এই সার্ভিস থেকে নির্দিষ্ট চার্জের বিনিময়ে ক্লাউড ইনফ্রাসট্রাকচার ব্যবহার করতে পারে। আপনি যত বেশি কর্পোরেট কাস্টমার ধরতে পারবেন তত বেশি আপনার লাভ।

বাংলাদেশে কিভাবে একটি ক্লাউড সার্ভিস ব্যবসা শুরু করবেন?

আপনি যদি কোম্পানি গঠন করে এই ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে RJSC থেকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে। আর যদি একক মালিকানায় শুরু করতে চান তাহলে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করলেই হবে। প্রয়োজনে TIN ও BIN লাগতে পারে৷

আপনি যদি ক্লাউডের পাশাপাশি নিজস্ব কানেক্টিভিটি বা ISP ডাটা সেন্টার সার্ভিস দেন, তবে BTRCনএর ISP/Data Center সংক্রান্ত অনুমোদনের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

বেশিরভাগ এসএমই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান SaaS/IaaS Resell/Managed Cloud Model দিয়েই ক্লাউড ব্যবসা শুরু করে। আপনি অ্যামাজন, গুগল এর মতো বড় ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডার বা স্থানীয় কোনো ক্যাটাগরি-১ ডাটা সেন্টারের পার্টনারশিপ বা রিসেলার অ্যাকাউন্ট নিয়ে ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন।

ব্যবসা করতে গেলে অফিস তো লাগবেই। যেহেতু এই সার্ভিসগুলো দিনরাত ২৪ ঘন্টা দিতে হয় তাই কর্মীদের শিফটিং ডিউটি দিয়ে ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। ক্লায়েন্ট সার্ভিস যাতে ভালভাবে দেওয়া যায় তাই দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইটি এক্সপার্ট নিয়োগ দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ই-কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন- প্রকারভেদ, সুবিধা ও অসুবিধা, টিপস 

ক্লাউড সার্ভিস বিজনেস শুরু করতে কেমন খরচ হতে পারে?

ক্লাউড সার্ভিস বিজনেস শুরু করতে ২ ধরনের সার্ভিসের ওপর নির্ভর করে আনুমানিক বাজেট এবং মূল প্রক্রিয়া নির্ধারিত হয়। মূলত SaaS/Managed Cloud Reseller হিসেব ব্যবসা শুরু করতে প্রাথমিক বাজেট কম লাগে ও ঝুঁকিও কম। আর IaaS Provider হিসেবে ব্যবসা শুরু করতে অনেক বড় বিনিয়োগ লাগবে।

ব্যবসার সেটআপ, লাইসেন্স, মার্কেটিং, কর্মী নিয়োগ, সার্ভার ও ইনফ্রাসট্রাকচার, পেমেন্ট গেটওয়ে ও সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন ইত্যাদি সবকিছু মিলিয়ে ব্যবসার সাইজ অনুযায়ী ৫-৩০+ লাখ টাকা লাগবে।

প্রথম পর্যায়ে আপনি একটি ভালো ডেটা সেন্টার/ক্লাউড প্রোভাইডার থেকে Dedicated Server বা বড় VPS ভাড়া নিতে পারেন। তারপর ছোট ছোট VPS/Cloud packages তৈরি করে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতে পারেন। ছোট ও মাঝারি গ্রাহকদের জন্য ম্যানেজড ক্লাউড সার্ভিস দিতে পারেন। এভাবে নিয়মিত গ্রাহক তৈরি হওয়ার পর ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়িয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারেন।

বাংলাদেশে ক্লাউড সার্ভিস বিজনেস এর সম্ভাবনা কেমন?

বেশ কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের ক্লাউড বিজনেস এর সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছে। এর মধ্যে
6Wresearch এর মতে বাংলাদেশে ক্লাউড কম্পিউটিং মার্কেট সাইজ আনুমানিক ৪৯৪ মিলিয়ন ডলার যা ২০৩২ সালে ৮৬৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। Data Center Market Insights এক গবেষণা রিপোর্টে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এই মার্কেটের সাইজ ৯০৫ মিলিয়ন ডলার যা ২০৩৫ সালে ২.৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সুতরাং এসব ডেটা দেখে এই কথা বলাই যায় বাংলাদেশে ক্লাউড সার্ভিস বিজনেস এর অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version